kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

দিনে ও রাতে যথাযথ নিয়মে নামাজ

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দিনে ও রাতে যথাযথ নিয়মে নামাজ

১১৪. তুমি নামাজ কায়েম করো (যথাযথভাবে পড়ো) দিনের দুই প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথমাংশে। সত্কর্ম অবশ্যই অসত্কর্ম মিটিয়ে দেয়।

যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য একটি উপদেশ। [সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৪ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের দুটি আয়াতে মুসলমানদের নিজেদের বিশ্বাস ও আদর্শের ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে নামাজ ও আল্লাহর জিকিরের ব্যাপারে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। নামাজ আল্লাহর সঙ্গে বান্দার আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করে। অশান্ত হৃদয় প্রশান্ত করে। এর মাধ্যমে মানুষ হৃদয়ের কলুষতা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো নামাজ। ইমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ। মুসলমানদের প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হয়। এ আয়াতে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নামাজের সময়ের দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। এখানে দিনের দুই প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথমাংশে নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে, দিনের দুই প্রান্তের নামাজ বলতে ফজর ও মাগরিবের নামাজকে বোঝানো হয়েছে। আর রাতের প্রথম অংশের নামাজ বলতে এশার নামাজকে বোঝানো হয়েছে। (ইবনে কাসির)

আল্লামা ওহবা জুহাইলি (রহ.) লিখেছেন, আলোচ্য আয়াতে দিনের দুই প্রান্তের নামাজ বলতে ফজর, জোহর ও আসরের নামাজকে বোঝানো হয়েছে। আর রাতের প্রথম অংশের নামাজ বলতে মাগরিব ও এশার নামাজকে বোঝানো হয়েছে। যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, ‘তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো সন্ধ্যায় ও প্রভাতে এবং অপরাহ্নে ও জোহরের সময়। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সব প্রশংসা তো তাঁরই। ’ (সুরা : রুম, আয়াত : ১৭-১৮)

হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.) লিখেছেন, পবিত্র কোরআনের উল্লিখিত আয়াত থেকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান দেওয়ার হেকমত, হাকিকত ও দার্শনিক ব্যাখ্যা জানা যায়। এ আয়াত থেকে স্পষ্ট জানা যায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য নির্ধারিত এই সময়গুলোতে আসমান ও জমিনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নতুন সময়ে নতুন করে আল্লাহর তাসবিহ ও প্রশংসাগীতি উপস্থাপনের সুযোগ মেলে। এই সময়গুলোতে পৃথিবীতে যে পরিবর্তন হয়, সেটা মানুষের দেহ-মনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। যখন রাতের নিকষ কালো অন্ধকার ভেদ করে প্রভাতের আলো ফোটে তখন আল্লাহর প্রিয় বান্দা ফজরের নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে প্রভুর প্রশংসা করে। দুপুরের দিকে মানবদেহে তন্দ্রাভাব জাগ্রত হয়। এটি মানুষের স্মৃতি লোপ করে। মানুষকে বিস্মৃতিপরায়ণ করে তোলে। তাই এ সময় জোহরের নামাজের বিধান দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ তাঁর স্রষ্টার স্মরণে লিপ্ত হয়। আসরের সময় তেজদীপ্ত সূর্যের প্রখরতা ও ক্ষিপ্রতা কমে যায়। এটি সব কিছুর ক্ষয় ও লয়ের ইঙ্গিত দেয়। ইঙ্গিত দেয় এ কথার দিকেও যে মানুষের সব যোগ্যতা ও পূর্ণতা এভাবেই ধীরে ধীরে ধ্বংস ও বিনাশের দিকে এগিয়ে চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর প্রিয় বান্দা আসরের নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কুদরতি পায়ে সেজদাবনত হয়ে যায়।

একটি নতুন দিন শুরু হয় নতুন স্বপ্ন নিয়ে। সন্ধ্যায় সে স্বপ্নময় দিনের সমাপ্তি ঘটে। সমাপ্তি ঘটে দিনের আলোরও। মানুষ আবারও অন্ধকারে নিপতিত হয়। তাই এ সময় মাগরিবের নামাজের বিধান দেওয়া হয়েছে, যাতে দুনিয়ার জীবনে ‘দীর্ঘ আশা’ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

এশার সময় পৃথিবী নিকষ কালো অন্ধকারে ছেয়ে যায়। অন্ধকার হাজারো বিপদাপদের প্রতীক। দুনিয়া ও আখিরাতের সব ধরনের বিপদাপদ থেকে আশুমুক্তির জন্য এশার নামাজের বিধান দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ ইবাদতের বরকতে আপদ থেকে রক্ষা পায়। [আহকামে ইসলাম আকল কি নজর মে, আশরাফ আলী থানভি, পৃষ্ঠা : ৭২-৭৬ (সংক্ষেপিত)]

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য