kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘জনগণের মতামতে ইসি গঠিত হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘জনগণের মতামতে ইসি গঠিত হবে’

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফাহিমা নাজনীন মুন্নী বলেছেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। তারা আশা করে, জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।

এটাই চায় দেশের জনগণ। কারণ নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই সরকার সর্বজন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনার গঠন করবে, এটাই আমরা আশা করি। এর বাইরে কোনো উদ্যোগ নিলে দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না। ’ মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পার্লামেন্টকে জনপ্রতিনিধিত্বশীল করতে অবিলম্বে একটি নির্বাচন আমরা চেয়েছি। আমরা কখনো বলিনি, মধ্যবর্তী নির্বাচন। কারণ ওই নির্বাচনই তো মানি না। এখন যেটা হতে হবে তা হলো নতুন একটি নির্বাচন। সুতরাং নতুন নির্বাচন দিতে হলে অবশ্যই নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারও দরকার। নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি গঠনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ’ রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ২৪ ঘণ্টা অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

নামিদা জাফরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশীষ সৈকত।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে হঠাৎ রাজনীতির মাঠ সরগরম হতে শুরু করেছে। বর্তমান কমিশনের মেয়াদ পাঁচ মাস বাকি থাকতে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চায় শক্তিশালী নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের পাশাপাশি দ্রুত জাতীয় নির্বাচন। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে মুখ না খুললেও নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপির দাবির সঙ্গে একমত। তবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ মধ্যবর্তী কিংবা দ্রুত নির্বাচন কোনোটি নিয়ে এখনো কিছু ভাবছে না। তাদের সাফ কথা, নির্বাচন যথাসময়েই হবে। সে জন্য বিএনপিকে আরো আড়াই বছর অপেক্ষা করতে হবে। আর নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে গেলবারের ফর্মুলায়, সার্চ কমিটির মাধ্যমেই। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে ফাহিমা নাজনীন মুন্নী বলেন, আপনি যে সার্চ কমিটির কথা বলছেন, তা গতবারও দেশের মানুষ দেখেছে। সার্চ কমিটি করে কিন্তু খুব একটা কিছু হয় না। কারণ গতবার সার্চ কমিটির নামে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সার্চ কমিটি করেও পরে দেখা গেল সরকার তার পূর্ব মনোনীত লোকদেরই নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন এবারও যদি সার্চ কমিটি করা হয়, তবে বুঝতে হবে, আগের মতোই সব ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিন্তু সম্প্রতি একটা বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি কিন্তু বলেছেন, মধ্যবর্তী নয়, নিরপেক্ষ শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলেও নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।

আলোচনার এ পর্যায়ে সাংবাদিক আশীষ সৈকত বলেন, এ সরকার তো এ সরকারের পছন্দমতোই নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারে। বিএনপি যখন বিচারকের বয়স বাড়িয়ে মেয়াদ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার মনোনয়ন দেয় তখনো তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি গতবার নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য নির্বাচন বর্জন করেছিল। এবার অবশ্য তাদের সুর পাল্টেছে। তারা এখন বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলেও নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হতে হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা তো এরই মধ্যে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক কিংবা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলছে, স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারা বলছে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। অতীতে সার্চ কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছ-গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবার মতামতের আলোকে তা গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও একইভাবে গঠন করা হবে। তাদের বক্তব্য, আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ই হবে। সরকারি দল আরো মনে করে, দ্রুত নির্বাচনের দাবি না করে বিএনপির উচিত যথাসময়ে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া।

 


মন্তব্য