kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

ইসলামের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজনের সুযোগ নেই

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ইসলামের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজনের সুযোগ নেই

১১৩. যারা সীমা লঙ্ঘন করেছে, তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না। অন্যথায় (জাহান্নামের) আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।

এ অবস্থায় আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক থাকবে না। আর তোমাদের সাহায্যও করা হবে না। [সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৩ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : গভীরভাবে খেয়াল করলে দেখা যায়, আলোচ্য আয়াতের মর্ম খুবই অর্থবহ ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। কাজী বায়জাবি (রহ.) লিখেছেন, পাপাচার ও অনাচারকে নিষিদ্ধ করার জন্য এ আয়াতে এমন কঠোর ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে, যার চেয়ে অধিকতর ভাষা কল্পনা করা যায় না। কেননা এ আয়াতে পাপাচারীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব স্থাপন করতে নিষেধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হতে বারণ করা হয়েছে। তাদের কার্যকলাপের প্রতি মৌনতা প্রদর্শন করতে নিষেধ করা হয়েছে। (তাফসিরে বায়জাবি)

আল্লামা ওহবা জুহাইলি (রহ.) লিখেছেন, এ আয়াতে অবিশ্বাসী ও বিদআত কাজে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (তাফসিরে মুনির : ১২/১৬৮)

ইসলামের নামে নতুক কিছু করা বা বিদআত কাজে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে বিদআত কাজে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা, চলাফেরা ও বন্ধুত্ব স্থাপন করা যাবে না।

বিদআতের বিরুদ্ধে মহানবী (সা.)-এর হুঁশিয়ারি

বিদআত শব্দটি আরবি। এর অর্থ হলো, আগের কোনো দৃষ্টান্ত ও নমুনা ছাড়াই কোনো কিছু সৃষ্টি করা, উদ্ভাবন করা। ইসলামের পরিভাষায় বিদআত বলা হয়, দ্বীনের মধ্যে এমন বিষয় সৃষ্টি করা, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে ছিল না। বরং পরে তা উদ্ভাবন করা হয়েছে।

বিদআতের বিরুদ্ধে মহানবী (সা.) অত্যন্ত কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব। আর সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো, (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত সব কিছুই বিদআত। প্রতিটি বিদআত ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। ’ (সহিহ মুসলিম শরিফ, হাদিস : ১৫৩৫; নাসাঈ, হাদিস : ১৫৬০)

বিদআত আবিষ্কারকারী যত বড় ধর্মীয় পণ্ডিতই হোক না কেন, ইসলামে তা গ্রহণযোগ্য নয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন বিষয় আবিষ্কার করে, যা তার অন্তর্গত নয়, তাহলে তা প্রত্যাখ্যত হবে। ’ (বুখারি ও মুসলিম)

বিদআত থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম উপায় হলো, মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের আমার ও আমার পরবর্তী সঠিক পথপ্রাপ্ত খলিফাদের অনুসরণের তাগিদ দিচ্ছি। তোমরা একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকো। (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয় সম্পর্কে সাবধান হও। কেননা প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই হচ্ছে পথভ্রষ্টতা। ’ (আহমাদ, তিরমিজি)

বিদআত কাজে জড়িত ব্যক্তি কেয়ামতের দিন চরমভাবে লাঞ্ছিত হবে। হজরত সাহাল বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে (যখন আমি হাউসে কাউসারের পানি পান করাব তখন) অবশ্যই আমার কাছে এমন কিছু লোক আসবে, যাদের আমি চিনতে পারব এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। তারপর তাদের ও আমার মধ্যে আড়াল করে দেওয়া হবে। সে সময় আমি (ফেরেশতাদের) বলব, এরা তো আমার উম্মত (এদের কেন সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে)। তখন আমাকে বলা হবে, আপনি জানেন না, এরা আপনার পরে কিসব নতুন বিষয় আবিষ্কার করেছে। তারপর আমি বলব, যারা আমার পর আমার দ্বীনের পরিবর্তন সাধন করেছে, তারা দূর হোক, তারা দূর হোক। ’ (বুখারি শরিফ, হাদিস : ৬৬৪৩)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 


মন্তব্য