kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘রামপাল নিয়ে রাজনীতির সুযোগ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘রামপাল নিয়ে রাজনীতির সুযোগ নেই’

ইউনেসকো বিদ্যুকেন্দ্র বাতিল করতে বলেনি। তারা শুধু সুন্দরবনের এই এলাকায় প্রকল্পটি না করার জন্য বলেছে।

এখন এটা নিয়ে সরকারের রাজনীতির কোনো সুযোগ নেই। এমন মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, জনগণ এখন জীবন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এখন যদি আগামী দিনে পরিবেশ বিপর্যয়ের মতো কোনো প্রকল্প সরকার গ্রহণ করে, তবে তা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো নিউজ অ্যান্ড ভিউজ অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম এমপি।

আলোচনার শুরুতে সঞ্চালক বলেন, পরিবেশবাদীরা রামপাল বিদ্যুৎ নিয়ে অনেক কথা বলছেন। সব শেষে ইউনেসকো থেকেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে তারা চায়, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিক। কিন্তু সরকার কোনোভাবেই তা করছে না। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি এ সরকারকে সহ্য করতে পারে না বলে প্রতিটি কাজেই বিরোধিতা করছে। আসলে এ প্রকল্পে যে সেভাবে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না, তা সরকারের পক্ষ থেকে আগেও বলা হয়েছে। ইউনেসকো রামপাল ও নদীর বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়েছে। রামপালে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সংস্থাটি যে শঙ্কা প্রকাশ করেছে, তা সঠিক নয়। এ ছাড়া ইউনেসকো রামপাল নিয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এর পরও তাদের প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে টেকনিক্যাল বিষয় জানিয়ে চিঠির জবাব দেব। টেকনিক্যাল বিষয়গুলো জানলে আশা করি, শঙ্কা থেকে সরে আসবে ইউনেসকো। ’

তাজুল ইসলাম আরো বলেন, সরকার জনগণকে অন্ধকারে রাখতে চায় না। তাই পরিবেশের একটু ক্ষতি হলেও ভালোর জন্য তা মানতেই হবে। তিনি বলেন, ‘মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে এমনিতে আমরা অনেক দেরি করেছি। দেশের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী বছরে এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। কিন্তু অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়ের ফলে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হলে রামপালের মতো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকেই যেতে হবে। কারণ এ মুহূর্তে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়। ’

আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর গত ৩ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে দল-মত-নির্বিশেষে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি বিএনপি। এ বিষয়ে প্রগতিশীল কোনো দলও সেভাবে সাড়া দেয়নি। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হোক, তা চায় না সরকার। তাই খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ায় সরকার বিপাকে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার থাকবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া। কিন্তু তিনি তা করেননি।

খালেদা জিয়াই জাতীয় সংকটকালে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর জাতীয় ঐক্যের ডাক জনগণ মেনেও নিয়েছে। দু-একটি ছাড়া বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের নেতারা তা মেনে নিয়েছেন।


মন্তব্য