kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

সমর দাস

সুরকার ও সংগীত পরিচালক সমর দাসের জন্ম ১৯২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে। বাবা জিতেন্দ্রনাথ দাস, মা কমলিনী দাস।

পারিবারিকভাবেই সংগীতের আবহে তাঁর বেড়ে ওঠা। প্রথমে বাবার কাছে শেখেন বেহালা, পরে নর্থ ফিল্ড নামের এক মিশনারির কাছে শেখেন পিয়ানো, গিটার ও বাঁশি। তিনি ১৯৪৫ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিও ঢাকা কেন্দ্রে বাঁশিশিল্পী হিসেবে যোগদান করেন এবং কলকাতা বেতারসহ কলকাতা এইচএমভি গ্রামোফোন কম্পানিতেও যন্ত্রশিল্পী হিসেবে কাজ করেন।

সমর দাস ১৯৫৩ সালে ঢাকা বেতারে এবং ১৯৬১ সালে তত্কালীন রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রে রেডিওর নিজস্ব শিল্পী হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি কিছুকাল করাচিতে পিআইএ সাংস্কৃতিক দলের সংগীত বিভাগের প্রধান ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানে চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে উঠলে তিনি সংগীত পরিচালক হিসেবে এর সঙ্গে যুক্ত হন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে প্রধান সংগীত সংগঠক ও সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা ছিল সমর দাসের সংগীতে বহুমুখী পারদর্শিতা অর্জনের এক উজ্জ্বল ভূমিকা। সংগীত পরিচালনায় সমর দাসের কৃতিত্ব স্মরণীয়। তিনি ‘মুখ ও মুখোশ’, ‘লটারী’, ‘মাটির পাহাড়’, ‘আসিয়া’, ‘গৌরী’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘রাজা এলো শহরে’ প্রভৃতি ছবির সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে কলকাতার এইচএমভি কম্পানি ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ নামে একটি লংপ্লে রেকর্ড প্রকাশ করে, যাতে রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ২৬টি গান। সমর দাস ছিলেন এ রেকর্ডের সংগীত পরিচালক। তিনি ১৯৭২ সালে বিবিসিতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের অর্কেস্ট্রেশন রেকর্ড করে আনেন। নবগঠিত বাংলাদেশ বেতারের সিগনেচার টিউন বা সূচনা সংগীত সমর দাসের কম্পোজ করা। ১৯৯৩ সালে ঢাকায় সাফ গেমসের সূচনা ও সমাপনী সংগীত তিনি করেন।

শিল্পকলা একাডেমিসহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমর দাস যুক্ত ছিলেন। শিল্পীদলের সদস্য ও দলনেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। তাঁর সৃষ্ট সুরে বহু গান জনপ্রিয় হয়। সংগীতে অবদানের জন্য সমর দাস ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি পরলোকগমন করেন।


মন্তব্য