kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করা যাবে না

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করা যাবে না

১১৩. যারা সীমা লঙ্ঘন করেছে, তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না। অন্যথায় (জাহান্নামের) আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।

এ অবস্থায় আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক থাকবে না। আর তোমাদের সাহায্যও করা হবে না। [সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৩ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে ধর্মীয় বিধানের ওপর অবিচল থাকতে বলা হয়েছিল। আল্লাহর সীমারেখা অতিক্রম করতে নিষেধ করা হয়েছিল। এ বক্তব্যের পূর্ণতা প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য আয়াতে। এখানে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থায়ই ইসলামের সীমারেখা অতিক্রম করে ইসলামবিরোধী কাজ করা যাবে না। ইসলামবিরোধীদের রীতিনীতি, আদর্শ ও চিন্তাধারা অনুসরণ করা যাবে না। নামে-বেনামে ধর্মের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করা যাবে না। এ অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। যে বিষয়ে যে বিধান দেওয়া হয়েছে, যে সীমারেখা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তা অতিক্রম করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পরিপূর্ণ ধর্ম। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আজ (বিদায় হজের দিন) আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করলাম। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩)

তাই পরিপূর্ণ ধর্ম ইসলামে নতুন কিছু সংযোজন করার সুযোগ নেই। ইসলামের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজন করা হলে তাকে বিদআত বলা হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে বিদআত অত্যন্ত ঘৃণিত ও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বিষয়। কেননা বিদআত সংঘটিত করার মাধ্যমে আল্লাহর উপরোক্ত বাণীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়। কারণ বিদআত কাজে জড়িত ব্যক্তি যখন একটি নতুন বিদআত প্রচলন করে তখন সে সেটিকে দ্বীনের অংশ হিসেবে বিশ্বাস করে। এর অর্থ হচ্ছে, দ্বীন আগে থেকেই পূর্ণাঙ্গ নয়! তাতে সংযোজনের সুযোগ আছে! তাই বিদআতের প্রচলন ঘটিয়ে ইসলামকে অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণের চেষ্টা করা হয়। বিদআত মানুষকে সুন্নত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। কেননা সাধারণত দেখা যায়, যারা বিদআতে লিপ্ত হয় তারা সুন্নত থেকে দূরে সরে যায়। বিদআতের সবচেয়ে ভয়াবহ ও ক্ষতিকর দিক হলো, বিদআত কুফরির রাস্তা প্রশস্ত করে। বিদআত আবিষ্কারকারী নিজেকে শরিয়তের বিধান রচনাকারী হিসেবে উপস্থাপন করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কারো জন্য শরিয়তের বিধান রচনার অধিকার নেই। বিদআত এতই জঘন্য পাপ যে শয়তান কবিরা গুনাহ দ্বারা যতটুকু খুশি হয়, বিদআতের দ্বারা এর চেয়ে বহুগুণ বেশি খুশি হয়। কেননা অন্যান্য পাপের ক্ষেত্রে পাপী ব্যক্তি পাপকে পাপ মনে করে পাপ করে। ফলে একসময় সে তাওবা করে নেয়। পক্ষান্তরে বিদআতে জড়িত ব্যক্তি বিদআতকে দ্বীনের অংশ জ্ঞান করে। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বিদআত করে। ফলে সে কখনো তাওবা করার প্রয়োজন অনুভব করে না। তার তাওবা করার সুযোগও হয় না। মহানবী (সা.) অনেক আগেই তাঁর উম্মতকে বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করে গেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা (দ্বীনের) নবপ্রচলিত বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক থেকো। কেননা (দ্বীনের মধ্যে) প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৯৯১; তিরমিজি, হাদিস : ২৬৭৬)

তাই মহানবী (সা.)-এর প্রকৃত অনুসারী তারাই, যারা তাঁর সুন্নতকে আঁকড়ে ধরে এবং বিদআত থেকে বেঁচে থাকে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য