kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

আমলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আমলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে

১১২. সুতরাং তোমাকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেভাবেই (সরল পথে) স্থির থেকো। তোমার সঙ্গে যারা তাওবা করেছে (ইমান এনেছে) তারাও যেন (সরল পথে) স্থির থাকে।

আর (কোনো বিষয়ে) সীমা লঙ্ঘন করবে না। তোমরা যা করছ, অবশ্যই তিনি এসব বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা (দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন)। [সুরা : হুদ, আয়াত : ১১২ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে ইমান ও আমলের ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের অসংখ্য স্থানে এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নিজের ইমান ও বিশ্বাসের ওপর স্থির না থাকলে আল্লাহর কাছে এর মূল্য নেই। তাই ইমান ও আমলের ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দিয়ে অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তাঁরই পথ দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করো এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। ’ (সুরা : হা-মিম সাজদা, আয়াত : ৬)

নিজের বিশ্বাস ও কর্মে স্থির থাকলে দুনিয়ায়ই এর সুফল পাওয়া যায়। এমন বিশ্বাসী মানুষের কোনো ভয় নেই। চিন্তা নেই। পবিত্র কোরআনে এসেছে : ‘যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, তারপর (নিজের বিশ্বাস ও আমলে) অবিচল থাকে, তাদের কাছে (মৃত্যুর সময় রহমতের) ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না। তোমরা আনন্দিত হও সে জান্নাতের জন্য, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছে। ’ (সুরা : হা-মিম সাজদা, আয়াত : ৩০)

ভালো কাজের চূড়ান্ত প্রতিদান পাওয়া যাবে পরকালে। কিন্তু এর কিছু কিছু প্রতিদান মানুষ দুনিয়ায়ই ভোগ করে। আল্লাহ বলেন, ‘তারা যদি সত্যপথে প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাদের আমি প্রচুর ভারি বর্ষণের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করতাম। ’ (সুরা : জিন, আয়াত : ১৬)

হাদিসের আলোকে ধারাবাহিক আমলের গুরুত্ব

হজরত সুফিয়ান বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছি, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আমাকে ইসলাম-বিষয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিন, যে বিষয়ে আপনি ছাড়া অন্য কাউকে আমি জিজ্ঞেস করব না। ’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি বলো, আমি ইমান এনেছি আল্লাহর ওপর। তারপর (ইমান ও আমলের ওপর) অবিচল থেকো। ’ (মুসলিম শরিফ)

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সঠিক পথে পরিচালিত হও এবং মানুষকে সুসংবাদ দাও। আর জেনে রেখো! মানুষের আমল তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবে না! (বরং মানুষ আল্লাহর রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করবে) নিশ্চয়ই ধারাবাহিক আমলই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়, যদিও তা অল্প পরিমাণ হয়। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৬৪)

হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুল (সা.) আসরের পর আমার গৃহে আগমন করেছেন। তারপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এটি কোন নামাজ? এর আগে তো কখনোই আপনি এ সময়ে নামাজ আদায় করেননি!’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘জোহরের পর বনি তামিম গোত্রের একদল প্রতিনিধি আগমন করেছিল, ফলে আমি জোহরের পরের দুই রাকাত (সুন্নত) নামাজ আদায় করতে পারিনি। (তাই আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আসরের পর তা আদায় করলাম)। ’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১২৭৭)

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘ধারাবাহিক আমল, যদিও তা অল্প হয়। ’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ৪২৪০)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য