kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

ধর্মীয় বিধানে অবিচল থাকার নির্দেশ

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ধর্মীয় বিধানে অবিচল থাকার নির্দেশ

১১২. সুতরাং তোমাকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেভাবেই (সরল পথে) স্থির থেকো। তোমার সঙ্গে যারা তাওবা করেছে (ইমান এনেছে), তারাও যেন (সরল পথে) স্থির থাকে।

আর (কোনো বিষয়ে) সীমা লঙ্ঘন করবে না। তোমরা যা করছ, অবশ্যই তিনি এসব বিষয়ে সম্যকদ্রষ্টা (দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন)। [সুরা : হুদ, আয়াত : ১১২ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, সবাই নিজ নিজ কৃতকর্মের প্রতিফল পাবে। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইমানদারদের নিজেদের বিশ্বাসের ওপর স্থির ও অবিচল থাকতে বলেছেন। এর পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করতে নিষেধ করেছেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সুরা হুদ আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে ফেলেছে। ’ আলোচ্য আয়াতের কারণেই মহানবী (সা.) এ মন্তব্য করেছিলেন। এখানে মহানবী (সা.) ও ইমানদারদের স্থির ও অবিচল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে, খোদাদ্রোহী শক্তির প্ররোচনায় নিজের আদর্শের ব্যাপারে আপসকামী হওয়া যাবে না। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমালঙ্ঘন বা বাড়াবাড়িও করা যাবে না। মধ্য পন্থা ও ভারসাম্যমূলক অবস্থান হচ্ছে ইসলামের শিক্ষা।

ইমানের ওপর স্থিরতা বোঝাতে এ আয়াতে ‘ইসতিকামাত’ শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। ইসতিকামাতের অর্থ হলো, কোনো দিকে সামান্য পরিমাণ না ঝুঁকে সোজা দাঁড়িয়ে থাকা। বাস্তবে এটি সহজ কাজ নয়। কোনো প্রাণীর পক্ষে এমন সোজা হয়ে সব সময় দাঁড়িয়ে থাকা খুব কঠিন কাজ।

ইসতিকামাত শব্দটি ছোট হলেও এর অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। এর মাধ্যমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সব পরিস্থিতিতে ধর্মীয় বিধান পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব পরিস্থিতিতে সোজা পথে চলার অর্থ বিশ্বাস, আমল, লেনদেন, সামাজিকতা, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে অবস্থান করা। তাঁরই নির্দেশিত সরল ও সঠিক পথে চলা। এসব ক্ষেত্রে কোনো কাজে সামান্যতম গড়িমসি করা বা এদিক-ওদিক ঝুঁকে পড়া স্থিরতা পরিপন্থী। দুনিয়ায় দৃশ্যমান সব বিভ্রান্তি ও পাপাচারের জন্ম হয়েছে ইসতিকামাত থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ইসতিকামাত না থাকলে মানুষ শিরক, বিদআত, গোমরাহি, পাপাচার ও ইমানবিধ্বংসী কাজে লিপ্ত হয়। তাই খাঁটি ইমানদার হওয়ার জন্য স্থির বিশ্বাসের প্রয়োজন। ইসলাম অনুষ্ঠানসর্বস্ব ধর্ম নয়। এ ধর্মে বিশেষ অঙ্গভঙ্গি, অঙ্গ সঞ্চালন, তীর্থ ভ্রমণ কিংবা চিত্তবিনোদনমূলক কোনো কিছু ইবাদত নয়। মানবজীবনের সব ক্ষেত্রেই ইসলামের বিধান ও নির্দেশনা আছে। সেসব বিধান উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন করলেই ইমানের দাবি পূর্ণ হয় না। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো, আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৮)

ইসলাম ধর্ম মতে, পৃথিবীতে সব মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা আছে। তাই বলে এক ধর্মের কিছু অংশ, অন্য ধর্মের কিছু অংশ পালন করার সুযোগ নেই। কেননা সে ক্ষেত্রে ধর্মের স্বকীয়তা বিনষ্ট হয়। হীন স্বার্থে ধর্ম ব্যবহৃত হয়। ধর্মীয় শিথিলতা চলে আসে। ক্রমান্বয়ে ধর্মের মূল চেতনা হারিয়ে যায়। বনি ইসরাইলের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস করো, আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করো? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে, তাদের একমাত্র প্রতিফল পার্থিব জীবনে হীনতা। কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৮৫)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য