kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

প্রবোধচন্দ্র সেন

 

ছন্দবিশারদ ও রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ প্রবোধচন্দ্রের জন্ম ১৮৮৭ সালের ২৭ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চুলতা গ্রামে। তাঁর বাবা হরদাস সেন, মা স্বর্ণময়ী সেন।

তাঁর স্কুলজীবন কেটেছে কুমিল্লা শহরে। সিলেট মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে ১৯২৪ সালে প্রবোধচন্দ্র ইতিহাসে অনার্সসহ বিএ এবং প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৩২ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত খুলনার দৌলতপুর কলেজের ইতিহাস ও বাংলার অধ্যাপক ছিলেন। পরে রবীন্দ্রনাথের ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। এখানে বিদ্যাভবনের রবীন্দ্র-অধ্যাপক ও রবীন্দ্রভবনের অধ্যক্ষ ছিলেন ১৯৪১ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত। এরপর বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক (১৯৫১-১৯৬২) এবং পুনর্গঠিত রবীন্দ্রভবনের রবীন্দ্র-অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ (১৯৬২-১৯৬৫) ছিলেন। অবসর নেওয়ার পর বিশ্বভারতীর ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত।

বাংলা ছন্দের নিপুণ বিশ্লেষক প্রবোধচন্দ্র সেন ছন্দের ইতিহাস রচনা, রবীন্দ্রনাথ ও অন্য প্রধান কবিদের ছন্দ বিশ্লেষণ, অন্য ছান্দসিকদের ছন্দ আলোচনার বিচার, বাংলা ছন্দের ব্যাকরণ ও পরিভাষা ইত্যাদি তৈরিতে তিনি অসাধারণ পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিয়েছেন। এ ছাড়া ইতিহাস, শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্য বিষয়ের আলোচনায়ও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত বইগুলো বাংলা ছন্দে রবীন্দ্রনাথের দান, ছন্দগুরু রবীন্দ্রনাথ, ছন্দ পরিক্রমা, ছন্দ-জিজ্ঞাসা, বাংলা ছন্দ-সমীক্ষা, বাংলা ছন্দ-চিন্তার ক্রমবিকাশ, ছন্দ-সোপান, বাংলা ছন্দের রূপকার রবীন্দ্রনাথ, নতুন ছন্দ পরিক্রমা ইত্যাদি। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি রবীন্দ্রনাথের ‘ছন্দ’ গ্রন্থের সম্পাদনা। তাঁর লিখিত ইতিহাস ও সাহিত্যের সমালোচনামূলক গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ধর্মবিজয়ী অশোক, ভারতবর্ষের জাতীয় সংগীত, ভারত-পথিক রবীন্দ্রনাথ, রামায়ণ ও ভারতসংস্কৃতি, ভারতাত্মা কবি কালিদাস। প্রবোধচন্দ্র কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার, ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট ও এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে মরণোত্তর রবীন্দ্রশতবার্ষিকী স্মারক পদক (১৯৮৭)। ১৯৮৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলা ছন্দের এই পণ্ডিত শান্তিনিকেতনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য