kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র করানের আলো

সবাইকে নিজ নিজ কর্মফল ভোগ করতে হবে

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সবাইকে নিজ নিজ কর্মফল ভোগ করতে হবে

১১১. যখন সময় আসবে তখন অবশ্যই তোমার প্রতিপালক তাদের সবাইকে তার কর্মফল পুরোপুরিভাবে দেবেন। তারা যা করে, নিশ্চয়ই তিনি সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।

(সুরা : হুদ, আয়াত : ১১১)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, আল্লাহ তাআলা পাপের চূড়ান্ত শাস্তি পরকালের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। আল্লাহর বিধানে পুরস্কার ও শাস্তি—এ দুটি বিষয়ই রাখা হয়েছে। মানুষের কৃতকর্মের ভিত্তিতে পুরস্কার ও শাস্তি নির্ধারিত হবে। মহান আল্লাহর কাছে মানুষের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব কাজই স্পষ্ট। কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন নেই। মানুষের মনের সুপ্ত অভিপ্রায় সম্পর্কেও তিনি অবগত। আল্লাহ বলেন, ‘চোখের অপব্যবহার ও অন্তরে যা গোপন আছে, সে সম্পর্কেও তিনি অবহিত। ’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ১৯)

সব কিছুর ওপর আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ আছে। কাজেই শাস্তি ও পুরস্কার দেওয়ার ব্যাপারে তিনিই পূর্ণাঙ্গ ন্যায় ও সমতা রক্ষা করতে সক্ষম। তবে চূড়ান্তভাবে এ প্রতিদান দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে পরকালে। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইহজগতেই প্রতিদানের কিছু অংশ দিয়ে থাকেন। দিয়ে থাকেন মানুষকে সতর্ক করার জন্য, যাতে তারা নিজেকে শুধরে নিতে পারে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে পারে।

প্রতিটি ক্রিয়ার যেমন প্রতিক্রিয়া আছে, তেমনি প্রতিটি কাজেরও প্রতিফল কাছে। কোনো কাজই বৃথা যায় না। ভালো কাজের যেমন পুরস্কার আছে, তেমনি মন্দ কাজের শাস্তিও অনিবার্য। এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিদানের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিচার অত্যন্ত ন্যায়সংগত। তিনি কারো ওপর জুলুম করেন না। কারো প্রতিদানে কমবেশিও করেন না। আলোচ্য আয়াতে এ বিষয়ের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মের জন্য দায়ী থাকবে। কেউ অন্যের (পাপের) বোঝা বহন করবে না। তারপর তোমাদের পালনকর্তার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি সেসব বিষয়ে বলে দেবেন, যা নিয়ে তোমরা মতবিরোধ করতে। ’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬৪)

আলোচ্য আয়াতে এ কথাও বলে দেওয়া হয়েছে যে কেয়ামতের আদালতের আইনকানুন দুনিয়ার আদালতের মতো নয়। দুনিয়ায় কেউ অপরাধ করলে তার দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপানো যায়। কিন্তু আল্লাহর আদালতে এর কোনো সুযোগ নেই। সেখানে একজনের পাপের জন্য অন্যকে দায়ী করা হবে না। দুনিয়ায় যে যেমন কাজ করবে, পরকালে সে তার কাজ অনুযায়ী ফল ভোগ করবে। ভালো কাজ করলে ভালো প্রতিদান পাবে। আর মন্দ কাজ করলে ফলও পাবে অনুরূপ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে, সে তার শাস্তি পাবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া নিজের কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না। আর নারী-পুরুষের মধ্য থেকে যারাই সত্কর্ম করে এবং বিশ্বাসী হয়, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। অণু পরিমাণও তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত :  ১২৩-১২৪)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে : ‘মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। সুতরাং যে ক্ষমা করে ও আপস করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে আছে। নিশ্চয়ই তিনি অত্যাচারীদের পছন্দ করেন না। ’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ৪০)

কোরআনের অন্য স্থানে আল্লাহ বলেন, ‘কেউ অণু পরিমাণ সত্কর্ম করলে তা সে দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অপকর্ম করলে তা-ও দেখতে পাবে। ’ (সুরা : জিলজাল, আয়াত : ৭-৮)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 


মন্তব্য