kalerkantho


‘আগে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে ছাড়তে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘আগে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে ছাড়তে হবে’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ায় সরকার বিপাকে পড়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির সাবেক চিফ হুইপ ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, ‘এ সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপির জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়াকেও ভালো চোখে দেখছে না। বিএনপি এগিয়ে আসুক—এটা তারা চায় না।

আর এ জন্যই আমার মেনন ভাই-ইনু ভাইরা এই জাতীয় ঐক্য নিয়ে যেভাবে কথাবার্তা বলছেন, তা আর কারো মুখে শোনা যায় না। ’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়নি। বিএনপি চায় দেশের জনগণ সব সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গিয়ে দেশের জন্য কাজ করুক। এসব কাজে বিএনপি জনগণের পক্ষে থাকবে। প্রয়োজনে সরকারের পাশে থেকে বিএনপি সন্ত্রাস প্রতিরোধ করবে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের নমুনা নয়। সরকারকে  কোনো এক সময় পস্তাতে হবে। ’ রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো মুক্তবাকে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক রাহুল রাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন আওয়ামী লীগের সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, এই সরকার তো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস মোকাবিলা করে যাচ্ছে। বিরোধী জোটের জামায়াতসহ অন্যান্য দলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের অভিযোগ পাওয়া যায়, তা নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছে সেখানে বিএনপির পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রগতিশীল কোনো দল সেভাবে সাড়া দেয়নি। এখনো সেই সময় ফুরিয়ে যায়নি, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হোক, সরকার তা চায় না। তাই খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ায় সরকার বিপাকে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার থাকবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়া। কিন্তু তিনি তা করেননি। খালেদা জিয়াই জাতীয় সংকটকালে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন।

আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর ৩ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে দল-মত-নির্বিশেষে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর ১৩ জুলাই বিএনপির সিনিয়র নেতা ও ১৪ জুলাই বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত এর অগ্রগতি জানা যায়নি। বিএনপির ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যেন দ্রুত সন্ত্রাসবিরোধী জাতীয় ঐক্য বাস্তবায়ন করা হয়। অন্ততপক্ষে খালেদা জিয়া যেন ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে টেবিল টক শুরু করেন। এত দিন পর এখনো বিএনপি জাতীয় ঐক্য নিয়ে কাজ করতে চায়। ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা হিসেবে কিভাবে দেখছেন?

জবাবে উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ বলেন, বিএনপি এসব করতে চায়, এর ভেতরে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে। এ জন্য কোনো দল তার এই জাতীয় ঐক্যের ভেতরে আসতে চায় না। তিনি বলেন, বিএনপি এখন যা করতে চায় তার ভেতরে তাদের একটি উদ্দেশ্য থাকে কী করে বা কোন কৌশলে ক্ষমতায় আসা যায়। তিনি বলেন, যারা বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুডিয়ে হত্যা করে, নিরীহ মানুষকে মাসের পর মাস ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখতে টানা অবরোধ করে, তাদের পক্ষে সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্যের ডাক মানায় না। এ জন্য তাদের এসব ঐক্যের ডাক হালে পানি পাবে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ার আগে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে ছাড়তে হবে। অন্যথায় বিএনপির এসব উদ্যোগে মানুষের সাড়া মিলবে না।

আলোচনার এ পর্যায়ে বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, মানুষ ঠিকই সাড়া দিয়েছে; কিন্তু সরকার চায় না মানুষ সাড়া দিক। তা ছাড়া দেশের সব মানুষ তো আর সরকারের পক্ষের লোক নয়। যারা বিএনপিকে ভালোবাসে তারা এই উদ্যোগকে আগেই ভালো বলে সাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিএনপি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৩ জুলাই দল-মত-নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন খালেদা জিয়া। বিগত দিনে যেকোনো হামলার পর সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুললেও ওই দিন তিনি ঐক্যের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় কে থাকবেন, কে থাকবেন না, তা আজ বড় কথা নয়। দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ আজ বিপন্ন। তাই কালবিলম্ব না করে আসুন, আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে দল-মত-নির্বিশেষে সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্য গড়ি। গড়ে তুলি নিরাপদ বাংলাদেশ। ’


মন্তব্য