kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকের নিরাপত্তা

চিন্ময় মুৎসুদ্দী

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকের নিরাপত্তা

এ বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে সশস্ত্র সংঘাতের বিষয়ে সরেজমিন রিপোর্ট করতে গিয়ে ইয়েমেন ও ইরাকে চারজন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। ইউনেসকো প্রধান এ মৃত্যুর নিন্দা করতে গিয়ে সাংবাদিকের নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, সংঘাতের সময় দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সিভিলিয়ান অবস্থান বিবেচনা করে জেনেভা কনভেনশনের আলোকে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকের নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি নতুন নয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় লেখালেখি হয়েছে। দাবি জানানো হয়েছে। তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা কোনো মহল থেকে নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে।    

ইউনেসকো প্রধানের বিবৃতির পর বিষয়টা আমাদের আবার ভাবিয়েছে এ কারণে যে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের দেশের মধ্যেই সশস্ত্র সংঘাতের সরেজমিন রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ‘জঙ্গি’ তত্পরতার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকের নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। আমরা অসুস্থ, অসহায়, দুস্থ, পঙ্গু সাংবাদিকদের ভিক্ষা দেওয়ার জন্য কল্যাণ তহবিল করেছি। কিন্তু তাঁদের নিরাপদ, সুস্থ ও সবল রাখার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করি না।  

হলি আর্টিজান ঘটনায় রিপোর্ট করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিতর্কের মধ্যে পড়তে হয়েছে, বিশেষ করে টিভি সাংবাদিকদের, যাঁরা ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার করেছেন। এখানে কোনো সাংবাদিক কোনো অঘটনের শিকার হননি এটা আমাদের জন্য সুসংবাদ। তবে এ ধরনের ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা সমীচীন কি না সে বিষয়টি নিয়ে তেমন বিতর্ক না হলেও সরকারের ইচ্ছায় তা বন্ধ রয়েছে। তাই শোলাকিয়া, কল্যাণপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রূপনগরের অপারেশন সরাসরি দেখানো হয়নি। ১৯ জুলাই তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিটিভিসহ ২৬টি টিভি চ্যানেলের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের কাজ সরাসরি টিভিতে সম্প্রচার না করার অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মিডিয়ায় বলেন, ‘অতীতে রানা প্লাজায় উদ্ধারকাজের দৃশ্য টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বীভৎস দৃশ্য টিভিতে দেখানো হলে যেকোনো মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। সে জন্য আপত্তিকর দৃশ্য টিভিতে না দেখানোই ভালো। ’

জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হলে সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিকল্পনা সম্পর্কে আগাম জেনে যায়। তাই এ ধরনের ঘটনায় উদ্ধারকাজ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।

তবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল একতরফা এ রকম চিঠি দেওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন। তিনি নতুন এই বাস্তবতায় টেলিভিশনের শীর্ষ সাংবাদিকদের নিয়ে বৈঠক করে কিভাবে তাঁরা কাজ করবেন, সে বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্য মন্ত্রণালয়কে। তাঁর মতে, সরকারকে সহযোগিতা করার জন্যই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার বিষয় সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ থাকা উচিত সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নীতিমালার ভিত্তিতে।

তবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা গুলশানসহ অন্যান্য স্থানে সশস্ত্র সংঘাতের খবর সংগ্রহের সময় কোনো ধরনের ‘ঝুঁকি’র মধ্যে পড়েছেন কি না জানা যায়নি। জনগণের জানার অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য তাঁরা জীবনবাজি রেখেই সশস্ত্র সংঘাতের সচিত্র সংবাদ সংগ্রহ করেন। সরাসরি টিভিতে দেখানো না হলেও ধারণ করা ফুটেজ পরে প্রচারিত হয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও চেষ্টা করেছেন প্রকৃত অবস্থা ছবি ও লেখার মাধ্যমে পাঠকদের জানাতে। এ ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি আসবে। রিপোর্ট সংগ্রহে দায়িত্বরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা কী হওয়া দরকার, কিভাবে তারা সহযোগিতা করবে সে বিষয়গুলো আলোচনা করার সময় এসে গেছে। এ ব্যাপারে মিডিয়া কর্তৃপক্ষকেই উদ্যোগী হতে হবে। সাংবাদিক ইউনিয়নকেও এ বিষয়গুলো নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ইউনিয়ন নেতারা শুধু বিবৃতি আর টক শোর মধ্যে তাঁদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখলে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথ ক্রমেই সংকীর্ণ হতে থাকবে।   

সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাকে তারা স্বাগত জানিয়েছে এবং জঙ্গিবাদ রুখে দেওয়ার শপথ নিয়েছে। রিপোর্ট ও লেখালেখির মাধ্যমেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ কারণে অনেকেই শঙ্কার মধ্যে আছেন। আছেন নিরাপত্তা সংকটে।

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রভাবশালী ও দুর্নীতিবাজ চক্রের হাতে নিগৃহীত হতে হয়। এটাও এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা। সাম্প্রতিক সময়ে এটা বেড়েছে। আশির দশকে স্বৈরাচারের আমলে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকরা নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৯৯০ সালের পর গণতান্ত্রিক সরকারের সব আমলেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার বাইরে সাংবাদিকরা বেশির ভাগ শারীরিকভাবে আক্রান্ত হন। ইদানীং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে সাংবাদিকদের। এরই মধ্যে এ ধরনের কয়েকটি মামলা সাজানো বলে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ জামিনে আছেন।

গোপন রাজনৈতিক দলের ওপর রিপোর্ট করার কারণেও বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলে একাধিক সাংবাদিককে আততায়ীর হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে। ১৬ বছরেও শামছুর রহমানের হত্যার বিচার শেষ হয়নি। মানিক সাহা, সাইফুল আলম মুকুল, দীপংকর চক্রবর্তী, হুমায়ুন কবির বালুসহ অনেকেই একইভাবে প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু অপরাধীরা সাজা পায়নি। সাগর-রুনির হত্যার বিচার শুরুই হয়নি। আফ্রিকায় ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ১৩১ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন, বিচার হয়েছে মাত্র পাঁচটি খুনের। ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাংবাদিক হত্যার বিচারের পরিমাণ ৭ শতাংশেরও কম।  

ইয়েমেনে মুবারক আল-আবাদি ও আবদুল করিম আল-জেরবানি মারা গেছেন উত্তরাঞ্চলে সংঘাতের রিপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে। মুবারক ছিলেন আল-জাজিরা ও সুহায়ল টিভির কন্ট্রিবিউটর আর আবদুল করিম ফটোগ্রাফার ও রিপোর্টার হিসেবে একাধিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁরা নিহত হন ৫ আগস্ট ও ২২ জুলাই। ইরাকে কুর্দিস্তান টিভির ক্যামেরাপারসন মুস্তাফা সায়ীদ মসুলে সংঘাতের ছবি তুলতে গিয়ে মারা গেছেন ১৪ আগস্ট। এর আগের দিন ইরাকি কুর্দিস্তানে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক উইদাদ হুসেন আলীকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা অপহরণ করে এবং কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায় সড়কের পাশে। তিনি রোজ নিউজ ওয়েবসাইটের রিপোর্টার ছিলেন।  

ইয়েমেনে এরই মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। নিজের নিরাপত্তার কৌশল শেখানো হয়েছে তাঁদের। যুদ্ধকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কিভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখতে হবে সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। নিজেকে নিরাপদ রাখার অংশ হিসেবে সাংবাদিকদেরও হেলমেট পরা, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট গায়ে রাখা ও নানা ধরনের অস্ত্র চেনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এসব কর্মশালায়। তানজানিয়ার আরুশা শহরে গত ১০ সেপ্টেম্বর ইউনেসকো ও কোর্ট অন হিউম্যান অ্যান্ড পিপলস রাইটসের উদ্যোগে একটি আন্ত-আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে আইনজীবীদের সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সাংবাদিক হত্যার বিচারহীনতা রোধে পদক্ষেপ সন্ধান ও মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ থেকে মুক্ত করা।

বাংলাদেশে এখনো সাংবাদিকের নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো কর্মশালার আয়োজন করা হয়নি। থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল—দুটি দিককেই গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিকদের, বিশেষ করে নির্দিষ্ট রিপোর্টার ও ফটোগ্রাফারদের জন্য কর্মশালার আয়োজন করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের নিরাপদ রাখার বিষয়ে সক্ষমতা অর্জন করবেন। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট এ কর্মশালার আয়োজন করতে পারে।   প্রায় ৪০ বছর ধরেই পিআইবি একই ধাঁচের পাঠ প্রণালীবিষয়ক কর্মশালাই করে আসছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি আমলে নিয়ে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। সাংবাদিক ইউনিয়নও এ রকম প্রয়োজনীয় ও গঠনমূলক কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করে না।   

কেনিয়ায় গত তিন বছরে সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। কেনিয়া করেসপনডেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (কেসিএ) চেয়ারম্যান উইলিয়াম ওলু জানাক বলেছেন, অবস্থার অবনতি ঘটাচ্ছেন সে দেশের সরকারের অভ্যন্তরের শক্তিশালী চক্র, নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজনীতিবিদরা। এ কারণে সেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কেসিএর উদ্যোগে গত জুলাই মাসে বিভিন্ন শহরে একাধিক কর্মশালা করে অধিকার ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সাংবাদিকদের সচেতন করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মিয়ানমার, ইরান প্রভৃতি এশীয় দেশ এ রকম পরিস্থিতির বাইরে নয়। আফ্রিকার অবস্থা বেশ শোচনীয়। সেটা বোঝা যায় ইউনেসকোর রিপোর্টে ও উইলিয়াম ওলু জানাকের কথায়। আফ্রিকার মিডিয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা পাচ্ছে। তাদের আর্থিক অনুদানের কল্যাণে সেখানে কর্মশালা আয়োজন করে সাংবাদিকদের নিরাপদ থাকার ব্যাপারে সক্ষম করে তোলার চেষ্টা চলছে।

সাংবাদিক ইউনিয়ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে সুবিধা নিলে ইউনিয়ন সদস্য সাংবাদিকরা একদিকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে বাধাগ্রস্ত হবেন, অন্যদিকে প্রভাবশালীদের হাতে নিগৃহীত হবেন যদি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকারও হতে হয় সাংবাদিকদের সরকারের পছন্দ নয় এমন রিপোর্ট প্রকাশের জন্য। বছরের পর বছর সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলো এসব কথাই প্রমাণ করে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের আরেকটি নিরাপত্তা সংকট রয়েছে, যা আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবনহানি ঘটলে বা পঙ্গু হয়ে গেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বিশেষ জীবন বীমা নেই সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মীদের জন্য। মৃত্যুপরবর্তী যে গ্রুপ জীবন বীমা রয়েছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে, তার পরিমাণও খুব সামান্য। সামগ্রিকভাবে মিডিয়া ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাশিত শৃঙ্খলা নেই। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নবম ওয়েজ বোর্ড দাবি করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো অষ্টম ওয়েজ বোর্ডই কার্যকর করা হয়নি।  

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় ঝুঁকি থাকবেই। স্পর্শকাতর বিষয়ে অনুসন্ধানী দায়িত্ব পালনকারী পেশাজীবী সাংবাদিকদের সেই ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা কখনো প্রত্যাশিত স্তরে পৌঁছবে না। গণমাধ্যমের উন্নয়নের জন্য সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার হওয়াটাও জরুরি।   

লেখক : সাংবাদিক, মিডিয়া বিশ্লেষক

chinmoy35@gmail.com


মন্তব্য