kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পর তা নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তাওরাত অবতীর্ণ হওয়ার পর তা নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়

১১০. নিশ্চয়ই আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছিলাম। তারপর এতে মতভেদ ঘটেছিল।

(কাফিরদের সাময়িক সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে) তোমার প্রতিপালকের পূর্বসিদ্ধান্ত যদি না হতো, তাহলে (পৃথিবীতেই) তাদের চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যেত। তারা অবশ্যই এর সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে ছিল। (সুরা : হুদ, আয়াত : ১১০)

তাফসির : আগের আয়াতে ইমানদারদের সত্যের ব্যাপারে অযৌক্তিক সন্দেহ না করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এ আয়াতে বলা হয়েছে, পবিত্র কোরআনের সত্যতার ব্যাপারে যেমন অযৌক্তিক সন্দেহের সৃষ্টি করা হচ্ছে, তেমনি মুসা (আ.)-এর প্রতি নাজিলকৃত তাওরাতের সত্যতার ব্যাপারে সন্দেহ করা হয়েছিল। আসমানি গ্রন্থ বা বিধানের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করা মহাপাপ। এর শাস্তি অত্যন্ত কঠিন। আল্লাহ তাআলা এ ধরনের পাপের চূড়ান্ত শাস্তি পরকালের জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন। কখনো কখনো পার্থিব জগতেও আংশিক শাস্তি তিনি দিয়ে দেন।

মুসা (আ.)-এর পরিচয়

মুসা (আ.) হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অষ্টম অধস্তন পুরুষ। মুসা (আ.)-এর বাবার নাম ছিল ইমরান ও মায়ের নাম ইউহানিব। তবে মায়ের নামের ব্যাপারে মতভেদ আছে। হজরত মারিয়াম (আ.)-এর বাবার নামও ছিল ইমরান। তিনি ছিলেন হজরত ঈসা (আ.)-এর নানা। মুসা ও ঈসা (আ.) উভয় নবীই ছিলেন বনি ইসরাইল বংশীয়। উভয়েই বনি ইসরাইলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। মুসা (আ.)-এর জন্ম হয় মিসরে। তিনি লালিত-পালিত হয়েছেন মিসর সম্রাট ফেরাউনের ঘরে। তাঁর সহোদর ভাই হারুন (আ.) ছিলেন তাঁর চেয়ে তিন বছরের বড়। তিনি মুসা (আ.)-এর তিন বছর আগেই ইন্তেকাল করেন। উভয়ের মৃত্যু হয় মিসর ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী ‘তিহ’ প্রান্তরে।

কোনো কোনো তাফসিরবিদের মতে, মুসা (আ.) ৫০ বছর বয়সে নবী হয়েছেন। এরপর ফেরাউনের দরবারে পৌঁছেছেন। ২৩ বছর দ্বন্দ্ব-সংগ্রামের পর ফেরাউন ডুবে মরে। আর বনি ইসরাইল মিসর থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় মুসা (আ.)-এর বয়স ছিল সম্ভবত ৮০ বছর। তবে মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর মতে, জাদুকরদের সঙ্গে মোকাবিলার ঘটনার পর মুসা (আ.) ২০ বছর মিসরে অবস্থান করেন। এ সময় আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-কে ৯টি মোজেজা দান করেন।

হজরত আদম, ইয়াহ্ইয়া ও ঈসা (আ.) ছাড়া প্রায় সব নবীই ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেছিলেন। মুসা (আ.)ও ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেছিলেন বলে বেশির ভাগ ইতিহাসবিদ মত পোষণ করেছেন। সে হিসাবে মুসা (আ.)-এর বয়সের ধারাক্রম নিম্নরূপ—প্রথম ৩০ বছর মিসরে, এরপর ১০ বছর মাদিয়ানে। তারপর মিসরে ফেরার পথে তুর পাহাড়ের কাছে ‘তুবা’ উপত্যকায় ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ। এরপর ২০ বছর মিসরে অবস্থান করে সেখানকার অধিবাসীদের তাওহিদের দাওয়াত প্রদান। তারপর ৬০ বছর বয়সে বনি ইসরাইলদের নিয়ে মিসর থেকে প্রস্থান ও ফেরাউনের সলিল সমাধি। অতঃপর বনি ইসরাইলকে নিয়ে ৪০ বছর ধরে ‘তিহ’ প্রান্তরে উন্মুক্ত কারাগারে অবস্থান। সে হিসাবে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ থেকে ১০০ বছর। মুসা (আ.)-এর মৃত্যু হয় বায়তুল মুকাদ্দাসের সন্নিকটে। বায়তুল মুকাদ্দাসের উপকণ্ঠে তাঁকে কবরস্থ করা হয়।

হজরত আদম (আ.) থেকে শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত পৃথিবীতে এক লাখ বা দুই লাখ ২৪ হাজার নবী-রাসুল আগমন করেছেন। ১০-১২ জন নবী ছাড়া তাঁদের মধ্যে প্রায় সবাই বনি ইসরাইল বংশের নবী ছিলেন। ইসরাইল বলা হয় হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ছেলে ইসহাক (আ.)-কে। এ জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে আবুল আম্বিয়া বা নবীদের বাবা বলা হয়।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য