kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রামপাল ও সুন্দরবন নিয়ে আশঙ্কা, বাস্তবতা

ফরহাদ মাহমুদ   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রামপাল ও সুন্দরবন নিয়ে আশঙ্কা, বাস্তবতা

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

এক পক্ষ বলছে, এই বিদ্যুেকন্দ্র নির্মিত হলে জাতীয় গৌরব ও বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। আরেক পক্ষ বলছে, যারা এ ধরনের কথা বলছে, তারা না জেনেই কথা বলছে। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরাও এই দাবির পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরছেন। পত্রিকায় এরই মধ্যে এমন কিছু প্রিয় মানুষের লেখা দেখেছি, যাঁদের প্রতি রয়েছে আমার অগাধ শ্রদ্ধা। তাঁদেরও কয়েকজন রামপালে বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, দেশের প্রয়োজন মেটাতে বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এটি রামপালে না করে সুন্দরবন থেকে আরো কিছুটা দূরে কোথাও করা হোক। অন্যদিকে পক্ষে থাকা বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, সুন্দরবনের সীমানা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে যে বিদ্যুেকন্দ্র হচ্ছে তা সুন্দরবনের জন্য মোটেও কোনো ক্ষতির কারণ হবে না।

আমরা যারা বিশেষজ্ঞ নই তারা পড়ে গেছি এক মহাধন্দে। কে ঠিক বলছেন, বুঝতে পারছি না। অগত্যা নিজের মতো করেই বুঝতে চেষ্টা করলাম বিদ্যুেকন্দ্রটি কিভাবে কতটা ক্ষতির কারণ হতে পারে। যাঁরা সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে বলে দাবি করছেন, তাঁদের যুক্তিগুলো নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম। তাঁরা বলছেন, বিদ্যুেকন্দ্রে ব্যবহূত কয়লার ফ্লাই অ্যাশ সুন্দরবনে গিয়ে পড়বে, গাছপালা মরে যাবে, ক্রমে সুন্দরবনের প্রাণিসম্পদ, বিশেষ করে বাঘ হারিয়ে যাবে। পক্ষের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক পদ্ধতির বিদ্যুৎ প্রকল্পে ফ্লাই অ্যাশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে বাইরে খুব কম ছড়ায়। যেটুকু ফ্লাই অ্যাশ ছড়ায় তার কার্ভ এক কিলোমিটার দূরে এতটাই নিচে নেমে যায় যে তা পরিবেশের জন্য মোটেও ক্ষতিকর থাকে না। ১৪ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের ক্ষতি হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কী হবে আর কী হবে না, তা এই মুহূর্তে চোখে দেখা সম্ভব নয়। বিদ্যুেকন্দ্র চালু হলেই শুধু তা দেখা সম্ভব। আবার জাতীয় গৌরব সুন্দরবন নিয়ে কোনো আশঙ্কার জন্য সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। বন ধ্বংস হয়ে গেলে দেখে আর কী লাভ হবে! সে ক্ষেত্রে চোখ ফেরানো যায় বিদ্যমান বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর দিকে। বাংলাদেশে এখন একটিই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র আছে। সেটি বড়পুকুরিয়ায়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। কেন্দ্রটির দেড় কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে দুধিপুর বনাঞ্চল। অবশ্য বনটি আকারে অনেক ছোট। তা হোক, ফ্লাই অ্যাশ যদি গাছপালা মেরেই ফেলে, তবে দুধিপুর বনে নিশ্চয়ই তার প্রভাব পড়বে। যত দূর জানা গেল, সেখানকার বনে কয়লাবিদ্যুতের কোনো প্রভাবই পড়েনি। কেন্দ্রের আশপাশেও অনেক গাছ আছে, এমনকি কেন্দ্রের দেয়ালের ভেতরে খোলা জায়গায়ও কিছু গাছ আছে, জানা যায় সেগুলোতেও ফ্লাই অ্যাশের কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি। প্রভাব পড়েনি আশপাশের ফসলি জমিতেও। তাহলে? সুন্দরবন ধ্বংসের অঙ্কটা তো মিলছে না। অধিকন্তু ইন্টারনেটে দেখা যায়, বড়পুকুরিয়ায় চীনের নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রটির প্রযুক্তিগত স্টেটাস হচ্ছে ‘সাবক্রিটিক্যাল’। আর রামপাল ও মহেশখালীর বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর স্টেটাস হচ্ছে ‘আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল’। অর্থাৎ প্রযুক্তি বিচারে রামপালের বিদ্যুেকন্দ্র কয়েক ধাপ এগিয়ে। এতে ফ্লাই অ্যাশ বা পরিবেশের ক্ষতি অনেক কম হয়। তাহলে রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র ১৪ কিলোমিটার দূরে থাকা সুন্দরবনের জন্য এত ক্ষতিকর কেন হবে? গোটা সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে, এমন দাবি করারই বা কারণ কী?

যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁদের আরেকটা যুক্তি হচ্ছে, এখানে বিদ্যুেকন্দ্র হলে কয়লা নিয়ে পশুর নদ দিয়ে যেসব জাহাজ আসবে সেসবের ভেঁপুর উচ্চ শব্দের কারণে বাঘের বিচরণ ও প্রজনন বিঘ্নিত হবে। অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে মংলা বন্দরে প্রতিদিন অনেক জাহাজ আসছে। আশা করা যাচ্ছে, নেপাল ও ভুটান অদূর ভবিষ্যতে তাদের আমদানি-রপ্তানির কাজে মংলা বন্দরের ব্যবহার বাড়াবে। সে ক্ষেত্রে মংলা বন্দরে প্রতিদিন যে পরিমাণ জাহাজ আসা-যাওয়া করবে, বিদ্যুেকন্দ্রের কারণে তার পরিমাণ ১ শতাংশ বাড়বে বলেও মনে হয় না। যত দূর জানা যায়, বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য ৮০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৫৯টি জাহাজ আসবে বছরে। অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে একটির মতো। এরপর লাইটারেজ, যেগুলো নেওয়া হবে রামপালে। মংলা বন্দর থাকলে ও প্রতিদিন বেশ কিছু জাহাজ এলেও যদি বাঘের বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত না হয়, তাহলে সপ্তাহে একটি জাহাজ বেশি এলে খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে কি? জাহাজই যদি ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে মংলা বন্দর তুলে দেওয়ার জন্য আন্দোলন হচ্ছে না কেন? এখানেও হিসাব মেলাতে পারলাম না।

২০০৪ সালের জরিপে দেখা যায়, সুন্দরবনে বাঘ ছিল চার শর মতো। সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, সুন্দরবনে বাঘ রয়েছে এক শর মতো। এই ৩০০ বাঘ কমল কেন? এত দিন তো এখানে কয়লাভিত্তিক কোনো বিদ্যুেকন্দ্র ছিল না। পঞ্চাশের দশকের শুরুতেও মধুপুর জঙ্গলে বাঘ দেখা যেত। মিরপুরে এখন যেখানে বোটানিক্যাল গার্ডেন, সেই এলাকায় পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝিও চিতাবাঘ শিকারের তথ্য রয়েছে। দেশে তো এত দিন কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র ছিল না, তাহলে এসব বাঘ কমল কেন? সুন্দরবন কিংবা বাঘ যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে বন বা বাঘ কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণই আমাদের খুঁজতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সুন্দরবনের সীমানা পঞ্চাশের দশকে কোন পর্যন্ত ছিল, তখন সুন্দরবনে মানুষের উৎপাত কেমন ছিল, চোরা শিকারিদের হামলা কতটা ছিল, বাঘে-মানুষে যুদ্ধ কেমন ছিল, বাঘের খাদ্য সংকট কতটা তীব্র ছিল—বাঘ বাঁচাতে হলে তখনকার ও বর্তমান সময়ের পার্থক্যগুলো বিবেচনা করতে হবে। সুন্দরবন ধ্বংসেরও প্রকৃত কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। তা না করে ভুল পথে মানুষের আবেগ টেনে নিয়ে গেলে, তাতে কারো কারো ব্যক্তিগত বা দলগত লাভ হতে পারে; কিন্তু সুন্দরবন বা এখানে থাকা বাঘের কোনো উপকার হবে না।

বিদ্যুৎ আমাদের লাগবে। শিল্পায়ন বাড়াতে হবে। তা না হলে ছোট্ট ভূখণ্ডে ১৬ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে না। দারিদ্র্য দূর হবে না। কোনো পরিবেশই রক্ষা পাবে না। আমাদের গ্যাস দ্রুত কমে যাচ্ছে। তাই গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন আর বাড়ানো যাবে না। জ্বালানি তেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ অনেক বেশি। তাই বর্তমান সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রামপাল ছাড়াও মহেশখালীভিত্তিক বেশ কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও জাপানের সঙ্গে সমঝোতা কিংবা চুক্তি হয়েছে। এসবই হবে যৌথ ব্যবস্থাপনায়। আরেকটি বড় বিদ্যুেকন্দ্র নির্মিত হবে পটুয়াখালীর পায়রায়, চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে। তারও চুক্তি হয়েছে, শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যায়। রামপালে বিদ্যুেকন্দ্রের যাঁরা বিরোধিতা করছেন তাঁরা কিন্তু এসব বিদ্যুেকন্দ্র নিয়ে প্রায় কোনো কথাই বলছেন না। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র যদি এতই ক্ষতিকর হয়, তাহলে এই কেন্দ্রগুলোর প্রতিবাদ আমরা করছি না কেন? রামপালের ক্ষেত্রে তাঁরা জনবসতি থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু অন্য যেসব কেন্দ্রের কথা বলা হলো সেগুলো থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই ঘন জনবসতি রয়েছে। বড়পুকুরিয়ায় তো বিদ্যুেকন্দ্রের প্রায় গা ঘেঁষেই ঘন জনবসতি রয়েছে। মাতারবাড়ী ও মহেশখালীর প্রস্তাবিত বিদ্যুেকন্দ্রের ১০ থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে চকরিয়া সুন্দরবন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, চুনতি অভয়ারণ্যসহ অন্তত এক ডজন সংরক্ষিত বনাঞ্চল। আন্দোলনকারীরা এসব বন ও বন্য প্রাণীর প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন কেন? রামপালের বিদ্যুেকন্দ্রটি ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে হচ্ছে বলেই কি এত বিরোধিতা? এমন প্রশ্ন জাগাটাই কি স্বাভাবিক নয়?

রামপালে বিদ্যুেকন্দ্র হচ্ছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি (বিআইএফপিসি) নামের প্রতিষ্ঠানের অধীনে। এটি ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) ও বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) একটি যৌথ উদ্যোগ। এর আওতায় শুধু বাংলাদেশে নয়, ভবিষ্যতে ভারতেও বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের কথা রয়েছে। সেগুলোতে কি ভারতীয়রাও একইভাবে বিরোধিতা করবে? আর এনটিপিসির কারিগরি দক্ষতা নিয়েও কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। বর্তমানে ভারতে এ সংস্থার অধীন বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা হচ্ছে ৪৫ হাজার ৫৪৮ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ৩৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র। এই বিদ্যুেকন্দ্রের আন্তর্জাতিক দরপত্র দেওয়া হয়েছিল। জানা যায়, জাপানের মারুবেনি, চীনের হারবিনসহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। দরপত্রের শর্ত মোতাবেক উপযুক্ত বিবেচিত হওয়ায় এনটিপিসিকে কেন্দ্রটি নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে এত আপত্তি কেন?

বাংলাদেশে পরিবেশের প্রধান শত্রু কী? অনেকেই বলে থাকেন, সেটি হচ্ছে দারিদ্র্য। বাংলাদেশে ১৮ প্রজাতির পেঁচা ছিল। ছোট্ট খুড়ুলে পেঁচা থেকে শুরু করে বৃহদাকারের ভুতুম পেঁচা পর্যন্ত প্রচুর দেখা যেত। এখন চার-পাঁচটি প্রজাতির নগণ্যসংখ্যক পেঁচা অনেক খোঁজাখুঁজি করলে দেখা যেতে পারে। বাকি প্রজাতিগুলো কোথায় গেছে? অধিকাংশ পেঁচা পুরনো গাছের কোটরে বাসা করে। বর্তমানে কোটর হওয়ার মতো পুরনো গাছই নেই। দারিদ্র্যের কারণে ততটা পুরনো হওয়ার আগেই মানুষ গাছ বিক্রি করে দেয়। পাঁচ প্রজাতির ধনেশ ছিল। এখন ধনেশ দেখাই যায় না। বড় আকৃতির এই পাখিগুলোরও ডিম-বাচ্চা দেওয়ার মতো কোটরসম্পন্ন গাছ নেই। মানুষ আজকাল এমন সব কাঠের গাছ বেশি লাগায়, যেগুলোতে কোটর হয় না। আমাদের পরিবেশে কিছু বটের বা কোয়েলের প্রজাতি ছিল। আগে কৃষক ধান কাটার সময় হাত দিয়েই ধরে ফেলত। এখন নেই। কয়েক প্রজাতির হট্টিটি, নাইটজারসহ আরো কিছু পাখি ছিল, যেগুলো মাটিতে ডিম পাড়ত, সেগুলো খুবই কমে গেছে। এ রকম আরো অনেক পাখিই হারিয়ে গেছে, না হয় হারিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। একইভাবে বহু বন্য প্রাণীও হারিয়ে যাচ্ছে। গণ্ডার, চিতা, বুনো মোষ বা এ রকম বড় প্রাণীর কথা না হয় না-ই বললাম। সাধারণ বনবিড়াল, খাটাশ, বেজি, গুইসাপ কতটা অবশিষ্ট আছে! একইভাবে সুন্দরবনে মানুষের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। কেন বাড়ছে? কারণ দারিদ্র্য। কর্মসংস্থানের অভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য বাধ্য হচ্ছে বনে যেতে। বেঁচে থাকার জন্য বন ও বন্য প্রাণীর ওপর হামলা করতে হচ্ছে। সুন্দরবনের গাছ কাটা বা হরিণ শিকারের মতো কাজও করতে হচ্ছে। লাভজনক বিকল্প কর্মসংস্থান থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ এসব কাজে তাদের অনেকেই যাবে না। সেই কর্মসংস্থান কিভাবে হবে, যদি আমরা সারা দেশে কোথাও বিদ্যুেকন্দ্র করতে না দিই। কয়লা তুলতে না দিই। কর্মসংস্থানহীন সেই পরিবেশ কি সুন্দরবন বা বন্য প্রাণীর জন্য বেশি লাভজনক হবে? নিঃসন্দেহে নয়।

সুন্দরবন নিয়ে যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁদের মোটা দাগে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি বড় অংশ আছে, পরিবেশের প্রতি যাদের ভালোবাসা আছে। সুন্দরবন নিয়ে আবেগও রয়েছে। কিন্তু তথ্যের অভাবে ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবে তাদের বিবেচনাবোধও কিছু পরিমাণে বিভ্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় সারিতে আছেন কিছু বাম ঘরানার রাজনীতিবিদ, যাঁদের সাকল্যে ১ শতাংশ জনসমর্থন নেই। উল্টাপাল্টা কথা বলে তাঁরা জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তৃতীয় সারিতে রয়েছে ভারতবিদ্বেষী রাজনীতি। এদের সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। চতুর্থ ও মূল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বিদেশি পয়সায় পরিচালিত এনজিওকর্মী নামের একটি পরগাছা শ্রেণি। অরুন্ধতী রায়ের ভাষায়, ‘ভালো’ কাজের জন্য ভালো বেতনে পোষা লোকজন। সেই ভালোটি অবশ্যই নিজ দেশের জন্য নয়, যারা অর্থ দেয়, যারা এ দেশের উন্নতি চায় না, দেশের নিয়ন্ত্রণ চায় ও সম্পদ লুট করতে চায়, তাদের সুবিধার জন্য এরা সব কিছুই করে।

হ্যাঁ, রামপাল যেহেতু সুন্দরবনের কাছে, তাই এখানে ব্যবহূত কয়লার মান ও পরিবহন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব কাজই কঠিন শর্ত ও নিয়মের মধ্যে পরিচালনা করতে হবে। সেই শর্ত ও নিয়মগুলো যাতে যথাযথ হয় সে ব্যাপারে কারিগরি কমিটি করে সেগুলো নির্ধারণ করতে হবে। পরবর্তীকালে সেগুলো যথাযথভাবে মানা হলো কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থায়ই বিদ্যুেকন্দ্র করতে না দেওয়া কিংবা সেই লক্ষ্যে জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা সমর্থনযোগ্য নয়।

লেখক : সাংবাদিক


মন্তব্য