kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

রাজনারায়ণ বসু

চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক রাজনারায়ণ বসুর জন্ম ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলায় ১৮২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। তিনি কলকাতায় গুরু পাঠশালা, হেয়ার স্কুল ও হিন্দু কলেজে অধ্যয়ন করেছেন।

মধুসূদন দত্তের সুহৃদ ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ‘ইয়ং বেঙ্গল’ দলের বস্তুবাদী জীবনাদর্শেও প্রভাবিত হন। বাবা ও প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংস্পর্শে এসে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। সংস্কৃত কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক ছিলেন। অবসরে গিয়ে শ্রমিক-কৃষকদের শিক্ষাদানের লক্ষ্যে মেদিনীপুরে নৈশ ও বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংগীতের চর্চায় তিনি উৎসাহ জোগাতেন। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নন্দগোপাল মিত্র ‘হিন্দু মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। রাজনারায়ণ বসু ‘সঞ্জীবনী সভা’ নামে একটি গুপ্ত রাজনৈতিক সমিতির সভাপতি ছিলেন। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এ সমিতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৮৭৯ সালে রাজনারায়ণ বসু দেওঘর চলে যান এবং আমৃত্যু এখানেই ছিলেন। তিনি কঠ, কেন, মুণ্ডক ও শ্বেতাশ্বেতর উপনিষদের ইংরেজি অনুবাদ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছে : রাজনারায়ণ বসুর বক্তৃতা (প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ), ব্রাহ্ম সাধনা, ধর্মতত্ত্বদীপিকা (প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ), আত্মীয় সভার সদস্যদের বৃত্তান্ত, হিন্দু ধর্মের শ্রেষ্ঠতা, প্রকৃত অসাম্প্রদায়িকতা কাকে বলে, সেকাল আর একাল, হিন্দু অথবা প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিবৃত্ত, বিবিধ প্রবন্ধ, তাম্বুলোপ হার, সারধর্ম, হিন্দুর আশা, রাজনারায়ণ বসুর আত্মচরিত ইত্যাদি। এ ছাড়া অনেক ইংরেজি গ্রন্থও রচনা করেছেন তিনি। সে সময় উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সমালোচকও বলা হতো তাঁকে। রাজনারায়ণ ছিলেন ভগবদ্ভক্ত, অনেকে তাঁকে ‘ঋষি’ বলতেন। ১৮৯৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজনারায়ণ বসু মারা যান।

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য