kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

প্রয়োজন সন্দেহমুক্ত ইবাদত

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রয়োজন সন্দেহমুক্ত ইবাদত

১০৯. সুতরাং তারা যাদের উপাসনা করে তুমি তাদের সম্পর্কে সংশয়যুক্ত হয়ো না। এর আগে তাদের পিতৃপুরুষরা যাদের উপাসনা করত, তারা তাদেরই উপাসনা করে।

আমি অবশ্যই তাদের প্রাপ্য পুরোপুরি দিয়ে দেব—সামান্যও কম দেব না। (সুরা : হুদ, আয়াত : ১০৯)

তাফসির : আগের আয়াতগুলোতে হতভাগ্য ও সৌভাগ্যবান দুই শ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছিল। এ আয়াতে মহানবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর শত্রুদের জন্য হঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, পাপীদের ব্যাপারে আল্লাহর রীতি হলো, কিছুদিন তাদের অবকাশ দেওয়া হয়। এরপর তাদের জন্য চূড়ান্ত শাস্তি চলে আসে। অনেক অপরাধীর জন্য দুনিয়ায়ই শাস্তি নেমে আসে। পরকালের অনন্ত-অসীম জীবনের শাস্তি তো তাদের জন্য প্রস্তুত আছেই। কাজেই তাদের ব্যাপারে সংশয়-সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তাদের ইহজাগতিক উন্নতি দেখে বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। ইহজাগতিক উন্নতি তাদের জন্য পরীক্ষার উপকরণ। অনেক সময় অবিশ্বাসীরাও বিভিন্ন ভালো কাজ করে। মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন ও আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে। এসবের সুফল তারা দুনিয়ায়ই ভোগ করে। তবে তারা পরকালে এর বিনিময়ে কিছুই পাবে না। আল্লাহ কারো ওপর জুলুম করেন না। তিনি সবাইকে তার প্রাপ্য যথাযথ দান করেন। সুতরাং অবিশ্বাসীদের হুংকার ও বৈষয়িক প্রভাব দেখে সংশয়ের কারণ নেই।

সংশয় ও দোদুল্যমানতা মানুষের স্বভাবজাত বা প্রকৃতিগত অভ্যাস। তাই এ আয়াতে ইমানদারদের সতর্ক করা হয়েছে, যেন তাঁরা পরিবেশ-পারিপার্শ্বিক অবস্থার দ্বারা প্রভাবিত না হন। যেন তাঁদের মনে নিজের বিশ্বাস ও অনুসৃত পথ সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি না হয়। কেননা এর ফলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এক ধরনের উদাসীনতা দেখা দিতে পারে।

লক্ষণীয় যে এ আয়াতে মহানবী (সা.)-কে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, ‘তুমি তাদের সম্পর্কে সংশয়যুক্ত হয়ো না। ’ এখানে মহানবী (সা.)-কে উদ্দেশ করে বলার অর্থ মুসলমানদের শিক্ষা দেওয়া। নবীদের মনে এ ধরনের কোনো সংশয় সৃষ্টি হয় না। তাঁদের সামনে সত্য সব সময় উজ্জ্বল। নিজের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ বা সংশয়ের উদ্রেক হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। এ ধরনের সংশয় তৈরি হলে তা দ্রুত অপসারণ করে স্থির বিশ্বাসে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। যখন তার কাছে বিষয়টি স্বচ্ছ বা স্পষ্ট হয়ে উঠবে তখন সেটিকে দৃঢ় মনে গ্রহণ করা উচিত। প্রয়োজনে কোনো বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কোনো বিষয়ে সংশয়ী বা দোদুল্যমান থাকা ঠিক নয়। মুনাফিকরা ইমান ও কুফরের মধ্যে দোটানায়-দোদুল্যমান থাকে। এরা বাহ্যিক আচরণে মুসলমানদের সঙ্গে আর অন্তরের দিক থেকে এরা মনেপ্রাণে কুফরিকেই পছন্দ করে। কখনো তারা মুমিনদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, আবার কখনো কাফিরদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। প্রকৃত বিচারে এরা মুসলমান তো নয়ই, পুরোপুরিভাবে কাফিরদের সঙ্গেও নেই। আল্লাহ বলেন, ‘এরা (ইমান ও কুফরের ব্যাপারে) দোটানায়-দোদুল্যমান থাকে—এদিকেও নয়, ওদিকেও নয়! বস্তুত আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তার জন্য কখনো কোনো পথ (খুঁজে) পাবে না। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৪৩)

আলোচ্য আয়াতে আরো বলা হয়েছে, ‘এর আগে তাদের পিতৃপুরুষরা যাদের উপাসনা করত, তারা তাদেরই উপাসনা করে। ’ অর্থাৎ কাফির-মুশরিকদের কাছে তাদের বিশ্বাসের ব্যাপারে অকাট্য কোনো প্রমাণ নেই। তারা তাদের পিতৃপুরুষের অন্ধ অনুসরণ করে। কাজেই তারা কিছুতেই সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। সব ক্ষেত্রে পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করা উচিত নয়। প্রত্যেক মানুষই বিবেক-বুদ্ধির অধিকারী। ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে নিজের বিবেক-বুদ্ধি ও ব্যাপক পড়াশোনার মাধ্যমে সঠিক পথ বেছে নিতে হবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য