kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘নিজেকে বিলিয়ে দিতে জানতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘নিজেকে বিলিয়ে দিতে জানতে হবে’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক বলেছেন, ‘শুধু অভিনয় দিয়ে নয়, মানুষের মাঝে হাজার বছর বাঁচতে হলে নিজেকে বিলিয়ে দিতে জানতে হবে। সমাজের ছোট থেকে বড়, কোনো মানুষকে খাটো করে দেখা যাবে না।

মানুষকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। এখনো এফডিসিতে গেলে পুরনো সেই চলচ্চিত্রকর্মীরা আমাকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। তাঁরা এখনো ভোলেন না সেই সময়ের কথা। আমিও নিজের সেই হারানো দিনের স্মৃতি খুঁজে বেড়াই। ’ শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ঈদ সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি নায়ক রাজ্জাক তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আলোচনার শুরুতে সঞ্চালক বলেন, ‘নায়করাজ রাজ্জাক, আপনি তো এখন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য একজন জীবন্ত প্রাণপুরুষ। আপনার জন্য এখনো আমাদের চলচ্চিত্রজগৎ সম্মান বয়ে আনছে। আপনাকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে। এই বয়সে এসে কিভাবে দেখছেন জীবনটাকে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নিয়ে কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?’

জবাবে রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা যা কিছুই করি না কেন, সবার আগে দেশকে ভালোবাসতে হবে। দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষের ভালোবাসা ছাড়া সফলতার মুখ দেখা সম্ভব নয়। একটি ভালো গল্প ছাড়া যেমন একটি ভালো কাহিনী তৈরি করা যায় না, তেমনি একজন ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রী ছাড়া চলচ্চিত্র মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। ’

রাজ্জাক আরো বলেন, ‘১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উত্তাল সময়ে নতুন জীবন গড়তে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে স্ত্রী ও শিশুসন্তান বাপ্পাকে নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম শূন্য হাতে। অমানুষিক জীবনসংগ্রামের পর সফল হয়ে আজকের নায়করাজ উপাধি পেয়েছি। আমাকে চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি বলে সবাই, এটা যে কারো কাছেই গল্প বলে মনে হতে পারে। মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি অসীম মনোবল, অমানুষিক পরিশ্রম আর মমতার মাধ্যমে নিজের লক্ষ্যে  পৌঁছেছি। ’ রাজ্জাক বলেন, তাঁর জন্ম কলকাতার সিনেমাপাড়া টালিগঞ্জে। অর্থাৎ জন্মের পর থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে সখ্য। মঞ্চের সঙ্গে জড়িত থাকলেও স্বপ্ন ছিল সিনেমাকে ঘিরে। টালিগঞ্জের সিনেমাশিল্পে তখন ছবি বিশ্বাস, উত্তম কুমার, সৌমিত্র, বিশ্বজিতদের যুগ। সেখানে হালকা-পাতলা সাধারণ রাজুর অভিনয়ে সুযোগ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। এর মধ্যে শুরু হলো সাম্প্র্রদায়িক দাঙ্গা। একসময় কলকাতায় থাকাটাই মুশকিল হয়ে পড়ে। তখন এক সুহৃদ তাঁকে পরামর্শ দিলেন ঢাকায় চলে আসতে। বললেন, ঢাকার চলচ্চিত্র নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে। সেখানে গেলে হয়তো কিছু একটা হবে।

আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, আপনি তো নায়ক হতে চাননি, আপনি হতে চেয়েছিলেন একজন খেলোয়াড়, তবে কী করে এই জগতে পা বাড়ালেন?

জবাবে রাজ্জাক বলেন, ‘সে অনেক কথা। এক দিনেও বলা যাবে না। তবে এতটুকু বলতে পারি, ইচ্ছা শক্তি, প্রচণ্ড মনোবল আর সাধনা থাকলে কাউকে পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। ’ তিনি জানান, ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার টালিগঞ্জে তাঁর জম্ম। তাঁর প্রকৃত নাম আবদুর রাজ্জাক। টালিগঞ্জের মোল্লাবাড়ির আকবর হোসেন ও মা মিনারুন্নেসার ছোট ছেলে তিনি। জন্মের পর কলকাতায় বেড়ে ওঠা রাজ্জাকের। কখনোই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল না তাঁর, বরং তাঁর ইচ্ছা ছিল খেলোয়াড় হওয়ার। কলকাতার খানপুর হাই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মঞ্চনাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য তাঁর স্পোর্টস শিক্ষক তাঁকে বেছে নেন। অনেকটা অনিচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষকের কথায় তিনি অভিনয় করেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর অভিনয় দেখে সবাই মুগ্ধ হয়। এ থেকেই তিনি অভিনয়ের আনন্দ পেতে শুরু করেন। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক ‘বিদ্রোহীতে’ গ্রামের কিশোর চরিত্রের মধ্য দিয়ে অভিনয়ে যুক্ত হন। কিন্তু অভিনয়ের কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও প্রধান বাধা ছিল তাঁর পরিবার। পরিবারের কেউ চাননি তিনি অভিনয় করেন।


মন্তব্য