kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

আল্লাহর শাস্তি খুবই কঠিন

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আল্লাহর শাস্তি খুবই কঠিন

১০১. আমি তাদের ওপর জুলুম করিনি। বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছে।

যখন তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (শাস্তির) নির্দেশ এলো তখন আল্লাহ ছাড়া তারা যাদের উপাসনা করত, তা তাদের কোনো কাজে আসেনি। তারা তাদের জন্য ধ্বংস ছাড়া অন্য কিছু বৃদ্ধি করেনি।

১০২. তোমার প্রতিপালকের শাস্তি এমনই! তিনি শাস্তি দেন জনপদসমূহকে, যখন তারা সীমা লঙ্ঘন করে। নিশ্চয়ই তাঁর শাস্তি মর্মন্তুদ ও কঠিন।

১০৩. যে পরলোকের শাস্তিকে ভয় করে, এতে তার জন্য নিদর্শন আছে। এটা সেই দিন, যেদিন সব মানুষকে একত্র করা হবে। এটা সেই দিন, যেদিন সবাইকে উপস্থিত করা হবে।

১০৪. আর আমি নির্দিষ্ট কিছুকালের জন্য ওই দিনকে বিলম্বিত করি।

১০৫. যখন সেই দিন আসবে তখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না। তাদের মধ্যে অনেকে হবে ভাগ্যহত আর অনেকে হবে ভাগ্যবান। (সুরা : হুদ, আয়াত : ১০১-১০৫)

তাফসির : প্রথম আয়াতের মূলকথা হলো, আল্লাহর আজাব এলে দুনিয়ার কোনো শক্তি তা রোধ করতে পারে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানবজাতিকে। ফেরেশতা, পশুপাখি, আসমান, জমিন, বাতাস, গাছগাছালি, সাগর, পানি, পাহাড় সবই তিনি মানুষের সেবায় নিয়োজিত রেখেছেন। এর পরও মানুষ আল্লাহকেই ভুলে যায়। তাঁর অস্তিত্ব স্বীকার করে না। সমাজে নানা ফেতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে। আল্লাহর পাঠানো নবী-রাসুলদের ডাকে সাড়া দেওয়ার বদলে তারা তাঁদেরই হত্যা করে। তাদের অব্যাহত পাপের ফলে একসময় আসমানি আজাব আসে। আজাব তাদের সমূলে বিনাশ করে দেয়। এটা তাদের ওপর জুলুম নয়। এ শাস্তির প্রেক্ষাপট তারাই তৈরি করেছিল।

বিভিন্ন ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছিল আগের অনেক আয়াতে। এর মধ্যে ছিল ফেরাউনের ঘটনা। ফেরাউন তার দলবলসহ অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে সাগরে নিমজ্জিত হয়েছিল। এ কথা আগেই বলা হয়েছিল। এখানে দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে,  আল্লাহর আজাব কেবল ফেরাউন ও তার অনুসারীদের জন্যই প্রযোজ্য ছিল না, বরং তা সব যুগেই অত্যাচারী জালিমদের জন্য প্রযোজ্য। আল্লাহ জালিম ও সীমা লঙ্ঘনকারীদের অপছন্দ করেন। তিনি তাদের জন্য কঠোর পরিণতি নির্ধারণ করে রেখেছেন। আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত মর্মন্তুদ ও খুবই কঠিন। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালকের থাবা (শাস্তি) বড়ই কঠিন। ’ (সুরা : বুরুজ, আয়াত : ১২)

কোরআনের অন্য স্থানে আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৯৮)

তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে তারাই অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। নিজেকে শুধরে নেয়। কেয়ামত অবশ্যই কায়েম হবে। সেদিন দুনিয়ার সব মানুষকে সমবেত করা হবে। প্রশ্ন হলো, সব ধর্মগ্রন্থেই কেয়ামত ও পরকালের বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কেয়ামত কবে সংঘটিত হবে? এর জবাবে চতুর্থ আয়াতে বলা হয়েছে, কেয়ামত নির্ধারিত সময়েই সংঘটিত হবে। কেবল আল্লাহ তাআলাই সে সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। বিশেষ হিকমতে সেদিনের কথা গোপন রাখা হয়েছে। সেদিনের অপেক্ষায় অনেক পাপের শাস্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।

পঞ্চম আয়াতে বলা হয়েছে, যেদিন কেয়ামত কায়েম হবে সেদিন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলার সুযোগ পাবে না। সাহসও পাবে না। নিজের পাপের জন্য ব্যাখ্যা দেওয়ারও কোনো সুযোগ থাকবে না। কারণ সেদিন সব কিছু প্রকাশ্য ও প্রত্যক্ষ অবস্থায় থাকবে। কোনো কিছুই অপ্রকাশ্য থাকবে না। মানুষের শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ কথা বলবে। নিজেদের অপকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য