kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘এখন বিএনপির মুখে কথা নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘এখন বিএনপির মুখে কথা নেই’

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি বলেছেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপি এখন ঘুমিয়ে আছে। তাদের বলা হলো আপনারা জামায়াতকে বাদ দিয়ে আসুন।

এখন আর তাদের কোনো জবাব নেই। তারা এখন আর ঐক্যের কথা বলে না। তার মানেই হচ্ছে, বিএনপি দেশের ভালো চায় না। দেশের শান্তি চায় না। চাইবেই বা কী করে! ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাস তারা আন্দোলন-সংগ্রামের নামে দেশের নিরীহ-নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। তারাই এখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিচ্ছে। দেখি কারা তাদের ডাকে সাড়া দেয়? কেউ দেবে না। যুদ্ধাপরাধী দল সঙ্গে রেখে বিএনপি কোনো প্রগতিশীল দলের সমর্থন পেতে পারে না। ’ শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো ‘কেমন বাংলাদেশ চাই’-এ আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক সেলিম ওমরাও খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন বেসরকারি সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপি রাজনীতিতে নতুন করে আলোচিত হয়েছে। প্রায় দুই মাস হলো তারা এখনো এ বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক কোনো সমাধানে আসতে পারেনি। আগামী দিনেও যে তারা এ বিষয়ে কোনো সমাধান বা বাস্তবভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ আনতে পারবে তা মনে হচ্ছে না। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিএনপি আগে অনেকবার নিয়েছে। কিন্তু তাদের সেই উদ্যোগ হালে পানি পায়নি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু যখনই তাঁদের বলা হলো আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে আসুন তখন তাঁরা মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছেন। তাঁরা আর কোনো জবাব দিতে পারছেন না।

এ পর্যায়ে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিএনপির ওই উদ্যোগ ভালো ছিল। এখন তাদের ডাকে কেউ সাড়া না দিলে বিএনপির কিছু করার নেই। বিএনপি ডাক দিয়েছে। তাদের ডাকে কে আসবে আর কে আসবে না—এটা অন্যের ওপর নির্ভর করে। এখন জামায়াতকে ছাড়া যদি বিএনপি চলতে না পারে সেটা বিএনপির নিজস্ব বিষয়। এ নিয়ে অন্য দলগুলোর না ভাবলেও চলবে। তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই। গুলশানে ক্যাফেতে হামলার ঘটনা সমগ্র জাতিকে স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত করেছে। এ বিষয়ে আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বক্তব্য দিয়েছেন। ’ তাঁর কথার সুরে সুর মিলিয়ে আমি বলতে চাই এখন সবচেয়ে যে জিনিসটি বেশি প্রয়োজন তা হলো ভয়াবহ সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধ করার জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। বিএনপি আগামী দিনে কিভাবে তাদের রাজনৈতিক দর্শন এগিয়ে নেবে—এটাই দেখার বিষয়। ”

ড. বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, জঙ্গিবাদ কারো বন্ধু হতে পারে না, তা মানবতার শত্রু। এ নিয়ে রাজনীতি করলে তার পরিণতি ভালো হবে না। জঙ্গিবাদ নিরসনে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কাজ করছে না। শুধু শক্তি প্রয়োগ করে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করা যাবে না। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে এবং জঙ্গিদের মতের বিপক্ষে সুচিন্তিত ও বিকল্প ন্যারেটিভ বা প্রস্তাবনা দাঁড় করাতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে তাদের মত ঠিক নয়। জঙ্গিবাদের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা নিজেদের নির্যাতিত মনে করে। এ ছাড়া আমাদের বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে, যা জঙ্গিবাদ উত্থানের পেছনে উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করছে। ’


মন্তব্য