kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী

রাজনীতিক ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্ম ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) ও বিসিএল ডিগ্রি লাভ করেন।

লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল সম্পন্ন করে ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯২১ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা ও পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকেছেন। ১৯২৪ সালে কলকাতা করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন এক প্রতিভাবান রাজনৈতিক সংগঠক। প্রধানত তাঁর সাংগঠনিক শক্তির সুবাদেই তত্কালীন ভারতের মোট ১১টি প্রদেশের মধ্যে মুসলিম লীগ শুধু বাংলায় সাফল্য অর্জন করে। ১৯৩৭-১৯৪৩ সালে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে তিনি সমগ্র প্রদেশে দলকে সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনিই ছিলেন বাংলায় মুসলিম লীগের স্থপতি।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহরাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ দল গঠনে তিনি কলকাতা থেকে তাঁর পূর্ববঙ্গীয় সমর্থকদের পরামর্শ ও সাহস জুগিয়েছেন। সোহরাওয়ার্দী একজন বাস্তববাদী রাজনীতিক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। বিভাগপূর্বকালে বাংলার মুসলমানদের পশ্চাত্পদতার কারণে তিনি তাদের জন্য পৃথক নির্বাচনের একজন গোঁড়া সমর্থক ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে একটি সাধারণ জাতীয়তা গড়ে তোলার জন্য যৌথ নির্বাচনের পক্ষে মত দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে এ-সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য