kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

কেয়ামতের দিন ফেরাউন তার জাতির অগ্রভাগে থাকবে

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কেয়ামতের দিন ফেরাউন তার জাতির অগ্রভাগে থাকবে

৯৮. ফেরাউন কেয়ামতের দিন তার জাতির অগ্রভাগে থাকবে। সে তাদের নিয়ে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে।

যেখানে তারা প্রবেশ করবে, তা কত নিকৃষ্ট স্থান। (সুরা : হুদ, আয়াত : ৯৮)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, ফেরাউনের কার্যকলাপ ভালো ছিল না। এর পরও তার জাতি তাকে অনুসরণ করতে থাকে। এ আয়াতে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন ফেরাউন তার দলবল নিয়ে দোজখে যাবে। সে তার জাতির অগ্রভাগে থাকবে। কোরআনের অন্য আয়াত থেকে জানা যায়, কেয়ামতের দিন সব যুগের পাপীরা নিজ নিজ নেতার সঙ্গে দোজখে যাবে। আল্লাহ বলেন, ‘স্মরণ করো সেই দিনকে, যেদিন আমি সব জাতিকে তাদের নেতাসহ ডাকব। ’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ৭১)

কেয়ামত হচ্ছে এই দুনিয়ার প্রতিবিম্ব। এই জগতে যে যেমন কাজ করবে, কেয়ামতের দিন হুবহু তারই প্রতিফল পাবে। আল্লাহ বলেন, ‘কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে সে তা দেখতে পাবে। আর কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে তা-ও সে দেখতে পাবে। ’ (সুরা : জিলজাল, আয়াত : ৭-৮)

এমনকি অনেক পাপের শাস্তি দুনিয়ায় দিয়ে দেওয়া হয়। এক শ্রেণির মানুষের বদ্ধমূল ধারণা হলো, পাপের সাজা কেবল পরকালেই দেওয়া হয়। অথচ কোরআন ও হাদিসের বহু স্থানে স্পষ্ট করে বলা আছে, পাপাচারের শাস্তি দুনিয়ায়ও পেতে হয়। এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘(আখিরাতের) গুরু শাস্তির আগে (দুনিয়ায়ও) তাদের আমি লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে। ’ (সুরা : সাজদা, আয়াত : ২১)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের যে বিপদাপদ ঘটে, তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আল্লাহ তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন। ’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ৩০)

হজরত মুসা (আ.) প্রায় ২০ বছর মিসরে অবস্থান করে সেখানকার অধিবাসীদের হেদায়েতের পথে আহ্বান করতে থাকেন। এ সময় আল্লাহ তাআলা তাঁকে ৯টি মোজেজা দান করেছিলেন। ফেরাউন ও তার বিভ্রান্ত জাতির ওপর আল্লাহ তাআলা একের পর এক বালা-মুসিবত ও আজাব প্রেরণ করেন। কিন্তু তারা সেসব দেখেও সতর্ক হয়নি। সর্বশেষ ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সাগরে ডুবিয়ে মারা হয়েছে।

বিপদাপদের ফেরাউনি ব্যাখ্যা

ফেরাউন ও তার অনুসারীরা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এলে এর জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করত না। তারা এটাকে নিজেদের প্রাপ্য বলে দাবি করত। আর দুর্দিন এলে এর দায়ভার ইমানদারদের ওপর চাপিয়ে দিত। বস্তুবাদীরাও বিপদাপদকে মনে করে ‘আকস্মিক দুর্ঘটনা’, ‘জীবনসংগ্রামের অংশ’ কিংবা ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়’। এসব বিপদাপদ এমন আকস্মিকভাবে ঘটে যে কেউ তা আগে থেকে অনুমান করতে পারে না। আসলে তাদের ওপর বিভিন্ন আজাব আসে তাদের পাপাচারের প্রতিফল হিসেবে। কিন্তু পাপীরা সে বোধটুকুও হারিয়ে ফেলে। তারা তাদের বিপদাপদের যথার্থ কারণ নির্ণয় করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। সুখ ও দুঃখ দিয়ে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করার পর কাফিরদের চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়াই আল্লাহর রীতি। তাই আল্লাহ তাআলা অব্যাহত অবকাশ দেওয়ার পর পরিশেষে প্রবল ক্ষমতাধর ফেরাউনকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। ফেরাউন ও তার জাতির নির্মিত ভোগবিলাসের সব উপকরণ, বড় বড় দালানকোঠা, ফলমূলের বাগান—সবই নিমেষে ধ্বংস হয়ে গেছে। এরপর হজরত মুসা (আ.) তাঁর সঙ্গী ইমানদারদের নিয়ে ফেরাউন ও তার স্বজনদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য