kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

আল কোরআনে মুসা (আ.) ও ফেরাউনের প্রসঙ্গ

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আল কোরআনে মুসা (আ.) ও ফেরাউনের প্রসঙ্গ

৯৬. আমি মুসাকে প্রেরণ করি আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট সনদসহ।

৯৭. (পাঠিয়েছিলাম) ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে।

তবু তারা (ফেরাউনের জাতি) ফেরাউনের নির্দেশমতো চলতে থাকে। অথচ ফেরাউনের কোনো কথা ন্যায়সংগত ছিল না (তার কার্যকলাপ ভালো ছিল না)। (সুরা : হুদ, আয়াত : ৯৬-৯৭)

তাফসির : আগের অনেক আয়াতে হজরত নুহ, হুদ, সালেহ ও শোয়াইব (আ.) সম্পর্কে আলোচনা ছিল। আলোচ্য দুই আয়াত থেকে হজরত মুসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনা সংক্ষেপে আলোকপাত করা হয়েছে। আল্লাহর আজাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীর আদি ছয়টি জাতির মধ্যে ফেরাউনের জাতি অন্যতম। ফেরাউন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআনের ২৭টি সুরায় ৭৫টি স্থানে আলোচনা করেছেন। এটি কোরআনে সর্বাধিক আলোচিত বিষয়। এর উদ্দেশ্য হলো, যাতে ফেরাউনের চরিত্র ও তার জুলুমের পদ্ধতি পাঠকদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় আর এ যুগের নব্য ফেরাউনরা যেন এ বিষয়ে সতর্ক হয়। এর একটি কারণ এটাও যে মুসা (আ.)-এর অলৌকিক ক্ষমতা অন্য নবীদের তুলনায় বেশি ছিল। আবার তাঁর জাতি বনি ইসরাইলের মূর্খতা ও হঠকারিতার ঘটনাবলিও ছিল বিগত উম্মতগুলোর তুলনায় অধিক আলোচিত। কোরআনে ফেরাউনের আলোচনা বারবার করার মাধ্যমে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে যুগে যুগে ভিন্ন ভিন্ন নামে ফেরাউনরা আসবে। ইমানদারদের ওপর তাদের জুলুমের ধারা ও বৈশিষ্ট্য প্রায় একই রকম হবে; যদিও পদ্ধতি পরিবর্তিত হবে।

‘ফেরাউন’ কোনো ব্যক্তির নাম নয়। এটি তৎকালীন মিসরের সম্রাটদের উপাধি। কিবতি বংশীয় এই সম্রাটরা কয়েক শতাব্দীব্যাপী মিসর শাসন করেছেন। এ সময় মিসর সভ্যতা-সমৃদ্ধির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিল। লাশ মমি করা, পিরামিড তৈরি প্রভৃতি তাদের সময়কার বৈজ্ঞানিক উন্নতির প্রমাণ বহন করে। হজরত মুসা (আ.)-এর সময় পরপর দুজন ফেরাউন ছিল। লুইস গোল্ডিংয়ের তথ্য অনুযায়ী জালিম ফেরাউনের নাম ছিল দ্বিতীয় রামাসিস। আর ডুবে মরা ফেরাউন ছিল তার পুত্র মানেপতাহ বা মারনেপতাহ। লোহিত সাগরসংলগ্ন তিক্ত হ্রদে সে সসৈন্যে ডুবে মারা যায়। যার মমি ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয়। সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিম তীরে ‘জাবালে ফেরাউন’ নামে একটি ছোট পাহাড় আছে। এখানেই ফেরাউনের লাশ সর্বপ্রথম পাওয়া যায় বলে জনশ্রুতি আছে। এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকার নিবন্ধে বলা হয়েছে, থেবস নামক স্থানের সমাধি মন্দিরে ১৮৯৬ সালে একটি স্তম্ভ আবিষ্কৃত হয়। এর মধ্যে মারনেপতাহর আমলের কীর্তিগুলো লিপিবদ্ধ ছিল। তারপর ১৯০৬ সালে ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ স্যার ক্রাঁফো ইলিয়ট স্মিথ মমিগুলো খুলে মমীকরণের কলাকৌশল অনুসন্ধান শুরু করেন। তিনি ৪৪টি মমি পরীক্ষা করেন। অবশেষে ১৯০৭ সালে তিনি ফেরাউন মারনেপতাহর লাশ শনাক্ত করেন। ওই সময় তার লাশের ওপর লবণের একটি স্তর জমেছিল। এটি দেখে সবাই স্তম্ভিত হয়ে যান। এর কারণ হলো, অন্য কোনো মমির দেহে এরূপ পাওয়া যায়নি। এ লবণের স্তর যে সাগরের লবণাক্ত পানি, তা বলাই বাহুল্য। এ গবেষণার মধ্য দিয়ে সুরা ইউনুসের ৯২ নম্বর আয়াতের বক্তব্য দুনিয়াবাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।   সেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আজ আমি তোমার দেহকে (বিনষ্ট হওয়া থেকে) বাঁচিয়ে দিলাম, যাতে তুমি পরবর্তীকালের মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারো। ’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৯২)

ফেরাউনের লাশ আজও মিসরের পিরামিডে রক্ষিত আছে। এটি দেখে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য