kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ

বিশ্ববিখ্যাত সংগীতজ্ঞ আলাউদ্দিন খাঁর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে এক সংগীত পরিবারে ১৮৮১ সালে। তাঁর বাবা সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁও ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ।

মা সুন্দরী বেগম। তাঁর সংগীতগুরু ছিলেন আগরতলা রাজদরবারের সভাসংগীতজ্ঞ তানসেনের কন্যাবংশীয় রবাবী ওস্তাদ কাশিম আলী খাঁ। বাল্যকালে অগ্রজ ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁর কাছে সংগীতে তাঁর  হাতেখড়ি। পরে  কলকাতা গিয়ে তিনি সংগীতসাধক গোপালকৃষ্ণ ভট্টাচার্য ওরফে নুলো গোপালের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সাত বছর পর নুলো গোপালের মৃত্যু হলে আলাউদ্দিন কণ্ঠসংগীতের সাধনা ছেড়ে যন্ত্রসংগীত সাধনায় নিযুক্ত হন। স্টার থিয়েটারের সংগীত পরিচালক অমৃতলাল দত্ত ওরফে হাবু দত্তের কাছে তিনি বাঁশি, পিকলু,  সেতার, ম্যান্ডোলিন, ব্যাঞ্জো ইত্যাদি দেশি-বিদেশি  বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখেন। ১৯১৮ সালে মাইহারের রাজা ব্রিজনারায়ণ আলাউদ্দিন খাঁকে নিজের সংগীতগুরুর আসনে অধিষ্ঠিত করলে তিনি মাইহারে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বেরিলির পীরের প্রভাবে তিনি যোগ, প্রাণায়াম ও ধ্যান শেখেন। এভাবে জীবনের একটা বড় অংশ আলাউদ্দিন খাঁ শিক্ষার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন। ১৯৩৫ সালে তিনি নৃত্যশিল্পী উদয়শঙ্করের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। তিনিই ভারতীয় উপমহাদেশের রাগসংগীতকে সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যের শ্রোতাদের কাছে পরিচিত করান। তিনি নৃত্যাচার্য উদয়শঙ্কর পরিচালিত নৃত্যভিত্তিক ‘কল্পনা’ শীর্ষক একটি ক্ল্যাসিকধর্মী ছায়াছবিতে আবহসংগীতে সরোদ পরিবেশন করেন।

আলাউদ্দিন খাঁ সরোদে বিশেষত্ব অর্জন করেন। সহজাত প্রতিভাগুণে তিনি সরোদবাদনে ‘দিরি দিরি’ সুরক্ষেপণের পরিবর্তে ‘দারা দারা’ সুরক্ষেপণ-পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। সেতারে সরোদের বাদনপ্রণালি প্রয়োগ করে সেতারবাদনেও তিনি আমূল পরিবর্তন আনেন। এভাবে তিনি সংগীত জগতে এক নতুন ঘরানার প্রবর্তন করেন, যা ‘আলাউদ্দিন ঘরানা’ বা শ্রেণি ‘মাইহার ঘরানা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

তিনি ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মভূষণ’, ‘পদ্মবিভূষণ’ ও ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই সুরস্রষ্টার মৃত্যু হয়।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য