kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

অবাধ্য মাদিয়ানবাসীর ওপর ভয়াবহ আজাব

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অবাধ্য মাদিয়ানবাসীর ওপর ভয়াবহ আজাব

৯৪. যখন আমার নির্দেশ এলো, তখন আমি শোয়াইব ও তার সঙ্গী ইমানদারদের নিজ রহমতে রক্ষা করেছিলাম। তারপর যারা সীমা লঙ্ঘন করেছিল মহানাদ তাদের আঘাত করে।

ফলে তারা নিজ নিজ গৃহে নতজানু অবস্থায় পড়ে রইল।

৯৫. (সে স্থানের বর্তমান অবস্থা এমন) যেন তারা সেখানে কখনোই বসবাস করেনি। জেনে রেখো, ধ্বংসই ছিল মাদিয়ানবাসীর পরিণাম, যেভাবে ধ্বংস হয়েছিল সামুদ জাতি। (সুরা : হুদ, আয়াত : ৯৪-৯৫)

তাফসির : আগের আয়াতে অবাধ্য মাদিয়ানবাসীর আজাবের অপেক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। আলোচ্য দুই আয়াতে তাদের ওপর অবতীর্ণ হওয়া আজাব সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। মাদিয়ানবাসী শেষ পর্যন্ত অন্যান্য উদ্ধত ও অবাধ্য জাতির মতো ধ্বংস হয়েছিল। তাদের মৃত্যু হয় মর্মন্তুদভাবে। এ আজাব তারা নিজেরাই ত্বরান্বিত করেছিল। হজরত শোয়াইব (আ.)-এর শত উপদেশ উপেক্ষা করে তাঁর জাতির নেতারা অন্যায়-অপরাধে অনড় থাকে। তারা তাঁকে জনপদ থেকে বের করে দেওয়ার ও হত্যা করার হুমকি দেয়। হঠকারিতা করে তারা নিজেরাই আল্লাহর আজাব প্রত্যক্ষ করতে চায়। একপর্যায়ে সেই আজাব তাদের গ্রাস করে ফেলে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর চিরন্তন বিধান অনুযায়ী শোয়াইব (আ.) ও তাঁর ইমানদার সঙ্গীদের ওই জনপদ থেকে অন্যত্র নিরাপদে সরিয়ে নিলেন। তারপর জিবরাইল (আ.)-এর এক গগনবিদারী নিনাদে অবাধ্য জাতির সবাই নিমেষে ধ্বংস হয়ে যায়। মাদিয়ানবাসীর ওপর আজাবের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে তিন ধরনের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যার অর্থ মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, বিকট নিনাদ, ভূমিকম্প। হজরত ইবনে আমর (রা.) বলেন, মাদিয়ানবাসীর ওপর প্রথমে সাত দিন এমন ভীষণ গরম চাপিয়ে দেওয়া হয় যে তারা দহন জ্বালায় ছটফট করতে থাকে। তারপর আল্লাহ তাআলা একটি ঘন কালো মেঘমালা পাঠিয়ে দেন, যার নিচ দিয়ে শীতল বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। তখন ওই জাতির লোকেরা ঊর্ধ্বশ্বাসে সেখানে দৌড়ে যায়। এভাবে সবাই সমবেত হওয়ার পর হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হয়। আর মেঘমালা থেকে অগ্নিবৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। তাতে তারা পোকামাকড়ের মতো পুড়ে ছাই হতে থাকে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) উল্লেখ করেছেন, তাদের ওপর প্রথমে প্রচণ্ড গরম নেমে আসে। এতে অস্থির হয়ে তারা চিৎকার শুরু করে। কিছুক্ষণের ব্যবধানে নগরের বাইরে আকাশে মেঘ দেখা দেয়। তখন ঠাণ্ডা বাতাস বইছিল। জনপদের সবাই দ্রুত শহর ছেড়ে সেখানে গিয়ে জড়ো হয়। হঠাৎ সেই মেঘ থেকে আগুন ঝরতে শুরু করে। এ পরিস্থিতিকেই ‘মেঘাচ্ছন্ন দিন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরই ভূমিকম্প শুরু হয়।

মক্কা থেকে সিরিয়া যাওয়ার পথে এসব ধ্বংসস্থল এখনো দেখা যায়। মহানবী (সা.) যখন এসব স্থান অতিক্রম করতেন, তখন আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে পড়তেন ও সওয়ারি দ্রুত হাঁকিয়ে নিয়ে স্থান অতিক্রম করতেন। ইতিহাস সাক্ষী, অসংখ্য জনপদ আল্লাহর নাফরমানির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। এর পরও খুব কম মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়।

পরে শোয়াইব (আ.) তাঁর ইমানদার সঙ্গীদের নিয়ে মক্কায় চলে যান। সেখানেই তাঁরা মৃত্যুবরণ করেন। কাবাগৃহের পশ্চিম দিকে তাঁদের কবরস্থ করা হয়। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 


মন্তব্য