kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

মাদার তেরেসা

জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে যিনি ঈশ্বরকে খুঁজেছেন, কুষ্ঠ রোগীর শুশ্রূষাকালেও যিনি ভেবেছেন ঈশ্বরেরই সেবা করা হচ্ছে—তিনি মাদার তেরেসা। তাঁর পারিবারিক নাম অ্যাগনেস গনজা বয়াজু। সন্ন্যাসজীবনে তেরেসা নামটি নেওয়া হয়। জন্ম ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট বর্তমান মেসিডোনিয়ার রাজধানী স্কোপিয়েতে। তবে তিনি সন্ন্যাসজীবন গ্রহণের তারিখ ২৭ আগস্টকেই জন্মদিন মানতেন। তাঁর যখন আট বছর বয়স, রাজনীতিবিদ বাবার মৃত্যু হয় এবং মা ছোট অ্যাগনেসকে রোমান ক্যাথলিক আদর্শে বড় করবেন বলে ঠিক করেন। মিশনারিদের কর্মজীবন ভালো লেগে যাওয়ায় তেরেসা ১২ বছর বয়সে ধর্মীয় জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ১৮ বছর বয়সে তিনি ‘সিস্টার্স অব লরেটো’ সংস্থায় যুক্ত হন। পরের বছর সংগঠন তাঁকে ধর্মসেবার কাজে ভারতে পাঠায়। ১৯৩১ সালে প্রথম, তারপর ১৯৩৭ সালে কলকাতায় কনভেন্ট স্কুলে পড়ানোর সময় চূড়ান্তভাবে তিনি সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করেন। উপমহাদেশে মন্বন্তর ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু তাঁকে বিচলিত করেছিল।

১৯৪৮ সালের ১৭ আগস্ট কনভেন্ট ছেড়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন, ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য হাত পাতেন দ্বারে দ্বারে। ১৯৫০ সালে গড়েন ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’, সংগঠনটি আজ বিশ্ববিস্তৃত। বাংলাদেশে আর্তমানবতার সেবায় তিনি বারবার পাশে দাঁড়িয়েছেন। একাত্তর সালে বাংলাদেশে এসে তিনি নির্যাতিত নারী ও অনাথ শিশুদের জন্য গড়ে তোলেন চ্যারিটি মিশন। এসেছিলেন ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পরও। ১৯৭৯ সালে তাঁকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়। নোবেল পুরস্কারের অর্থ পেয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ভালোই হলো, এই টাকায় ফুটপাতের মানুষগুলোর জন্য কিছু করা যাবে। ’ প্রায় ৮০০টি পুরস্কার পেয়েছিলেন জীবনকালে। ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর চিরমানবতাবাদী এই মহীয়সীর মৃত্যু হয়।


মন্তব্য