kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

অবাধ্য মাদিয়ানবাসীর আজাবের অপেক্ষা

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অবাধ্য মাদিয়ানবাসীর আজাবের অপেক্ষা

৯৩. শোয়াইব (আ.) বললেন, হে আমার জাতি! তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় কাজ করে যাও, আমিও আমার কাজ করছি। শিগগিরই তোমরা জানতে পারবে, কার ওপর আসবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি, আর কে মিথ্যাবাদী।

সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করছি।

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, শোয়াইব (আ.)-এর জাতি তাঁর দরদভরা আহ্বানের বিপরীতে তাঁকে হত্যার হুমকি দেয়। তারা বলতে থাকে, তোমার স্বজনরা না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতাম। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, তাদের কঠোর মনোভাবের কারণে হজরত শোয়াইব (আ.) নিশ্চিত হলেন যে এই জাতি কখনো ইমান আনবে না। তিনি অবাধ্য জাতিকে উদ্দেশ করে বললেন, তোমাদের যা খুশি, তা-ই করতে থাকো। আমিও আমার পথে চলছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রমাণিত হবে কারা সত্য পথে চলছে আর কারা মিথ্যা কথা বলছে। তবে এটা মনে রাখবে, আমি আমার স্বজন-পরিজনের ওপর নির্ভর করি না যে তাদের খাতিরে তোমরা আমার অনিষ্ট করবে না। আমি একমাত্র বিশ্ব স্রষ্টা আল্লাহর ওপর নির্ভর করি, যিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।

মাদিয়ানের জমিন ছিল অত্যন্ত উর্বর। ওই অঞ্চলের মানুষ সে সময়ে উন্নত জীবনের অধিকারী ছিল। তাদের অর্থ-সম্পদের কোনো অভাব ছিল না। তার পরও তারা ওজনে কম দিত। অন্যায়ভাবে মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করত। অন্য সব নবী-রাসুলের মতো শোয়াইব (আ.)ও প্রথমে তাদের তাওহিদ ও একত্ববাদের দাওয়াত দেন। তাঁর জাতি এক আল্লাহকে মেনে নেয়নি। নবী হিসেবে তাঁরও অনুসরণ করেনি। এমনকি তারা বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে আরো বেশি অর্থ-সম্পদ উপার্জনেই ব্যস্ত থাকে। শোয়াইব (আ.) ছিলেন শ্রেষ্ঠতম সুবক্তা। তাঁর মর্মস্পর্শী বক্তৃতা তাদের হৃদয়ে রেখাপাত করেনি। উল্টো তাদের দাম্ভিক নেতারা বলতে থাকে, ‘হে শোয়াইব! আমরা অবশ্যই তোমাকে ও তোমার সঙ্গী ইমানদারদের শহর থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের ধর্মে প্রত্যাবর্তন করবে। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮৮)

তারা আরো বলল, ‘নিঃসন্দেহে তুমি জাদুগ্রস্তদের অন্যতম। তুমি আমাদের মতোই একজন মানুষ। আমাদের ধারণা, তুমি অবশ্যই মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোনো টুকরা আমাদের ওপর ফেলে দাও। ’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ১৮৫-১৮৭)

শোয়াইব (আ.) তখন নিরাশ হয়ে তাঁর জাতিকে বললেন, ‘আমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপকারী হয়ে যাব যদি আমরা তোমাদের ধর্মে ফিরে যাই। অথচ আল্লাহ আমাদের তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। ওই ধর্মে ফিরে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে যদি আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ সেটা চান। আমাদের পালনকর্তা নিজ জ্ঞান দিয়ে সব কিছু বেষ্টন করে আছেন। তাই আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করলাম। ’ তারপর তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বললেন, ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ও আমাদের জাতির মধ্যে তুমি যথার্থ ফয়সালা করে দাও। তুমিই তো শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮৯)

এরপর শোয়াইব (আ.) নিজ জাতির কাছ থেকে বিদায় নিলেন। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, “সে তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, ‘হে আমার জাতি! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বার্তা পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের উপদেশ দিয়েছি। (এর পরও ইমান না আনলে) আমি কাফিরদের জন্য আর কিভাবে সহানুভূতি দেখাব। ’” (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৩)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য