kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

শোয়াইব (আ.)-এর জাতির অপরাধ

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শোয়াইব (আ.)-এর জাতির অপরাধ

৯১. তারা [শোয়াইব (আ.)-এর জাতি] বলল, ‘হে শোয়াইব! তুমি যা বলো, তার অনেক কথাই আমরা বুঝি না। আমরা তো তোমাকে আমাদের মধ্যে দুর্বলই দেখছি।

তোমার স্বজনরা না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতাম। আর আমাদের ওপর তুমি শক্তিশালী নও। ’

৯২. সে [শোয়াইব (আ.)] বলল, ‘হে আমার জাতি! তোমাদের কাছে কি আমার স্বজনরা আল্লাহর চেয়ে বেশি শক্তিশালী? আর এ জন্যই কি তোমরা তাঁকে (ভুলে গিয়ে) পেছনে ফেলে রেখেছ? নিশ্চয়ই তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে আমার প্রতিপালক অবগত রয়েছেন। ’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৯১-৯২)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, হজরত শোয়াইব (আ.) তাঁর জাতিকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেনি। মাদিয়ানবাসীদের প্রতি শোয়াইব (আ.)-এর উপদেশ কোনো কাজে আসেনি। উপরন্তু তারা তাঁকে হত্যার হুমকি দেয়। তারা অবজ্ঞা করে বলতে থাকে, ‘হে শোয়াইব! তুমি যা বলো তার অনেক কথাই আমরা বুঝি না। আমরা তো তোমাকে আমাদের মধ্যে দুর্বলই দেখছি। তোমার স্বজনরা না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতাম। ’ এর জবাবে শোয়াইব (আ.) অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘হে আমার জাতি! তোমাদের কাছে কি আমার স্বজনরা আল্লাহর চেয়ে বেশি শক্তিশালী? আর এ জন্যই কি তোমরা তাঁকে (ভুলে গিয়ে) পেছনে ফেলে রেখেছ?’ অর্থাৎ তোমাদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা। তিনি পৃথিবীর সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি কাউকে শাস্তি দিতে চাইলে পৃথিবীর কোনো ক্ষমতা, কোনো শক্তি তা রোধ করতে পারবে না। শোয়াইব (আ.)-এর জাতি বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। প্রথমত, তারা আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে উদাসীন হয়ে গিয়েছিল। তারা আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে শরিক করেছিল। দুনিয়াবি ধনৈশ্বর্যে ডুবে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তারা মাপ ও ওজনে কম দিত। তৃতীয়ত, তারা দুনিয়ায় ফ্যাসাদ ও অনর্থ সৃষ্টি করে বেড়াত। চতুর্থত, তারা রাস্তার মোড়ে মোড়ে চৌকি বসিয়ে লোকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করত। মাদিয়ানবাসীদের আরেকটি দুষ্কর্ম ছিল, তারা প্রচলিত স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার পার্শ্ব থেকে সোনা ও রুপার কিছু অংশ কেটে রেখে সেগুলো বাজারে চালিয়ে দিত। পঞ্চমত, তারা ছিল অকৃতজ্ঞ জাতি। একসময় তারা ছিল অভাবগ্রস্ত। আল্লাহ তাআলা তাদের অভাবমুক্ত করেছেন। তার পরও তারা আল্লাহর অবাধ্য হয়। তাদের অকৃতজ্ঞতার বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘স্মরণ করো, তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের বংশ বৃদ্ধি করে তোমাদের একটি বিরাট জাতিতে পরিণত করেছেন। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮৬)

ষষ্ঠত, তারা বলত, ‘ইমানদাররা যদি ভালো ও সৎ হয়, আর আমরা কাফিররা যদি মন্দ হই, তাহলে আমাদের উভয় দলের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা এমন কেন? কাফিররা অপরাধী হলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের শাস্তি দিতেন। কিন্তু আমরা দেখছি দুনিয়ায় কাফিররা বেশি সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী। ’ এর জবাবে শোয়াইব (আ.) বলেন, ‘অপেক্ষা করো, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৮৭)

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহ ও কৃপায় পাপীদের অবকাশ দিয়ে থাকেন। তারপর তারা যখন চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায় তখন সত্য ও মিথ্যার ফয়সালা হয়ে যায়। তোমাদের অবস্থাও অনুরূপ হবে। নির্ধারিত সময়ে অবিশ্বাসী ও পাপীদের ওপর আল্লাহর চূড়ান্ত আজাব নাজিল হবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য