kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ

আবদুল মান্নান

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগের কথা। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর ফলে নির্বাচিত সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা সংবিধানে প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোট ধুয়া তুলল, তারা এ ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনে যাবে না। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের পূর্বশর্ত হচ্ছে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে, না হলে দেশে আগুন জ্বলবে। একই আওয়াজ তুললেন লন্ডনে অবস্থানরত বেগম জিয়ার পলাতক পুত্র তারেক রহমান। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জামায়াত-বিএনপি জোটের একদল অনুগত বুদ্ধিজীবীও দাবি জানালেন, জামায়াত-বিএনপিকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনটা হোক। আওয়ামী লীগপ্রধান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী উত্তরে জানালেন, সংবিধান ঠিক রেখে তা তো সম্ভব নয়। তিনি এমনও প্রস্তাব দিলেন নির্বাচনকালে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হোক, সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটাও বিএনপি নিক, তার পরও সাংবিধানিক উপায়ে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের অধীনেই নির্বাচন হোক। নাহ, অটল জামায়াত-বিএনপি জোট। তারা সঙ্গে পেল এ দেশের বেশ কিছু মিডিয়া। এসব কিছুতে বলীয়ান হয়ে এই জোট দেশের নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে পেট্রলবোমা যুদ্ধ শুরু করল। প্রতিদিন আগুনে পুড়ে মারা পড়ছে নিরীহ মানুষ। শিশু, মহিলা, রোগী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, ডাক্তার, ঘরে ফেরা কেরানি, অবুঝ গবাদি পশু, বাদ গেল না কিছু। শেখ হাসিনা ফোন করলেন বিএনপিপ্রধান ও পেট্রলবোমা যুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বেগম জিয়াকে। বললেন, ‘আসুন, আমরা মিলেমিশে একটি নির্বাচন করি। আপনারা মন্ত্রিসভায় যে কয়টি পদ চান, তা দিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। ’ বেগম জিয়া শেখ হাসিনার এই আমন্ত্রণ তো গ্রহণ করলেনই না, বরং তাঁকে চরমভাবে অপমান করলেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এলেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার তারানকো। পৃথকভাবে বৈঠক করলেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের  নেতৃত্বের সঙ্গে। দেখা করলেন শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়ার সঙ্গে। একটা সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন তেমন খবর মিডিয়ায় প্রকাশিত হলো। শেখ হাসিনাকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী রেখে নির্বাচন হতে পারে। বেগম জিয়া বললেন কখনোই না। ভেস্তে গেল সব কিছু। পেট্রলবোমা যুদ্ধ অব্যাহত থাকল। এ সময় খোদ আওয়ামী লীগের ভেতরেও কিছু নেতা-নেত্রীর মধ্যে দ্বিধা দেখা দিল। কারো কারো শঙ্কা হলো, এসব অরাজকতাকে পুঁজি করে আবার কোনো তৃতীয় শক্তি না ক্ষমতা দখল করে। বেগম জিয়া তো প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দখলের আমন্ত্রণই জানালেন। অবিচল থাকলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। সব বাধা উপেক্ষা করে জামায়াত-বিএনপির বয়কটের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচন হলো। জামায়াত-বিএনপিকে তাদের কোনো কোনো বিদেশি বন্ধু আশ্বাস দিল, হয়ে যাক এই নির্বাচন। বছর না ঘুরতেই শেখ হাসিনা আরেকটা নির্বাচন দিতে বাধ্য হবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নতুন কিছু নয়। কিন্তু তার জন্য কারণ থাকতে হবে। তেমন পরিস্থিতিতে একটা মধ্যবর্তী নির্বাচন না হলে বিরোধী দল গণ-আন্দোলনের মুখে তা দিতে ক্ষমতাসীন দল বা জোটকে বাধ্য করে। কিন্তু জামায়াত-বিএনপি জোটের এমনই দুর্ভাগ্য যে তাদের পেট্রলবোমা যুদ্ধের কারণে তারা জনগণ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তারা বুঝতে অক্ষম ছিল যে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আর যা-ই হোক গণ-আন্দোলন সম্ভব নয়। তাদের বিদেশি বন্ধু এবং সুহৃদরা এরই মধ্যে বুঝে গেছে যে বিএনপি-জামায়াতকে দিয়ে বাংলাদেশে আর কোনো গণ-আন্দোলন সম্ভব নয়। তাদের সামনে এও পরিষ্কার যে বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে এই দেশে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। আর জামায়াত এখন অস্তিত্বের সংকটের মুখে। সময়-সুযোগ বুঝে এখন তাদের ক্যাডাররা এবিটি বা হিযবুত তাহ্রীরের মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ভেতর ঢুকে পড়ছে আর সুযোগ পেলে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রাণ হারাচ্ছে। আর যখন হান্নান শাহর মতো বিএনপি নেতারা বলেন, সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে যেসব জঙ্গি প্রাণ হারাচ্ছে তাদের বেশির ভাগই তাঁদের কর্মী, তখন তাঁদের বিদেশি বন্ধুদের বুঝতে অসুবিধা হয় না বিএনপির কোনো ভবিষ্যৎ নেই, বরং শেখ হাসিনার সঙ্গেই মিত্রতাটা ঝালাই করে নিই। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্বের সব পরাশক্তির জন্য এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ দেখা গেল, যেসব দেশ শেখ হাসিনার সরকারের নাম শুনলেই অস্বস্তি বোধ করত, তাদের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকরা ছুটে আসছেন বাংলাদেশে।

এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি অনেকটা সবার অগোচরে ঘটে গেল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে প্রত্যাহার করা বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ঢাকায় ফিরে আসার মাধ্যমে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন সরকারি দল জামায়াতের বড় মিত্র ও সমর্থক। সে দেশের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি আর জামায়াতের মতাদর্শগতভাবে মিল আছে অনেকটা। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিচার শুরু হলে এরদোয়ান নিজে চিঠি লিখে এই বিচার বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন। একটি প্রতিনিধিদল এসে ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়াও দেখে গেল। মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি হলে ঢাকা ছাড়লেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত। এরই মধ্যে সে দেশে ঘটে গেল একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান। অবকাশ যাপন থেকে এরদোয়ান ফিরে এসে ঢাকায় তাঁর নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ফেরত পাঠালেন। এসে রাষ্ট্রদূত সাংবাদিক ডেকে বললেন, তুরস্ক-বাংলাদেশ ভাই ভাই, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আর কোনো চিন্তা নাই। এসব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। গত মে মাসে জাপানে অনুষ্ঠিত হলো ধনী দেশগুলোর জি-৭ সামিট। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হলো কী জাদুমন্ত্রবলে তিনি বাংলাদেশকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তাঁর কাছ থেকে তা শোনার জন্য। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শেখ হাসিনা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনের কাহিনী শোনালেন বিশ্বনেতাদের। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রশংসিত হলো তাঁদের কাছে। ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান ঘটনার পর বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজের কিছুটা হলেও ক্ষতি হয়েছে। এই দেশে কর্মরত বিদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিক কারণেই বিচলিত হলেন কেউ কেউ। জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, যদিও তাঁদের সাতজন নাগরিক ঘাতকদের হাতে নিহত হয়েছেন, তথাপি বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের সহযোগিতার হাত আগের মতো প্রসারিত থাকবে। ইংল্যান্ড ক্রিকেট টিম বাংলাদেশে খেলতে আসার কথা রয়েছে এ মাসেই। নিরাপত্তার বিষয়টা সামনে চলে আসায় এ সফর নিয়ে দেখা দিল অনিশ্চয়তা। লন্ডন থেকে উড়ে এলেন তাঁদের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। ফিরে গিয়ে জানিয়ে দিলেন নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট। ইংল্যান্ড দল যথাসময়ে খেলতে আসবে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে যুক্তরাষ্ট্র বেশ বেজার থাকে। সামরিক জান্তা বা তাদের সমর্থিত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বেশ পছন্দ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এ দেশে তাদের রাষ্ট্রদূতরা সব সময় নানা পরামর্শ দিয়ে সরকারকে অস্বস্তিতে রাখেন। নিয়মিত বিরতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটে কারণে-অকারণে বাংলাদেশ বিষয়ে শুনানি হয়। সেখানে বাংলাদেশ থেকে উড়ে যান কট্টর আওয়ামী লীগবিরোধী সুধী ব্যক্তিরা। সঙ্গে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিছু ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী। একই রকম অর্থহীন শুনানি হয় যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসে। বাংলাদেশে আসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিষয়ক সিনেট কমিটিতে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কিছু মন্তব্যও করলেন। সেই বার্নিকাট এখন বলছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ২৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ররি স্টুয়ার্ট দুই দিনের সফরে এলেন বাংলাদেশে। নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের ক্ষমতা গ্রহণের পর এটাই ব্রিটেনের কোনো মন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন তিনি। বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার ব্রিটেন। অনেককে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশে এক দিনের সফরে ২৯ তারিখ ঢাকায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। কেরি সাহেব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বাংলাদেশ তথা শেখ হাসিনা সরকারের ওপর বেশ বিরক্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসি না দিতে জোর দাবি জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা তাঁর সিদ্ধান্তে অবিচল থেকেছেন। কেরির ঢাকা সফর বেশ গুরুত্বপূর্ণ নানা কারণে। ঢাকা সফরকালে তিনি ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের সেই ঐতিহাসিক বাড়িটিতে গেলেন, যেখানে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে ঘাতকরা সপরিবারে হত্যা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তির এই ঐতিহাসিক বাড়িতে প্রথম আগমন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের স্তবক দিয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে শ্রদ্ধা জানালেন কেরি। সেখানে তিনি ৪০ মিনিট অবস্থান করেছেন। শুনেছেন সেই কালরাতের ঘটনার বিবরণ। মন্তব্য খাতায় লিখেছেন বঙ্গবন্ধুকে কাপুরুষের মতো হত্যা বিরাট ট্র্যাজেডি। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সাহসী ও উজ্জ্বল এক নেতৃত্বকে কেড়ে নেওয়া হয়। হয়তো কেরি সাহেব জানেন না সেই কালরাতের ঘটনায় তাঁর দেশ কতটুকু নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন তাঁরই কন্যার দৃঢ় ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকা ছাড়ার আগে বললেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। প্রয়োজনে জঙ্গি মোকাবিলায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে লড়াই করবে। ২০০২ সালে তত্কালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কেরি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বললেন, তাঁর দেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের তিনি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করবেন। পড়ন্ত বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন অনেকটা যেচে গিয়ে জন কেরির সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছে নালিশ করলেন শেখ হাসিনার সরকার তাঁর ব্র্যান্ডের গণতন্ত্রচর্চায় তাঁকে বাধা দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন। ১০ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট আসছেন বাংলদেশে। চীনা প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও ২০০২ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক সুদৃঢ়। পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রজেক্ট এখন তাঁদের হাতে। কথা আছে, আগামী দিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বাংলাদেশে আসবেন।

বিদেশি অতিথিদের বাংলাদেশে এত ঘন ঘন আসা-যাওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জন কেরির এই সফর তো বটেই। এ অঞ্চলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান কৌশলগতভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকলে ভারত মহাসাগরের ওপর নজরদারি বাড়ানো যায়। বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আত্মপ্রকাশ করবে। ১৬ কোটি মানুষের দেশের এত বিশাল বাজারের দিকে সবার নজর থাকাটা স্বাভাবিক। তার জন্য চাই একটি স্থিতিশীল সরকার। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে বহির্বিশ্ব বুঝে গেছে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো। শেখ হাসিনার পক্ষে বাংলাদেশে অনেক কিছুই করা সম্ভব। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক। শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে পারলে সবারই লাভ। হতে পারে সেটা যুক্তরাষ্ট্র অথবা ভারত বা চীন।

 

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক


মন্তব্য