kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

নবীরা শত বাধা সত্ত্বেও দায়িত্ব থেকে পিছপা হননি

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নবীরা শত বাধা সত্ত্বেও দায়িত্ব থেকে পিছপা হননি

৮৮. সে [শোয়াইব (আ.)] বলল, ‘হে আমার জাতি! তোমরা ভেবে দেখো, আমি যদি আমার প্রতিপালক প্রেরিত স্পষ্ট নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি যদি তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে উত্কৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করে থাকেন, তবে কী করে আমি আমার কর্তব্য থেকে বিরত থাকব? আমি তোমাদের যা নিষেধ করি, নিজে তা করতে চাই না। আমি আমার সাধ্যমতো সংস্কার করতে চাই।

আমার কার্যসাধন তো আল্লাহরই সাহায্যে। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী। ’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৮৮)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, শোয়াইব (আ.)-এর দরদভরা সুললিত বক্তব্যের জবাবে তাঁর জাতি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও তাচ্ছিল্য শুরু করে। তাদের আচরণের জবাবে হজরত শোয়াইব (আ.) বললেন, আমি তোমাদের সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহারের ব্যাপারে বারণ করেছি তোমাদের সংশোধন করার জন্য। সমাজ সংস্কার করাই আমার উদ্দেশ্য। এটি হিংসা বা সংকীর্ণতার বশবর্তী হয়ে নয়। আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছেন সুস্পষ্ট প্রমাণসহ। আমি আমার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একমাত্র তাঁরই ওপর নির্ভর করি। তোমরা গ্রহণ করো বা না করো, আমি কখনো আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করতে পারব না।

হজরত শোয়াইব (আ.) কাফিরদের তিরস্কারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাদের বললেন, যদিও আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ, তার পরও আমি নবুয়তের যে দাবি নিয়ে এসেছি, তার পক্ষে সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে। আমাকে মুজেজা বা অলৌকিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমি যা বলছি, তা আমার কথা নয়। আমি কেবল ওহির অনুসরণ করি। মহান আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। তিনি নবুয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করেছেন। তবে আমি কোনো বিশ্বাস তোমাদের ওপর চাপিয়ে দেব না। ধর্মবিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়া যায় না। চাপিয়ে দেওয়া বিশ্বাস আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা আল্লাহ মানুষকে বিবেকবুদ্ধি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। বিবেকবুদ্ধি কাজে লাগিয়ে প্রত্যেকে নিজ নিজ পথ ও মত ঠিক করে নেবে। নবী বা নবীদের প্রতিনিধিরা কাউকে ইমান আনতে বাধ্য করেন না। নবীদের দায়িত্ব কেবল আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কাউকে ইমান আনতে বাধ্য করা নবীদের দায়িত্ব নয়। তাইতো মহানবী (সা.)-কে সম্বোধন করে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি উপদেশ দাও। তুমি তো একজন উপদেশদাতা। তুমি তাদের কর্মনিয়ন্ত্রক নও। ’ (সুরা : গাশিয়া, আয়াত : ২১-২২)

হজরত শোয়াইব (আ.) একটি সম্ভ্রান্ত গোত্রের ব্যক্তি ছিলেন। নবী হওয়া ছাড়াও তিনি পার্থিব সম্পদে সমৃদ্ধিশালী ছিলেন। বেশির ভাগ নবীই নিজ নিজ যুগের সম্ভ্রান্ত বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন। শোয়াইব (আ.)-এর জাতি ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মীয় বিধিবিধান মানতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তারা বৈষয়িক জীবনে ধর্মীয় বিধিনিষেধ মানতে রাজি ছিল না। তারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে মূর্তিপূজার প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল।

এ আয়াত থেকে আরো জানা যায়, শোয়াইব (আ.) তাঁর জাতির সঙ্গে আপস করেননি। আল্লাহর নবীরা শত বাধা সত্ত্বেও নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছপা হননি। তাই নবীদের উত্তরাধিকারীদের উচিত হলো অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করা। শত বাধা ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে আপসহীনভাবে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। সমাজ সংস্কারককে সব সময় স্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে। তাঁকে অবশ্যই ধৈর্যশীল ও সমাজদরদি হতে হবে। জাগতিক প্রতিদানের আশাবাদী হওয়া চলবে না। সব বিষয়ে আল্লাহর তাওফিক কামনা করতে হবে। প্রতিদান চাইতে হবে কেবল তাঁরই কাছে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য