kalerkantho

26th march banner

ব্যক্তিত্ব

ফজলুর রহমান খান

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

ফজলুর রহমান খান একজন বিশ্বখ্যাত স্থপতি। তিনি এফ আর খান নামেই বেশি পরিচিত। ফরিদপুরের ভাণ্ডারীকান্দি গ্রামে ১৯২৯ সালের ৩ এপ্রিল তাঁর জন্ম। বাবা শিক্ষাবিদ খান বাহাদুর আবদুর রহমান খাঁ। ফজলুর রহমান খান আরমানিটোলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে দাঙ্গার কারণে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকার আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বাকি পত্রগুলোর পরীক্ষা দেন। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে কলেজে অধ্যাপকের পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে পিএইচডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেকানিকসে এমএস করেন। দেশে ফিরে সরকারি চাকরিতে যুক্ত হলেও মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্কিড মোরের ডাকে ফের যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং কম্পানির শিকাগো অফিসের পরিচালক হন। এরই সঙ্গে আমেরিকা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির স্থাপত্যকলার অধ্যাপক পদে কাজ করেন। গগনচুম্বী ‘সিয়ার টাওয়ার’-এর নকশা তাঁরই করা। ইঞ্জিনিয়ারিং নিউজ রেকর্ডে পাঁচবার তিনি ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। ‘নিউজ উইক’ তাঁকে মার্কিন স্থাপত্যের ‘ম্যান অব দ্য টপ’ নির্বাচিত করে। তাঁর কাজের মধ্যে আরো রয়েছে হ্যানকর সেন্টার (১০০ তলা), জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হজ টার্মিনালের ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তনের বৃহত্তম ছাদ ও মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশা তৈরি। মুসলিম স্থাপত্য নিয়ে তিনি নানা গবেষণা করেছেন। ‘টিউব ইন টিউব’ নামে নতুন ধরনের স্থাপত্যশিল্প তিনি উদ্ভাবন করেন। গগনচুম্বী ভবনের ওপর সাত খণ্ডে প্রকাশিত বইয়ের সম্পাদক তিনি। বিশ্বের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর ছিল অসামান্য অবদান। ১৯৮২ সালের ২৬ মার্চ তিনি জেদ্দায় মারা যান।

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য