kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা ও সমাপ্তি ঘটান

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা ও সমাপ্তি ঘটান

৩৪. মুশরিকদের জিজ্ঞাসা করো, ‘তোমরা যাদের (আল্লাহর সঙ্গে) শরিক করো তাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে সৃষ্টির সূচনা করে এবং পরে তার পুনরাবর্তন ঘটায়?’ বলে দাও, ‘কেবল আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন এবং পরে এর পুনরাবর্তন ঘটান। ’ সুতরাং তোমরা কিভাবে সত্য থেকে ফিরে যাচ্ছ? (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৩৪)

তাফসির : আগের আয়াতগুলোতে রিজিক বিষয়ে বর্ণনা ছিল।

সেখানে বলা হয়েছিল, একমাত্র আল্লাহই রিজিক দান করেন। রিজিক দানের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। মুশরিকরাও এ কথা বিশ্বাস করে। তার পরও মুশরিকরা উপাসনার ক্ষেত্রে আল্লাহর সঙ্গে দেব-দেবীকে শরিক করে। আলোচ্য আয়াতেও মুশরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি খণ্ডন করা হয়েছে। সৃষ্টির সূচনা, সমাপ্তি ও পুনরাবর্তন বিষয়ে বর্ণনা করে এখানে একত্ববাদের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। এরই সঙ্গে পরকালের অস্তিত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই আয়াতে বলা হয়েছে, বিশ্ব প্রকৃতির দিকে গভীরভাবে মনোনিবেশ করলে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে বিশ্বজগতের সৃষ্টি এবং এর পুনরাবর্তনের সামর্থ্য আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। তিনি এক ও একক সত্তা। তাঁর কোনো শরিক নেই। গোটা সৃষ্টিকে তিনিই অস্তিত্ব দান করেছেন। প্রতিমা ও দেব-দেবী মানুষের তৈরি। কাজেই এসব বিশ্বজগতের নিয়ন্তা হতে পারে না।

মহান আল্লাহ জগতের সব কিছু সৃষ্টি করে ছেড়ে দেননি। তিনি সৃষ্টিজগতে বিশেষ নিয়ম নির্ধারণ করেছেন। গোটা সৃষ্টিজগেক স্বাভাবিক গতিধারায় চলার জন্য তিনি সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

মানুষ যে দেব-দেবী তৈরি করে, তা কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। কাউকে প্রতিপালন করতে পারে না। বিপদে কাউকে সাহায্য ও রক্ষা করতে পারে না। কোনো সৃষ্টিকে পুনরাবর্তন ঘটাতে পারে না। তাই সেগুলো উপাস্য হতে পারে না।

সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে মুশরিকরাও স্বীকার করে, এটা একমাত্র আল্লাহরই কাজ। তাঁর সঙ্গে তারা যাদের শরিক করে তাদের কারো এ কাজে কোনো অংশ নেই। আর সৃষ্টির পুনরাবৃত্তির ব্যাপারটিও সুস্পষ্ট। অর্থাৎ প্রথমে যিনি সৃষ্টি করেন তাঁর পক্ষেই দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা সম্ভব। কিন্তু যে প্রথমবারই সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি, সে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করবে কিভাবে? আর যখন জীবনের সূচনা আল্লাহর হাতে এবং জীবনের সমাপ্তি আল্লাহর হাতে, তখন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করার সুযোগ কোথায়?

পৃথিবীতে যত পাপ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ও বড় পাপ হচ্ছে শিরক। শিরক সবচেয়ে বড় পাপ হওয়ার কারণ হলো, এটি মহান আল্লাহর অস্তিত্ব ও শক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই আল্লাহ কিছুতেই এই অপরাধ সহ্য করেন না। এ পৃথিবীতে যত নবী-রাসুল এসেছেন, তাঁদের প্রধান কাজ ছিল শিরক উত্খাত করে তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা। একত্ববাদের ভিত্তিতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। তাই তাঁদের সবাই আজীবন সর্বশক্তি প্রয়োগ করে শিরক মূলোৎপাটনের চেষ্টা করেছেন। সমাজের সর্বস্তরে তাওহিদ ও একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। বর্তমানে সমাজের সর্বস্তরে শিরকের জয়জয়কার চলছে। শিরক যেন একটি মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ শিরকের মতো অপরাধকে হালকা জ্ঞান করতে শুরু করেছে। ফলে অহরহ তারা অগণিত শিরক করলেও তাদের মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ নেই। এ বিষয়ে সত্যপন্থীদের দাওয়াতের কার্যক্রম জোরদার করার বিকল্প নেই।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য