kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


‘নিরাপদে কেন্দ্রে যেতে দিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



‘নিরাপদে কেন্দ্রে যেতে দিতে হবে’

স্থানীয় কিংবা জাতীয় যেকোনো নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যেতে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, আগে যেখানে শুধু জাতীয় নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হতো, সেখানে এখন তৃণমূলের নির্বাচনও দলীয় ভিত্তিতে হচ্ছে। এ কারণে সংঘর্ষ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ভোটকে কেন্দ্র করে গত এক মাসে ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যেটা আমাদের কারোরই কাম্য নয়। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উৎসবের সেই আমেজ নেই। সর্বত্রই যেন কেবল বিষাদ ছড়িয়েছে। প্রথম ভোটার হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের কাছে ভোট মানে উৎসব নয়, পরিণত হয়েছে আতঙ্কে। প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও রক্তপাতের কমতি হয়নি। ভোটগ্রহণের সময় রাজধানীর কেরানীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আটজন নিহত হয়েছে। কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, বিরোধীপক্ষের এজেন্টকে মারধর, বোমাবাজির মতো ঘটনা ঘটেছে প্রায় প্রতিটি জেলায়ই। শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে দলের নেতাকর্মীরাই। দুই পক্ষই যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়ায় ভোট উৎসব পরিণত হয়েছে ভোট আতঙ্কে। শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সমসাময়িক ভিশন নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো আর্টঅ্যান্ডটপ পূর্বাপরে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক নিগার সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শামসুল আরেফিন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বেশির ভাগ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হলেও কিছু এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি নির্বাচনকে ম্লান করেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন নির্বাচন ‘সুষ্ঠু হয়েছে’ দাবি করলেও বিএনপি ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচনকে ‘প্রহসনের’ নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের ভূমিকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দ্বিতীয় ধাপের এ নির্বাচনে ৭৯টি ইউপিতে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। নির্বাচন ‘সুষ্ঠু হবে না’ এমন অভিযোগ এনে বেশ কয়েকজন ভোট বর্জন করেছেন। ৩১টিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন হয়। ওই দিন সহিংসতায় ১১ জন নিহত হয়। দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে চরবাউড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বেশি বেশি আতঙ্ক ছড়াবে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

আলোচনার এ পর্যায়ে ড. শামসুল আরেফিন বলেন, জাতীয় কিংবা স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই হেরে যাওয়া দল বিজয়ীদের স্বাগত জানায় না। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বিজয়ীরা দেশ চালান। নব্বইয়ের পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশে যেসব নির্বাচন হয়েছে সেগুলো মোটামুটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। কিন্তু ২০১৪-এর ‘৫ জানুয়ারি’র নির্বাচনের পর জাতীয় থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ক্রমেই গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে বলে মনে করছেন নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে সদ্য অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার হিড়িক যেমন পড়েছে, তেমনি সহিংসতাও বেড়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধারার নির্বাচন ভবিষ্যতে নির্বাচনী ব্যবস্থায় আস্থাহীনতার সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন অনেকে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন বিবৃতিনির্ভর প্রতিষ্ঠান, যা হওয়ার হয়ে যাচ্ছে। এরপর সন্ধ্যার সময় একটা বিবৃতি দিয়ে কমিশন তাদের দায়িত্ব সারছে। এর মাধ্যমে আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতির যে একটা ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছিল সেটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সামনের দিনে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে সংসদীয় রাজনীতিতে পথচলা বাংলাদেশ গত আড়াই দশকে (১/১১ বাদে) নির্বাচনী সংস্কৃতিতে মোটামুটি গ্রহণযোগ্যতার একটি মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলা যায়। তবে সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনের পর সেই ধারা ভেঙে পড়ছে।

আলোচনার এ পর্যায়ে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিকে কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইতিবাচক ভাবমূর্তি নিয়ে যাত্রা শুরু হয় রকিব কমিশনের। এর পর থেকে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচন নিয়ে ক্রমেই প্রশ্ন উঠতে থাকে। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কমিশনের সমালোচনা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে খোদ আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এইটা কেমন নির্বাচন কমিশন! লড়েও না, চড়েও না। ’ নির্বাচন নিয়ে আরো অনেকে কথা বলছেন। তবে আমাদের কথা হলো, নির্বাচন কমিশনকে আরো ক্ষমতাশালী হয়ে কাজ করতে হবে। না হলে নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ”


মন্তব্য