kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

শহীদ সাবের

সাংবাদিক, লেখক, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। প্রকৃত নাম এ কে এম শহীদুল্লাহ।

সাবের নামে লেখালেখি করতেন। জন্ম ১৯৩০ সালের ১৮ ডিসেম্বর কক্সবাজারের ঈদগাঁ গ্রামে। বাবা সালামতউল্লাহ এবং মা শফিকা খাতুন। ঈদগাঁ প্রাইমারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু। পরে কলকাতায় গিয়ে হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন। দেশভাগের পর তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিক পাস করে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে আইএ ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের মুসলিম লীগ সরকার কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের ব্যাপকভাবে গ্রেপ্তার শুরু করলে ১৯৫০ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৫১ সালে তিনি রাজশাহী সেন্ট্রাল জেল থেকে আইএ পাস করেন। চার বছর অন্তরিন থাকার পর ১৯৫৪ সালে তিনি ছাড়া পান। পরের বছর জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। এরপর ঢাকার ওয়েস্ট অ্যান্ড হাই স্কুলে কিছুকাল সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পর তিনি দৈনিক সংবাদ-এর সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন। স্কুলজীবনেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছিলেন। কলকাতার পার্ক সার্কাসের বালুহক্কাক লেনে ‘ছোটদের আসর’ নামে একটি সংগঠন ছিল। সাবের ছিলেন এর লাইব্রেরিয়ান। এ সময় তিনি ‘ছন্দশিখা’ নামের একটি দেয়াল পত্রিকার সম্পাদনা করেন। ম্যাট্রিক পাসের পর তিনি চট্টগ্রামে ‘মুকুল ফৌজ’ আন্দোলনে যুক্ত হন। কলেজেও প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৫৮ সালের শেষ দিকে সাবেরের মানসিক বৈকল্য ঘটে। আর সুস্থ হননি। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কারাগারে বসে লেখা দিনলিপি ‘আরেক দুনিয়া থেকে’, গল্প সংকলন ‘এক টুকরো মেঘ’ (১৯৫৫), শিশুসাহিত্য ‘ক্ষুদে গোয়েন্দার অভিযান’ (১৯৫৫), অনূদিত গ্রন্থ ‘ইসকাপনের বিবি’, ‘পাগলের ডায়েরি’, ‘কালো মেয়ের স্বপ্ন’ প্রভৃতি। ১৯৮১ সালে ‘শহীদ সাবেরের রচনাবলি’ প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমি থেকে। সাবের সংবাদ অফিস ভবনেই থাকতেন। ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ সকালে পাকিস্তানি সেনারা সংবাদ অফিস পুড়িয়ে দিলে তিনি আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭২ সালে (মরণোত্তর) তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য