kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

আল্লাহর কাছে একদিন ফিরে যেতে হবে

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আল্লাহর কাছে একদিন ফিরে যেতে হবে

৩০. সেদিন প্রত্যেকে যাচাই করে নিতে পারবে, যা সে এর আগে করেছিল। তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, আর তাদের উদ্ভাবিত মিথ্যা (উপাস্য) তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাবে (সরে পড়বে)।

(সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৩০)

তাফসির : আগের দুটি আয়াতে শিরকের অসারতা ও মুশরিকদের অসহায়ত্ব বর্ণনা করা হয়েছিল।

আলোচ্য আয়াতেও একই প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। এ আয়াতে কেয়ামতের দিনের একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। কেয়ামতের দিন প্রত্যেকেই নিজ নিজ কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত হবে। মৃত্যুর পরই মানুষ তার কৃতকর্ম সম্পর্কে মোটামুটিভাবে জানতে পারবে। তবে কেয়ামতের দিন বিস্তারিতভাবে, এমনকি ছোট ছোট আমলও মানুষের চোখের সামনে উদ্ভাসিত হবে।

সেদিন কেউ কারো কাজে আসবে না, উপকার করার সামর্থ্য কারো থাকবে না। দেব-দেবীর মূর্তি সেদিন কোনো কাজে আসবে না। সবাইকে প্রকৃত প্রতিপালক আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে।

দুনিয়ার জীবনের সব কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। সেদিন সবাইকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে। সত্কর্মশীলদের জান্নাত দান করা হবে। আর পাপীদের পাঠানো হবে জাহান্নামে।

ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক হলো সবচেয়ে বড় গুনাহ। আল্লাহ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাঁর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করা ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্য যত পাপ আছে তা যাকে ইচ্ছা (বিনা শাস্তিতেই) ক্ষমা করে দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করে সে মহা-অপরাধে অপরাধী হয়ে যায়। ’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৮)

পরকালে পাপাচারী মুসলমানরা নবী-রাসুলদের সুপারিশের মাধ্যমে উপকৃত হবে। কিন্তু মুশরিকের ক্ষেত্রে কারো সুপারিশই কোনো কাজে আসবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো কাজে আসবে না। ’ (সুরা : মুদ্দাসিসর, আয়াত : ৪৮)

শিরককারীদের জন্য মহানবী (সা.)ও সুপারিশ করবেন না। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সব নবীর জন্য একটি করে দোয়া আছে, যা অবশ্যই কবুল করা হয়। সব নবীই আগেভাগে সে দোয়া করে ফেলেছেন। আর আমি আমার দোয়া গোপন রেখেছি কেয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফায়াতের (সুপারিশ) জন্য। সেটি শিরককারী ছাড়া ইনশাআল্লাহ আমার সব উম্মতই পাবে। ’ (মুসলিম শরিফ : হা. ১৯৯)

শিরকের কয়েকটি দিক

কোরআন ও হাদিসে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে যেসব বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে, সেসব বিশ্বাস সৃষ্টিজগতের কারো জন্য পোষণ করাই হলো শিরক। যেমন—জ্ঞানের ক্ষেত্রে কাউকে আল্লাহর শরিক করা। কোনো মনীষী বা পীরের ব্যাপারে এমন বিশ্বাস পোষণ করা যে আমাদের যাবতীয় অবস্থা সম্পর্কে তিনি সর্বদা অবহিত। কোনো জ্যোতিষ-পণ্ডিতের কাছে অদৃশ্যের খবর জিজ্ঞেস করা। বিপদাপদে পীর বা অন্য কাউকে ডাকা এবং সঙ্গে সঙ্গে এ কথা বিশ্বাস করা যে তিনি আমার ডাক শুনছেন। কাউকে উপকার বা ক্ষতিসাধনের অধিকারী মনে করা। কারো কাছে কোনো উদ্দেশ্য যাচনা ও প্রার্থনা করা। কারো কাছে সন্তান-সন্ততি প্রার্থনা করা। আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করা। কারো নামে কোনো পশু মুক্ত করা (ছেড়ে দেওয়া)। কারো নামে মানত করা। কারো কবর, মাজার কিংবা বাড়িঘরের তাওয়াফ করা। কারো সামনে রুকু বা সিজদা করার মতো অবনত হওয়া। পার্থিব কাজ-কারবারকে নক্ষত্রের প্রভাব বলে বিশ্বাস করা। কোনো মাসকে অশুভ মনে করা—এগুলো সবই শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য