kalerkantho


‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেছেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ধর্ম নিয়ে যারা রাজনীতি করতে চাচ্ছে তারা মানুষকে ধর্মের নামে প্রভাবিত করে।

আইন করে ধর্মের রাজনীতি বন্ধ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এর ক্ষতিকর প্রভাবও জানাতে হবে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই মামলা চালানোর এখতিয়ার রিটকারীদের নেই এই মর্মে রিটটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। এই আদেশের ফলে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম সংবিধানে বহাল থাকল। আইনের প্রতি সবার শ্রদ্ধা আছে। তবে রাজনৈতিক বিষয়গুলো আইনে জড়ানো সঠিক হবে না।

সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে মুনতাসির মামুন এ কথা বলেন। সাংবাদিক মুজতবা দানেশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক সাংবাদিক শ্যামল দত্ত ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে বা চলছে।

আজ যে এত বড় রায় হয়ে গেল এটি নিয়ে সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি ছিল সুপ্রিম কোর্টের দিকে। রায়ে রিট খরিজ করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আগে থেকেই ছিল। এখন সেটা থাকবে কি না তা নিয়ে ছিল রিট। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন।

জবাবে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, আদালতের বিষয় নিয়ে আমরা কোনো কথা বলতে চাই না। তবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটির নিশ্চয়ই বিশেষ গুরুত্ব ছিল। আর এ জন্যই সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি ছিল সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের দিকে। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে ১৯৭১ সালে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে পরিবর্তন আনা হলো। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে নানা ধর্ম বিশ্বাসের মানুষ বাস করে। কিন্তু এখানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্যান্য ধর্মকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক। তার ২৩ বছর পর রিট আবেদনকারীপক্ষ ২০১১ সালের ৮ জুন একটি সম্পূরক আবেদন করে। তার প্রাথমিক শুনানি করে সেদিনই বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের তত্কালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল দিয়েছিলেন। রুলে সংবিধানের ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ২(ক) অন্তর্ভুক্তি কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এসব রুলের ওপর হাইকোর্টে বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির জন্য গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আবেদন করা হয়। পরে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। সেই ধারাবাহিকতায় ২৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটি কার্যতালিকায় আসে। আজ এই রায়ে চূড়ন্ত হলো যে রিট চলবে না। এখন আদালত যা ভালো মনে করেছেন সে অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। আমাদের এখন সেটাই মেনে চলতে হবে।

আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক বলেন, আদালত দুজন মন্ত্রীকে সাজা দিয়েছেন। তাঁদের যদি শপথ ভঙ্গ না হয়ে থাকে তবে মন্ত্রিত্ব থাকতে সমস্যা কোথায়। এ দুজন মন্ত্রী ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁরা এখন রায়ের পর কী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

জবাবে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত বলেন, আদালতে সরকারের দুই মন্ত্রীর দণ্ডিত হওয়ার নজির সৃষ্টিকারী রায়ের পর মন্ত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। দণ্ডিত মন্ত্রীদ্বয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ‘বিশেষ কোনো সিদ্ধান্ত’ না এলে পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সোমবার সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকের প্রতি আকর্ষণ ছিল সবার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে হওয়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক মন্ত্রী। এ ছাড়া আইনমন্ত্রী তো বলেছেন, তাঁদের সাজা হলেও তাঁরা শপথ ভঙ্গ করেননি। তাই এখন বিষয়টি সরকার ভালো বলতে পারবে।


মন্তব্য