kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।

ব্যক্তিত্ব

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

উত্পল দত্ত

নাট্যকার, অভিনেতা, নির্দেশক উত্পল দত্ত ১৯২৯ সালের ২৯ মার্চ বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এ দেশের পলিটিক্যাল থিয়েটারের প্রবর্তক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বিএ অনার্স পাস করেন। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে অধ্যয়নকালেই তিনি নিজ নাট্যদল ‘দ্য শেকসপিয়ারিয়ানা’ গঠন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জিওফ্রে কেন্ডালের আমন্ত্রণে ‘শেকসপিয়ারিয়ানা ইন্টারন্যাশনাল’-এ তিনি পেশাদার অভিনেতা হিসেবে যোগ দেন এবং নানা দেশ ভ্রমণ করেন। কর্মজীবনে তিনি কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন (১৯৫৩-৫৯) করেন। ১৯৫৯ সালে ‘মিনার্ভা’ থিয়েটারে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে ‘পিপলস লিটল থিয়েটার’ প্রতিষ্ঠা করেন। ষাটের দশকে দেশহিতৈষী পত্রিকায় ‘এক প্রবন্ধ লেখার জন্য ভারত রক্ষা আইনে তিনি কারারুদ্ধ হন। মার্ক্সীয় দৃষ্টিভঙ্গির রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তাঁর রচনাসমৃদ্ধ। ‘ছায়ানট’ (১৯৫৮), ‘অঙ্গার’ (১৯৫৯), ‘ফেরারী ফৌজ’ (১৯৬০), ‘টিনের তলোয়ার’ (১৯৭১) ইত্যাদি তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক। কৌতুক অভিনেতা হিসেবেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। তিনি ‘গুড্ডি’, ‘গোলমাল’, ‘শৌখিন’ ইত্যাদি চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনেতার চরিত্রে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘হীরক রাজার দেশে’, ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ ও ‘আগন্তুক’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া বাংলা পথনাটকের অগ্রদূত হিসেবেও তাঁকে গণ্য করা হয়। উত্পল দত্ত নাটককে গণমানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। গণমানুষের রাজনৈতিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করতে তাঁর নাটক সেই সময় বিশেষ অবদান রাখে। তিনি পদ্মভূষণ উপাধি ও সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার দুটিই প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৯৩ সালের ১৯ আগস্ট তিনি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য