kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

পরকালে পাপের সমপরিমাণ আজাব দেওয়া হবে

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পরকালে পাপের সমপরিমাণ আজাব দেওয়া হবে

২৭. যারা মন্দ কাজ করে তাদের প্রতিফলও অনুরূপ মন্দ। অপমান তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলবে। আল্লাহর কাছ থেকে তাদের কোনো রক্ষাকারী নেই। যেন তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে দেওয়া হয়েছে আঁধার রাতের টুকরো দিয়ে। এরা হলো দোজখবাসী। সেখানে তারা (অনন্তকাল) স্থায়ী হবে। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৭)

তাফসির : আগের আয়াতে জান্নাতবাসীদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, নেককারদের যথাযথ প্রতিদান দেওয়া হবে। ভালো কাজের প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। সে ধারাবাহিকতায় আলোচ্য আয়াতে জাহান্নামবাসীদের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এই আয়াতে বলা হয়েছে যে মন্দ কাজের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ। যারা খারাপ কাজ করে তারা তাদের কৃতকর্মের সমপরিমাণ প্রতিফল ভোগ করবে।

পাপ করার কারণে মানুষের আত্মা আল্লাহর নূর থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে পদে পদে তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়। পাপাচারী মনোভাব তাদের অন্তরের প্রশান্তি কেড়ে নেয়। সিদ্ধান্তহীনতা তাদের চিত্তকে অস্থির করে তোলে। অদৃশ্য ভয় তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। সঠিক কথা বলা, সৎ পথে চলার মানসিক শক্তি তারা হারিয়ে ফেলে। তাদের পাপের দরুন দুনিয়ায়ও কখনো কখনো আজাব আসে। এই আজাব তাদের জন্য সতর্ক সংকেত। আল্লাহ বলেন, ‘গুরু শাস্তির আগে আমি তাদের অবশ্যই লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা ফিরে আসে। ’ (সুরা : সাজদা, আয়াত : ২১)

এই শাস্তির পরও তারা যদি হেদায়েতের পথে ফিরে না আসে, তাহলে পরকালে তাদের জন্য কঠিন শাস্তি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সে শাস্তি থেকে পৃথিবীর কোনো শক্তি তাদের রক্ষা করতে পারবে না। অনেকে সত্য ও সঠিক পথ চেনার সুযোগ পায়; কিন্তু পারিপার্শ্বিক কারণে দ্বীনের পথে চলা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। ধর্মের পথে চলতে, দ্বীনের কথা বলতে তারা অপমান বোধ করে। তারা জানে না, কেয়ামতের ময়দানের অপমানই চূড়ান্ত অপমান। পৃথিবীর আদি-অন্ত সব মানুষের সামনে সেদিন তাদের অপরাধী হিসেবে দাঁড়াতে হবে। বৈষয়িক খ্যাতি, অর্থবিত্ত, সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভাব সেদিন কোনো কাজে আসবে না। অপমানে তাদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে। যেন তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে দেওয়া হয়েছে আঁধার রাতের টুকরো দিয়ে। আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে ধূলিধূসর। অন্ধকার সেগুলোকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে। তারাই কাফির ও পাপাচারী। ’ (সুরা : আবাসা, আয়াত : ৪০-৪২)

অর্থ-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, দুনিয়ার বন্ধুত্ব সেদিন তাদের কোনো উপকারে আসবে না। আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন (কেয়ামতের দিন) ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না। সেদিন উপকৃত হবে কেবল সে, যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আসবে। ’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ৮৮-৮৯)

ওপরে উল্লিখিত আয়াতের ‘মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ’ বাক্যটি খুবই তাত্পর্যবহ। এখানে আল্লাহর ন্যায়বিচারের নীতি ফুটে উঠেছে। আল্লাহর ন্যায়বিচার অত্যন্ত সূক্ষ্ম। অন্যায় ও অসৎ কাজের শাস্তি ততটুকুই হবে যতটুকু অসৎ ও অন্যায় কাজ সে করেছে। তার থেকে একচুলও বেশি বা কম নয়। দুনিয়ায় একাধিক হত্যার অপরাধে মাত্র একবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায়। কিন্তু পরকালে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে। কেননা সে জীবন অনন্তকালের। তাই সে মৃতপ্রায় হয়ে যাওয়ার পর আবার তাকে জীবিত করে অন্য অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

অন্যদিকে যে ভালো কাজ করে, মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করে তার পুরস্কার তার কাজের সমপরিমাণ নয়, প্রতিদান তার কাজের পরিমাণকে ছাড়িয়ে যাবে। পুণ্যের প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য