kalerkantho


‘আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়বে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়বে’

সর্বোচ্চ আদালতে ক্ষমতাসীন দলের দুই মন্ত্রীর সাজার রায়ে আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। তিনি বলেছেন, এই রায়ের মাধ্যমে মানুষের কাছে সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা আরো সমুন্নত হলো। যাঁরা একসময় বলতেন যে আইনের শাসন সেভাবে নেই তাঁরা এখন এ বিষয়ে এমন কোনো কথা বলতে পারবেন না। আদালতের স্বাধীনতা আরো একবার প্রমাণিত হলো। আর এখন এই দুই মন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেই ভালো। কারণ আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁরা মন্ত্রী পদে থাকার নৈতিকতা হারিয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হয়ে এখন মন্ত্রিত্বে দায়িত্ব পালন করলে দেশের মানুষই বা কী বলবে? অতএব, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগেই তাঁদের পদত্যাগ করা উচিত। অবশ্য তাঁরা এখন দায়িত্ব পালন করবেন কি না তা সরকারপ্রধানই নির্ধারণ করবেন। রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো আকিজ সিমেন্ট মুক্তবাক অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক রাহুল রাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. সা’দত হুসাইন ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে জেড আই খান পান্না বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও তাঁদের আইনজীবীরা। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর সাংবিধানিক রিভিউ করবেন কি না সে বিষয়টি ভাবছেন তাঁরা। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা এলে রায় পর্যন্ত অপেক্ষা নাও করতে হতে পারে। মন্তব্য জানতে চাইলে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অবশ্য বলেছেন, ‘এখনো আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হয়নি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। ’ তাঁর আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার বলেছেন, ‘এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে চিন্তা করব। ’ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম নিজে কোনো মন্তব্য না করে তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দেন। এ মামলায় কামরুল ইসলামের আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, ‘দেখেন, সরকার কী করে। আমি তো সরকার না। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য আমি করতে পারি না। আইনগতভাবে নানা গোলমাল আছে। ’ রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আলোচিত এ মামলায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি অবশ্য সাংবাদিকদের বলেছেন, দণ্ড হলেও মন্ত্রিত্বে কোনো বাধা নেই। বিপরীতে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কেবিনেটে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো সদস্য রাখবেন কি না এটা তাঁর বিষয়। তবে দুই মন্ত্রীর উচিত পদত্যাগ করা। না হলে প্রধানমন্ত্রীকেই তাঁদের পদত্যাগে বাধ্য করা উচিত।

জেড আই খান পান্না আরো বলেন, ‘এখন সরকারই ভালো বলতে পারবে—এই দুই মন্ত্রীকে তারা সরকারে রাখবে, না পরিবর্তন করবে। তবে আদালত তাঁদের মন্ত্রিত্ব চলে যাবে বা মন্ত্রিত্ব থাকবে, তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এ জন্য আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। ’

আলোচনার একপর্যায়ে ড. সা’দত হুসাইন বলেন, “আমি তো প্রশাসনে অনেক বছর কাজ করেছি। এমন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। হয়তো আইনে এ দুজনের মন্ত্রিত্ব থাকায় কোনো বাধা নেই। তবে সরকার তাঁদের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই নেবে।

সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ বিচারপ্রার্থীকে রায় রিভিউ করার অধিকার দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সংসদের যেকোনো আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে এবং আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রণীত যেকোনো বিধি সাপেক্ষে আপিল বিভাগের কোনো ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা উক্ত (আপিল) বিভাগের থাকিবে। ’ আইনজীবীরা বলেছেন, রিভিউ আবেদন যে কেউ করতে পারেন। তবে সেই রিভিউ যুক্তিগ্রাহ্য কি না তা বিবেচনার এখতিয়ার একমাত্র আদালতের। কারণ রিভিউয়ে পূর্ববর্তী রায়ের এমন কোনো বিচ্যুতি দেখাতে হবে, যাতে বিচারপ্রার্থী অবিচারের সম্মুখীন হয়েছেন। ”


মন্তব্য