kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

ম্যাক্সিম গোর্কি

বিশ্বসাহিত্যে কালজয়ী নাম ম্যাক্সিম গোর্কি। ‘গোর্কি’ তাঁর ছদ্মনাম।

অর্থ তেতো, লেখক নিজেই তাঁর এই ছদ্মনাম রাখেন। তাঁর আসল নাম অ্যালেক্সি ম্যাক্সিসোভিচ পেশকভ। তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে ‘সোশ্যাল রিয়ালিজম’ নামে যে সাহিত্য ধারার সূচনা হয়েছিল তার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গোর্কি।

ম্যাক্সিম গোর্কি ১৮৬৮ সালের ২৮ মার্চ রাশিয়ার নিঝনি নভোগর্ডে জন্মগ্রহণ করেন। কৈশোরেই তাঁর মা-বাবা মারা যান। ১২ বছর বয়স থেকে তিনি দাদির আশ্রয়ে বেড়ে ওঠেন। পরে দাদির মৃত্যু হলে গোর্কি এতটাই হতবিহ্বল হয়ে পড়েন যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে একটানা পাঁচ বছর হেঁটে তিনি রুশ সাম্রাজ্য ঘুরে বেড়ান। ভবঘুরে গোর্কিকে জোর করে পড়ায় আগ্রহী করেন সমুদ্র অভিযাত্রী ক্যাপ্টেন মিকাইল স্যামুইল।

কিন্তু পড়ার অর্থ জোগাড় করতে ব্যর্থ হন তিনি। হতাশ গোর্কি নানা কাজ করে একসময় সাংবাদিকতা শুরু করেন। তখনই সিদ্ধান্ত নেন লেখক হবেন। জারশাসিত শাসনব্যবস্থার সরাসরি বিরোধী ছিলেন তিনি। ১৯০২ সালে লেনিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর। অনেক বিদ্রোহে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী গোর্কি ছিলেন লেনিনের আজীবন বন্ধু। ১৯০০ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত গোর্কির লেখায় আশাবাদের ব্যঞ্জনা উদ্ভাসিত হয়েছে। ১৯০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান গোর্কি। সেখানে বসেই রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘মা’। ১৯০৬ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত গোর্কি ছিলেন ক্যাপ্রিতে। ১৯১৩ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তিনি রাশিয়ায় ফিরে আসেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গোর্কির ঘর বলশেভিকদের অফিসঘর হয়ে উঠেছিল। রুশ বিপ্লবের পর গোর্কি কিছুদিন ইতালিতে ছিলেন। ১৯৩২ সালে স্তালিনের আহ্বানে গোর্কি আবার রাশিয়ায় ফিরে আসেন। তাঁকে ‘অর্ডার অব লেনিন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। গোর্কির প্রথম বই ‘এসেজ অ্যান্ড স্টোরিজ’ ১৮৯৮ সালে প্রকাশিত হয়। এরপর একে একে উপন্যাস ‘ফোমা গর্দেয়েভ’, নাটক ‘চিলড্রেন অব সান’, ‘দ্য লোয়ার ডেপথ’ ইত্যাদি বই প্রকাশিত হয়। ১৯৩৬ সালের ১৮ জুন সাধারণ মানুষের অসাধারণ লেখক ম্যাক্সিম গোর্কি মৃত্যুবরণ করেন।


মন্তব্য