kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

পুণ্যের প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পুণ্যের প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে

২৬. যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম বস্তু (জান্নাত) এবং আরো অধিক কিছু। মলিনতা ও অপমান তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে না, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৬)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, আল্লাহ মানুষকে জান্নাতের পথে আহ্বান করেন। সে ধারাবাহিকতায় আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, যারা ভালো কাজ করে, আল্লাহর নির্দেশমতো জীবন যাপন করে, তারাই জান্নাতের অধিকারী হবে। যে ব্যক্তি ভালো কাজ করে, সে পরকালে উত্তম প্রতিদান পাবে। কেননা পুণ্যের বিনিময় পুণ্যই হয়। বরং পরকালে ভালো কাজের প্রতিদান আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে। যে একটি ভালো কাজ করবে, সে কমপক্ষে দশ গুণ, এমনকি সাত শ গুণ বেশি সওয়াব ও প্রতিদান লাভ করবে। জান্নাতের সব নিয়ামতের পাশাপাশি সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবে। জান্নাতে কোনো বাসনা অপূর্ণ থাকবে না। অতৃপ্তির কোনো ক্ষেত্র সেখানে তৈরি হবে না। দুঃখ-বেদনা সেখানে থাকবে না। তাই কারো চেহারা সেখানে মলিন হবে না। কেউ কোনো কারণে অপমান বোধ করবে না।

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাছির (রহ.) লিখেছেন, আলোচ্য আয়াতে যে ‘অধিক প্রতিদান’ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, এর ব্যাখ্যায় আগের-পরের অনেক মনীষী আল্লাহর দিদার বা সাক্ষাৎ লাভের কথা বলেছেন। সেসব মনীষী হলেন হজরত আবু বকর (রা.), হুজাইফা বিন ইয়ামান (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), সাইদ ইবনে মুসাইয়াব (রা.), আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রা.), আবদুর রহমান ইবনে সাবিত (রা.), মুজাহিদ (রহ.), ইকরামা (রহ.), ইবনে সাদ (রহ.), আতা (রহ.), জাহহাক (রহ.), হাসান (রহ.), কাতাদা (রহ.), সুদ্দি (রহ.), মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (রহ.) প্রমুখ। তাঁদের মতের সমর্থনে অনেক হাদিসও পাওয়া যায়। সুতরাং আলোচ্য আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, জান্নাতবাসী জান্নাতে গিয়ে আল্লাহর দিদার ও সাক্ষাৎ লাভ করবে।

আল্লাহ তাআলাকে দেখা কি সম্ভব? এর জবাব হলো, দুনিয়ার জগতে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। এ কারণে হজরত মুসা (আ.) যখন ‘হে আমার প্রতিপালক, আমাকে দেখা দাও’ বলে আল্লাহকে দেখতে চেয়েছেন, তখন উত্তরে বলা হয়েছিল : ‘তুমি কখনোই আমাকে দেখতে পারবে না। ’ হজরত মুসা (আ.) নবী হয়ে যখন এ উত্তর পেয়েছিলেন তখন কোনো জিন ও মানুষের পক্ষে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। তবে এসব কথা দুনিয়ার জীবনের জন্য প্রযোজ্য। পরকালে মুমিনরা আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করবেন—এ কথা কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কেয়ামতের দিন অনেক মুখমণ্ডল সজীব ও প্রফুল্ল হবে। তারা নিজ পালনকর্তাকে দেখতে থাকবে। ’ (সুরা : কিয়ামা, আয়াত : ২২-২৩)

কাফির ও অবিশ্বাসীরা সেদিনও শাস্তি হিসেবে আল্লাহকে দেখার গৌরব থেকে বঞ্চিত থাকবে। আল্লাহ বলেন, ‘কাফিররা সেদিন নিজ পালনকর্তার সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত হবে (আড়ালে থাকবে)। ’ (সুরা : মুতাফিফফিন, আয়াত : ১৫)

হাদিস শরিফে এসেছে : “যখন জান্নাতবাসী জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জাহান্নামবাসী জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন একজন ঘোষক ঘোষণা দেবেন, ‘হে জান্নাতবাসীরা! আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন, তিনি তা পূরণ করতে চান। ’ তখন জান্নাতবাসীরা বলবে, ‘সেই ওয়াদা কী? আমাদের (পুণ্যের) ওজন ভারী করা হয়েছে। আমাদের চেহারা উজ্জ্বল করা হয়েছে। আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে—আর কী চাই?’ এ সময় তাদের ওপর থেকে পর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে। তারা আল্লাহকে দেখতে পাবে। আল্লাহর শপথ—জান্নাতবাসীদের জন্য এর চেয়ে বড় প্রতিদান আর কিছুই হবে না। ” (মুসলিম ও আহমদ)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য