kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন আইনজীবী, সমাজকর্মী, রাজনীতিবিদ। ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইলে জন্ম। বাবা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার। ধীরেন্দ্রনাথ নবীনগর হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা ও কলকাতা রিপন কলেজ থেকে বিএ ও বিএল পাস করেন। কিছুদিন শিক্ষকতা করে ১৯১১ সালে কুমিল্লা বারের মাধ্যমে আইন পেশায় আসেন। ত্রিপুরা হিতসাধনী সভার সেক্রেটারি ছিলেন। গান্ধীর আদর্শে তিনি ‘মুক্তি সংঘ’ নামে সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। তিনি ১৯৩৬ সালে ত্রিপুরা (বর্তমানে কুমিল্লা) জেলা বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি ও ব্যারিস্টার আবদুর রসুলের আদর্শে প্রাণিত হয়ে তিনি ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯১৯ সালে ময়মনসিংহ শহরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসেও যোগ দিয়েছিলেন। বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন, বঙ্গীয় কৃষিঋণ গ্রহীতা এবং মহাজনি আইন পাসের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। ব্রিটিশ সরকার বেশ কয়েকবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধান রচনার জন্য পূর্ববঙ্গ থেকে তিনি পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালের ২৫ আগস্ট পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে সব কার্যবিবরণীতে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাও অন্তর্ভুক্ত রাখার দাবি তোলেন তিনি। ১৯৫৪ সালের জুন মাসে পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে গভর্নরের শাসন প্রবর্তনের বিরুদ্ধে ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ধীরেন্দ্রনাথকে গ্রেপ্তার করে ময়নামতি সেনানিবাসে নিয়ে যায়। আর তাঁর ফেরা হয়নি। কুমিল্লা শহরে তাঁর বাসভবনের সামনের রাস্তাটির নামকরণ হয়েছে ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সড়ক’।

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য