kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন

২৫. আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরলপথে পরিচালিত করেন। [সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৫ (শেষাংশ)]

 

তাফসির : এই আয়াতের প্রথম অংশে বলা হয়েছিল, আল্লাহ মানুষকে শান্তির পথে আহ্বান করেন। শান্তির পথে আসা মানেই হেদায়েতের পথে আসা। কিন্তু নিজ ক্ষমতা, শক্তি ও অর্থবলে হেদায়েত পাওয়া যায় না। হেদায়েত আল্লাহর বিশেষ দান। যারা হেদায়েতের পথে চলতে চায়, আল্লাহ তাদের জন্য হেদায়েতের পথে চলা সহজ করে দেন। আল্লাহর হেদায়েতের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে নবী-রাসুলদের মাধ্যমে। নবীরা মানুষকে হেদায়েতের পথে ডাকেন, আর আল্লাহ মানুষকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করেন।

ইমাম রাগেব ইস্পাহানি (রহ.) তাঁর ‘মুফরদাতুল কোরআন’ গ্রন্থে হেদায়েত শব্দের খুব সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য মতে হেদায়েত হলো, ‘কাউকে গন্তব্যস্থানের দিকে অনুগ্রহের সঙ্গে পথ প্রদর্শন করা। ’ তাই ‘হেদায়েত করা’ প্রকৃত অর্থে একমাত্র আল্লাহ তাআলারই কাজ।

তবে এটা সত্য যে হেদায়েতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। হেদায়েতের একটি স্তর হচ্ছে সাধারণ ও ব্যাপক। গোটা সৃষ্টিজগৎ এর অন্তর্ভুক্ত। জড়পদার্থ, উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ এর আওতাধীন। সেটি এই যে নিজ নিজ পরিমণ্ডলে প্রতিটি বস্তুর বুদ্ধি-বিবেচনা রয়েছে। এটাও এক ধরনের হেদায়েত; যদিও বুদ্ধি ও অনুভূতির তারতম্য রয়েছে। যেসব বস্তুতে তা অতি অল্পমাত্রায় বিদ্যমান, সেগুলোকে প্রাণহীন বা অনুভূতিহীন বলা যায়। অনুভূতির ক্ষেত্রে এ তারতম্যের কারণেই গোটা সৃষ্টিজগতের মধ্যে একমাত্র মানুষ ও জিন জাতির জন্য শরিয়তের বিধান পালন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারণ সৃষ্টির এ দুই স্তরের মধ্যেই বুদ্ধি ও অনুভূতি পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হয়েছে। তাই বলে এ কথা বলা যাবে না যে একমাত্র মানুষ ও জিন জাতি ছাড়া সৃষ্টির অন্য কোনো কিছুর মধ্যে বুদ্ধি ও অনুভূতির অস্তিত্ব নেই।

হেদায়েতের দ্বিতীয় স্তর সেসব বস্তুর সঙ্গে জড়িত, যাদের বিবেকবান ও বুদ্ধিসম্পন্ন বলা হয়। অর্থাৎ মানুষ ও জিন জাতি। এই হেদায়েত নবী-রাসুল ও আসমানি কিতাবের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে। কেউ হেদায়েত গ্রহণ করে মুমিন হয়েছে, আবার কেউ একে প্রত্যাখ্যান করে কাফির হয়েছে।

হেদায়েতের তৃতীয় স্তর আরো বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। তা শুধু মুমিন ও ধর্মভীরুদের জন্য। এই হেদায়েত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই মানুষকে প্রদান করা হয়। এর নামই তাওফিক। অর্থাৎ এমন অবস্থা, পরিবেশ ও মনোভাব সৃষ্টি করে দেওয়া, যার ফলে ধর্মের নির্দেশনা মোতাবেক আমল করা সহজ হয়।

হেদায়েতের উল্লিখিত ব্যাখ্যার আলোকে এ সন্দেহের মীমাংসা হয়ে যায় যে কোরআনের বিভিন্ন স্থানে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ জালিম ও পাপাচারীদের হেদায়েত দান করেন না। ’ অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি সবাইকে হেদায়েত দান করেন। ’ এর জবাব হলো, হেদায়েতের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। ব্যাপক অর্থে দুনিয়ার সব কিছু হেদায়েতপ্রাপ্ত, আর বিশেষ অর্থে জালিম ও পাপীরা হেদায়েতপ্রাপ্ত নয়।

হেদায়েতের তিনটি স্তরের মধ্যে প্রথম ও তৃতীয় স্তর সরাসরি আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। নবী-রাসুলদের কাজ শুধু হেদায়েতের দ্বিতীয় স্তরে সীমিত। কোরআনের যেখানে যেখানে নবী-রাসুলদের হেদায়েতকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা হেদায়েতের দ্বিতীয় স্তরের ভিত্তিতেই বলা হয়েছে। (মা’আরেফুল কোরআন)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য