kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী

২৪. (ফসলি জমিনে হঠাৎ) রাতে বা দিনে আমার নির্দেশ এসে পড়ে। তারপর আমি তা এমনভাবে নির্মূল করে দিই, যেন গতকালও তার অস্তিত্ব ছিল না। এভাবে আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি বিশদভাবে বর্ণনা করি। [সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৪ (শেষাংশ)]

তাফসির : এই আয়াতের প্রথম অংশে সুন্দর উপমার সাহায্যে পার্থিব জীবনের সুখ-শান্তি, আত্মতৃপ্তি, দম্ভ ও অহংকারের ক্ষণস্থায়িত্ব বর্ণনা করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, বৃষ্টির পানি শুষ্ক ধরণিকে সিক্ত করে ধরণিকে ফুল, ফল ও ফসলে ভরে দেয়। এটা দেখে ফসলের মালিকের মনে অহংবোধ জেগে ওঠে। যেন এসব তারই ‘সৃষ্টি’। সে ভুলে যায়, সুরম্য অট্টালিকা, শোভিত জনপদ, মনোরম উদ্যান, ফসলের ক্ষেত সবই মহান আল্লাহর দান। আল্লাহর ক্ষমতার কাছে এগুলো খুবই ক্ষণস্থায়ী। আল্লাহর শক্তির কাছে মানুষের শক্তি, সামর্থ্য খুবই অকিঞ্চিত্কর ও নগণ্য। তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ পৌরাণিক সভ্যতা ও জনপদ, যা এখন কেবল ঐতিহাসিকদের গবেষণার বিষয়।

দুনিয়ার জীবন দেখতে খুবই সুন্দর। মানুষ সে সৌন্দর্য হূদয় দিয়ে অবলোকন করে। এতে অনাবিল আনন্দে মন ভরে যায়। হঠাৎ সুন্দর জীবন তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তখন অন্যদের হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দুনিয়ার জীবনকে জমিনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। জমিনে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন বৃষ্টির পানি বীজের সঙ্গে মিশে খুব সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন ফসল উত্পন্ন হয়। ফসলের অপরূপ সৌন্দর্য দর্শকের দৃষ্টিকে ভরে দেয় অনাবিল আনন্দে। তখন সে ধারণা করতে শুরু করে যে সে নিজেই ফসল উত্পাদন করতে সক্ষম। যেন সে নিজেই এ ফসলের মালিক ও নিয়ন্ত্রক। হঠাৎ আল্লাহর নির্দেশ এসে যায়। তাতে আক্রান্ত হয় জমিনের ফসল। তখন চাষির ধারণা ও বিশ্বাস বদলে যায়। তার হাত একদম খালি হয়ে যায়। দুনিয়ার জীবনের অবস্থা এর ব্যতিক্রম নয়। যারা দুনিয়ার জীবন আঁকড়ে ধরে তারা কি চিরদিন এখানে থাকতে পারে? দুনিয়ার এ দৃষ্টান্ত আল্লাহর দেওয়া। এটি দুনিয়ার জীবনের সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত।

মুমিন ব্যক্তি দুনিয়ায় যা ইচ্ছা তা করতে পারে না। তাকে নিয়মকানুন ও বিধিবিধান মেনে চলতে হয়। পক্ষান্তরে অবিশ্বাসীদের বিধিবিধান কিংবা নিয়মকানুনের পাবন্দি করতে হয় না। তারা যখন যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে। এ কারণেই হাদিস শরিফে দুনিয়াকে মুমিনদের জন্য ‘জেলখানা’ বলা হয়েছে আর কাফিরদের জন্য ‘জান্নাত’ বলা হয়েছে। মুমিনরা দুনিয়ায় নিজের জীবন উত্তমরূপে গঠন করে আর অবিশ্বাসীরা দুনিয়ায় জীবন উপভোগ করে। মুমিনরা সুখময় জীবন উপভোগ করবে পরকালে—জান্নাতে। হাদিস শরিফে এসেছে : “(কেয়ামতের দিন) দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি বিলাসী (সুখপ্রাপ্ত) ব্যক্তিকে ডাকা হবে, তারপর তাকে জাহান্নামের আগুনে (কিছু সময়ের জন্য) ডুবিয়ে দেওয়া (নিক্ষেপ করা) হবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, ‘জীবনে কি কখনো সুখ দেখেছ? কোনো সুখী মানুষ কি কখনো তোমার পাশ দিয়ে গিয়েছিল?’ সে বলবে, ‘না (আমি কখনো সুখ ও সুখী মানুষের দেখা পাইনি)। ’ তারপর দুনিয়ার সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে ডাকা হবে। তাকে জান্নাতের অনাবিল সুখ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, ‘জীবনে কখনো দুঃখ-বেদনা দেখেছ কি?’ সে বলবে, ‘না (আমার জীবনে দুঃখ বলতে কিছুই ছিল না)। ’ (মুসলিম, নাসায়ি, আহমদ ও ইবনে মাজা)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য