kalerkantho


‘মানুষ কিছু প্রশ্নের উত্তর চায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘মানুষ কিছু প্রশ্নের উত্তর চায়’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় অর্থমন্ত্রী যদি নিজে দায় স্বীকার করে পদত্যাগও করেন, এর পরও তিনি দায়মুক্তি পাবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ইতিমধ্যে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন।

ডেপুটি গভর্নরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের সচিবকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার পালা অর্থমন্ত্রীর। এমন মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মাহফুজ উল্লাহ। তিনি বলেন, এরই মধ্যে মন্ত্রী একটি জাতীয় দৈনিকে সাক্ষাত্কার দিয়ে অনেক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। এ ছাড়া বয়সের ভারে একজন মন্ত্রী যখন নিজেই তাঁর দুর্বলতার বিষয়টি স্বীকার করেন তখন তাঁর অবস্থান নিয়ে মানুষের মধ্যে একটি আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়। তাই সাধারণ মানুষেরও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব পাওয়া উচিত। মানুষ যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের অত বড় ঘটনার বিষয়ে অন্ধকারে থাকে, তবে আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর তারা আস্থা হারাতে পারে। মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো প্রাণ ফ্রুটো নিউজ অ্যান্ড ভিউজ অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক সাংবাদিক শ্যামল দত্ত।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, বাংলাদেশ ব্যাংকের এত বড় একটি ঘটনা ঘটে গেল। এর প্রকৃত রহস্য মানুষ জানতে চায়। মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রকৃত দোষীরা কি বেরিয়ে আসবে? তাদের কি আইনের আওতায় আনা যাবে? এ ঘটনা নিয়ে কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

জবাবে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, সরকারের এখন উচিত হবে সুষ্ঠু তদন্ত করে এর মূল হোতাদের খুঁজে বের করা। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন ঘটনায় দেশবাসীর মন খুব ভালো নেই। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সমাজসচেতন মানুষ সবাই চাচ্ছে কারা কিভাবে এ ঘটনা ঘটাল, তা সরকার যেন খুঁজে বের করে। সরকার হয়তো এ বিষয়ে তেমন কোনো ছাড় দেবে না। এর পরও সরকারের কাছে প্রত্যাশা হলো, সরকার যেন তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনে এবং ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে।

আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আইটি বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ফায়ারআইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এতে জানা গেছে, ম্যালওয়্যার হিসেবে একটি বিশেষ প্রোগ্রাম ব্যবহার করেছে হ্যাকাররা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) নিরাপত্তাব্যবস্থায় যেসব প্রতিরোধক বা ফায়ারওয়াল ছিল সেগুলোকে ভাঙতে এ ম্যালওয়্যার তৈরি করা হয়। সম্প্রতি সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব বা অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত এমন ৩২টি কম্পিউটারে অত্যাধুনিক ম্যালওয়্যারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। এসব কম্পিউটারের যেকোনো একটিকে ব্যবহার করে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক-সুইফটে ঢুকে এ কাজ করা হয়। আর এ কাজ করেছে তৃতীয় একটি পক্ষ।

জবাবে শ্যামল দত্ত বলেন, যারা যেভাবেই কাজটি করুক না কেন, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা উচিত। না হয় ভবিষ্যতে এসব অপরাধ কমিয়ে আনা যাবে না। তাদের কঠিন শাস্তির বিধান করতে হবে।

এ পর্যায়ে সঞ্চালক বলেন, সম্প্রতি সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে কার্গো জাহাজডুবির ঘটনায় অনেক সমালোচনা হচ্ছে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনার পর সরকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

শ্যামল দত্ত বলেন, গত দুই বছরের মধ্যে সুন্দরবন অঞ্চলে এ ধরনের দুর্ঘটনা চতুর্থবারের মতো ঘটল। এর আগে পশুর নদীতে কয়লাবাহী জাহাজ, ভোলা নদীতে সারবাহী জাহাজ ও শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে যায়। কিন্তু কখনোই প্রশাসনকে যথাযথ ভূমিকা পালনে তত্পর দেখা যায়নি। উদ্ধারকাজে ধীরগতি এবং ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।


মন্তব্য