kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

দুনিয়ার জীবনের উদাহরণ

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দুনিয়ার জীবনের উদাহরণ

২৪. পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত বৃষ্টির মতো, যা আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি, অতঃপর তা দিয়ে জমিনের উদ্ভিদ উত্পন্ন হয়, আর মানুষ ও জীবজন্তু তা আহার করে থাকে। তারপর জমিন যখন শোভা ধারণ করে ও নয়নাভিরাম হয় এবং এর (জমিনের) মালিকরা মনে করে এসব তাদের আয়ত্তাধীন, তখন রাতে বা দিনে আমার নির্দেশ এসে পড়ে।

তারপর আমি তা এমনভাবে নির্মূল করে দিই, যেন গতকালও তার অস্তিত্ব ছিল না। [সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৪ (প্রথমাংশ)]

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মানুষ যে অন্যায়-অনাচার করে, তার প্রতিফল তাকে ভোগ করতে হয়। মানুষ কেন জুলুম করে? কেন অপরাধ করে বেড়ায়? এর কারণ হলো—দুনিয়ার প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা। বৈষয়িক খ্যাতি ও উন্নতি করাই যখন জীবনের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন মানুষ ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে পারে না। হালাল-হারামের সীমারেখা অনুসরণ করতে পারে না। তখন সে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই আলোচ্য আয়াতে দুনিয়ার জীবনের হাকিকত বা বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। আয়াতের মূল কথা হলো, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। খুব সীমিত সময়ের জন্য মানুষ এই দুনিয়ায় এসেছে। বিষয়টি বোঝাতে আল্লাহ এখানে একটি উপমা ব্যবহার করেছেন। উপমাটি একেবারেই জীবনঘটিত। যেকোনো ব্যক্তির পক্ষে তা অনুধাবন করা সহজ। এখানে বলা হয়েছে, আকাশ থেকে বৃষ্টি নামার পর মাটি সতেজ হয়ে ওঠে। শস্য ও গাছপালায় চারদিক সবুজে-শ্যামলে ছেয়ে যায়। নৈসর্গের নয়নাভিরাম দৃশ্যে মন ভরে যায়। ঘরে ফসল তোলার স্বপ্নে চাষির মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কিন্তু হঠাৎ অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে। ভূমিকম্প, বন্যা বা ঝড়-তুফান মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু এলোমেলো করে দেয়। ফসলি জমি বিরান ভূমিতে পরিণত হয়। অবিনাশী তুফান ঘর-দরজা উড়িয়ে নিয়ে যায়। মনে হয়, এর আগে কেউ এখানে চাষাবাদ করেনি। কেউ এই এলাকায় বসবাস করেনি। দুনিয়ার জীবনও এমন ক্ষণস্থায়ী। দ্রুত তা ফুরিয়ে যায়। খুব তাড়াতাড়ি তা হারিয়ে যায়। দুনিয়ার সব কিছুরই ক্ষয় আছে, লয় আছে। নেই স্থায়িত্ব, নেই স্থিতিশীলতা। তাই দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ে পড়া উচিত নয়। এ জীবনের বাইরেও আরেকটি জীবন আছে। সে জীবন হলো পরকালের জীবন। সে জীবন চিরস্থায়ী। মানুষের উচিত চিরস্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

এখানে যে উপমা ব্যবহার করে দুনিয়ার অস্থায়িত্ব বোঝানো হয়েছে, পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে আরো কয়েকটি আয়াত আছে। এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, দুনিয়ার জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক গর্ববোধ, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর উপমা হলো বৃষ্টি, যা দিয়ে উত্পন্ন শস্য-সম্ভার কৃষকদের মুগ্ধ করে। তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি তা হলুদ রঙের (ফ্যাকাসে) দেখতে পাও। অবশেষে তা খড়কুটায় পরিণত হয়। ’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২০)

অন্য আয়াতে এসেছে : ‘তাদের কাছে দুনিয়ার জীবনের উপমা তুলে ধরো, এটা পানির মতো, যা আমি বর্ষণ করি আকাশ থেকে। এর মাধ্যমে জমিনে ফসল উত্পন্ন হয়। তারপর তা শুকিয়ে যায়। বাতাস তা উড়িয়ে নিয়ে যায়। আল্লাহ সব বিষয়ে ক্ষমতাবান। ’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৪৫)

দুনিয়ার জীবনের পরিব্যাপ্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন তারা তা (কিয়ামত) প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে পৃথিবীতে তারা যেন মাত্র এক সন্ধ্যা বা এক সকাল অবস্থান করেছিল। ’ (সুরা : নাজিআত, আয়াত : ৪৬)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য