kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নজিরবিহীন নির্বাচন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নজিরবিহীন নির্বাচন’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন অনুষ্ঠান ও প্রার্থীদের বিজয় লাভ করাকে একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. শাহদীন মালিক। তিনি বলেছেন, ‘আগে জানতাম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ ধরনের অবস্থা হয় যে ভালো প্রার্থী না পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন দু-একজনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে। এখন দেখছি তারা তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করা শুরু করেছে। এমনটা চলতে থাকলে দেশে নির্বাচনের সেই ইমেজ আর থাকবে না। এই বছরই শুরু হলো দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন। এখন যদি নির্বাচন কমিশন বিতর্কিত হয়ে যায় বা তারা তাদের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে না পারে তবে নির্বাচন কমিশন আবারও সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে। এটা কোনোভাবেই আমাদের গণতন্ত্রের জন্য ভালো উদাহরণ হবে না। আমরা চাই অতীতে যা-ই হয়ে থাকুক, এই তৃণমূলের নির্বাচনের পর যেন সাধারণ মানুষ নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারে। ’

সোমবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আইয়ের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো গ্রামীণফোন আজকের সংবাদপত্রে আলোচনা করতে গিয়ে ড. শাহদীন মালিক এ কথা বলেন। আলোচনার শুরুতে অনুষ্ঠান সঞ্চালক সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, রাত পোহালেই দেশের সাত শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। অনেক আগে থেকেই আমরা এই নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে সংঘর্ষ ও মারপিটের ঘটনা শুনছি। তাই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জবাবে শাহদীন মালিক বলেন, যেই সরকার ক্ষমতায় থাকবে তাদের প্রার্থীরা একটু বেশি সুযোগ নিতে চাইবে—এটা হয়তো স্বাভাবিক। তাই বলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে জয়লাভ ইউনিয়ন পরিষদের ইতিহাসে কোনো দিন ঘটেছে বলে মনে হয় না। আর আপনি বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না। আজকেই তো প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমরা নির্বাচনী সহিংসতা কমিয়ে আনতে পারছি না। কারণ অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছি না। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সোমবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন তিনি। সিইসি বলেছেন, নির্বাচনের সময় আমরা অন্য ডিপার্টমেন্টের ওপর নির্ভর করি। অন্য ডিপার্টমেন্টের লোকজনকে আমাদের রিটার্নিং অফিসারও করতে হয়েছে। তাদের আমরা খুব অল্প সময়ের জন্য ট্রেনিং দিই। তাদের ওপর আমাদের তেমন কর্তৃত্বও নেই। সে জন্য কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা কিংবা যে মাপের সেবা চাই তা পাই না। এ জন্য এসব ঘটনা ঘটছে। ’

এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ৬৮০টি নির্বাচনী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচনের পরের দিন বুধবার সকাল পর্যন্ত বিজিবি মাঠে থাকবে। নির্বাচনে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি কাজ করবে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিজিবি মোতায়েনের কথা ছিল না। তাই প্রথমে ৬০৮টি ইউপি নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে ভোলা, বরগুনাসহ বেশ কিছু উপকূলীয় এলাকায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়। সরকার তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট  পরিমাণে মোতায়েন করছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তার পরও যদি সংঘর্ষ হয় তবে তার দায় কার?

ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি, পুলিশ বা র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারা কি বিরোধী প্রার্থীদের প্রটেকশন দিতে পারবে? তারা এলাকা ছেড়ে চলে এলে তো সেই আগের মতো অবস্থা হবে। যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, ভোট চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব করলে তাত্ক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তার পরও কি আপনার মনে হয় সব স্থানে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? আসলে এটা রাজনৈতিকভাবে না দেখে আগের মতোই নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে হওয়া উচিত ছিল। তাহলে হয়তো এত সমস্যা হতো না।


মন্তব্য