kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

মানবেন্দ্রনাথ রায়

ব্রিটিশ ভারতের বিপ্লবী, কমিউনিস্ট নেতা মানবেন্দ্রনাথ রায়ের আসল নাম নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক কারণে নানা ছদ্মনাম নিলেও বেশি পরিচিত এম এন রায় নামেই। ১৮৮৭ সালের ২২ মার্চ চব্বিশ পরগনার আড়বেলিয়াতে জন্ম। বাবা দীনবন্ধু ভট্টাচার্য ছিলেন স্কুল শিক্ষক। পড়ালেখা শুরু হরিণাভি ইংরেজি-সংস্কৃত বিদ্যালয়ে। ১৯০৫ সালে তিনি গোপন বিপ্লবী দলে যোগ দেন। প্রবেশিকা পাস করে ভর্তি হন যাদবপুর বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশনে। তিনি বাঘা যতীনের সহকর্মী হিসেবে গুপ্ত সংগঠনে কাজ করেন। রেলস্টেশনে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। প্রমাণ না থাকায় ছাড়া পান। ১৯১০ সালে হাওড়া ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হলেও প্রমাণ না থাকায় ফের ছাড়া পান। বিশ্ব যোগাযোগ বাড়াতে ১৯১৫ সালে যান বাটাভিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশ)। ফিরে হরি সিং নাম নিয়ে ফিলিপাইন ও মি. হোয়াইট নামে জাপান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে যান। আমেরিকায় তিনি মানবেন্দ্রনাথ রায় নাম ধারণ করেন। সেখানে তিনি মার্ক্সবাদে বিশ্বাসী হন এবং সোশ্যালিস্ট সংঘের প্রথম ভারতীয় সদস্য হন। সোশ্যালিস্ট পার্টি কমিউনিস্ট পার্টিতে রূপান্তরিত হলে ১৯২০ সালে তিনি মস্কোতে কমিনটানের কার্যকরী সমিতি ও প্রেসিডিয়ামের সভ্য নির্বাচিত হন। তাসখন্দে গঠিত ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সাত সদস্যের অন্যতম ছিলেন। ১৯২৪ সালে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হিসেবে চীন যান। পরে মতপার্থক্যের কারণে ১৯২৭ সালে চীন থেকে বহিষ্কার হন। ভারতে ফেরার পর ১৯৩১ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত কারাভোগ করেন। কারামুক্তির পর ভারতের শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে কংগ্রেসের ফৈজপুর অধিবেশনের সম্মানিত হন তিনি। ১৯৪০ সালে তিনি ‘র‌্যাডিক্যাল ডেমোক্রেটিক পিপলস পার্টি’ গঠন করেন। তবে জীবনের শেষভাগে তিনি ‘নিউ হিউম্যানিজম’ (নব মানবিকতাবাদ) নামের ভাবধারা প্রচার করেন। ১৯৩৭ সালে মুম্বাই থেকে বের করেন ‘ইনডিপেনডেন্ট ইন্ডিয়া’ পত্রিকা। পরে এটি র‌্যাডিক্যাল হিউম্যানিস্ট নামে প্রচারিত হয়। তাঁর বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৭। তিনি ১৯৫৪ সালের ২৫ জানুয়ারি মারা যান।

[বাংলা একাডেমির চরিতাভিধান অবলম্বনে]


মন্তব্য