kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

অবস্থান বদল মানবচরিত্রের বৈশিষ্ট্য

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অবস্থান বদল মানবচরিত্রের বৈশিষ্ট্য

২৩. অতঃপর যখন তিনি (আল্লাহ) তাদের বিপদমুক্ত করে দেন তখনই তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে জুলুম-অনাচার করতে থাকে। [সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৩ (প্রথমাংশ)]

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, বিপদে পড়লে মানুষ আল্লাহকে ডাকে।

আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, বিপদ চলে গেলে মানুষ আল্লাহকে ভুলে যায়। দ্রুত সে অবস্থান বদল করে। অবস্থান বদল মানবচরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যখন মানুষ বিপদে পড়ে তখন একরকম কথা বলে, আবার বিপদমুক্ত হলে তার আসল চরিত্র প্রকাশ পায়। মানুষের এই সুবিধাবাদী চরিত্র সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে অনেক আয়াত আছে। এখানে ১০টি আয়াত উল্লেখ করা হলো—এক. ‘সে (মানুষ) যখন বিপদে পড়ে তখন খুব হা-হুতাশ করে। আর যখন বিপদ কেটে যায় তখন কৃপণ হয়ে যায়। ’ (সুরা : মাআরিজ, আয়াত : ২০-২১)

দুই. ‘সমুদ্রের মাঝখানে যখন তোমরা বিপদে পড়ো তখন তোমরা (স্বাভাবিক অবস্থায়) আল্লাহ ছাড়া যাদের ডাকো তাদের ভুলে যাও। তারপর যখন আল্লাহ তোমাদের স্থলে (সৈকতে) এনে উদ্ধার করেন তখন তোমরা (আল্লাহর দিক থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও। ’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ৬৭)

তিন. ‘মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে শুয়ে-বসে-দাঁড়িয়ে আমাকে (আল্লাহকে) ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তার দুঃখ-দৈন্য দূর করে দিই তখন মানুষ এমন ভাব করে যেন সে আপতিত দুঃখকষ্টের জন্য কখনোই আমাকে ডাকেনি। ’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১২)

চার. “যদি দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর আমি তাকে সুখ ভোগ করাই, তখন সে বলতে থাকে, ‘আমার বিপদ দূর হয়ে গেছে। ’ তখন সে উত্ফুল্ল ও অহংকারী হয়ে যায়। ” (সুরা : হুদ, আয়াত : ১০)

পাঁচ. ‘যখন সমুদ্রের ঢেউ মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঢেকে ফেলে তখন মানুষ আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। কিন্তু যখন (আল্লাহ) তাদের সৈকতে ফিরিয়ে এনে উদ্ধার করেন তখন দেখা যায় (অধিকাংশ মানুষই অকৃতজ্ঞ) কোনো কোনো মানুষ সরলপথে থাকে। ’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ৩২)

 

ছয়. ‘মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। এরপর আল্লাহ যখন তাকে দয়া করেন তখন মানুষ ভুলে যায় যে বিপদে পড়ে সে এর আগে আল্লাহকে ডেকেছিল। ’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৮)

সাত. ‘মানুষকে বিপদাপদ স্পর্শ করলে সে আমাকে (আল্লাহকে) ডাকে। যখন আল্লাহর অনুগ্রহে কষ্ট থেকে মুক্তিলাভ করে তখন (মানুষ) বলতে থাকে, সে নিজের চেষ্টায়ই এ থেকে মুক্তিলাভ করেছে। ’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৪৯)

আট. “দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর যখন আমি তাকে দয়া করে সুখের স্বাদ দিই তখন মানুষ বলতে থাকে, ‘এটা তো আমার প্রাপ্যই ছিল। আমি তো মনে করি না কেয়ামত বলে কিছু আছে। ’...আবার যখন মানুষ বিপদাপদে, অমঙ্গলে পড়ে যায় তখন সে দীর্ঘ প্রার্থনায় বসে যায়। ” (সুরা : হা-মিম-সাজদা, আয়াত : ৫০-৫১)

নয়. ‘ওরা (মানুষ) যখন পানিপথে চলতে থাকে তখন পবিত্র মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। আর আমি (আল্লাহ) যখন তাদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিই তখন মানুষ শিরক করা শুরু করে। ’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৫)

দশ. “আল্লাহ যখন মানুষকে দয়া এবং সম্মানিত করেন তখন মানুষ বলে, ‘আমার প্রতিপালক আমাকে সম্মানিত করেছেন। ’ আর যখন আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য উপকরণ কমিয়ে দেন তখন মানুষ বলতে থাকে, ‘আল্লাহ আমাকে হেয় করে দিয়েছেন। ’” (সুরা : ফাজর, আয়াত : ১৫-১৬)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য