kalerkantho


‘বিএনপি এখন ভালো পথে হাঁটবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘বিএনপি এখন ভালো পথে হাঁটবে’

নতুন জাতীয় সম্মেলনের পর বিএনপি রাজনৈতিকভাবে ভালো পথে হাঁটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপপ্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। তিনি বলেন, ‘এত দিন বিএনপি তাদের ভুল রাজনীতির কারণে জনসমক্ষে আসতে পারছিল না।

তাদের আন্দোলনের সময় পেট্রলবোমার বিস্ফোরণে অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ভবিষ্যতে তারা যেন আর সে রকম রাজনীতি না করে—আমরা এই আশা করি। ’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি বলেছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। যদি এটাই তাদের শেষ কথা হয়, তাহলে ধরে নেওয়া হবে তাদের আগামী দিনেও নির্বাচনে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তার পরও সেটা সময়ই বলে দেবে। ’

শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো নিটল-টাটা আওয়ার ডেমোক্রেসি অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে অসীম কুমার এ কথা বলেন। সাংবাদিক সেলিম ওমরাও খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুস সবুর ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, বিএনপি এত দিন ঘর থেকে বের হতে পারছিল না। এখন তারা জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে আবার রাজনীতিতে ফিরবে এমন প্রত্যাশা তাদের নেতাকর্মীদের।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেশবাসী গভীরভাবে উপলব্ধি করছে যে প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে। এ অবস্থার অবসানকল্পে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

আলোচনার এ পর্যায়ে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের ভাষণে খালেদা জিয়া বলেছেন, রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সম্প্রদায়, প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পেশার জ্ঞানীগুণী ও মেধাবী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি আরো বলেছেন, আমাদের জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বাংলাদেশের সংবিধানে জনগণই সব ক্ষমতার মালিক। রেফারেন্ডাম বা গণভোট হচ্ছে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের সম্মতি গ্রহণের পন্থা। এটা নাগরিকদের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় প্রকাশের অধিকার। বর্তমান সরকার মুখে জনগণের কথা বললেও সংবিধান থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করে জনগণের সেই ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা সংবিধানে শহীদ জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত গণভোটের ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব। বিএনপি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাসী উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেছেন, সর্বস্তরে ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা সুচিহ্নিত করে সুশাসনের সহায়ক পরিবেশ কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন, দক্ষ সেবা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী, কার্যকর ও দক্ষ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ক্ষমতা ও উন্নয়নের ভরকেন্দ্র হবে গ্রামমুখী স্থানীয় সরকারের অনুকূলে সরকারি বরাদ্দের অপ্রতুলতা ও বৈষম্য নিরসনের জন্য জাতীয় বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ করা হবে। আইন দ্বারা গঠিত একটি স্বাধীন কমিশন সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বরাদ্দ অর্থ বণ্টনের ব্যবস্থা করবে। খালেদা জিয়া বলেছেন, বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না। দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি আইন ও পদ্ধতিগত সংস্কার এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি দুর্নীতি করবে না, কাউকে করতেও দেবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ন্যায়পালের পদ ও কার্যালয় সক্রিয় করা হবে। এভাবে খালেদা জিয়া এ সম্মেলনে রাজনৈতিক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ’

আলোচনার এ পর্যায়ে আবদুস সবুর বলেন, ‘জাতীয় পার্টিও বিএনপির এই কাউসিন্সলকে স্বাগত জানায়; তবে আগামী দিনে জাতীয় পার্টি এককভাবে ক্ষমতায় যেতে জনগণের সঙ্গে কাজ করছে। ’ তিনি বলেন, ‘আগামী এপ্রিলে জাতীয় পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও দেশের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। ’ তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৫০টি জেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ’


মন্তব্য