kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

খুশবন্ত সিং

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



খুশবন্ত সিং

উপমহাদেশের অন্যতম লেখক, সাংবাদিক-কলামিস্ট খুশবন্ত সিংয়ের জন্ম ১৯১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাবের হাদালিতে। হাদালি এখন পাকিস্তানের অংশ। খুশবন্ত সিংয়ের ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’ ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা এক কালজয়ী উপন্যাস। খুশবন্ত সিং সেন্ট স্টিফেনস কলেজ, দিল্লি ও লন্ডনের কিংস কলেজে পড়াশোনা করেন। লাহোর কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৫১ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে নিয়োগ পান। ১৯৫৬ সালে তিনি প্যারিসে ইউনেসকোর গণযোগাযোগ বিভাগে কাজ করেন। তিনি ছিলেন ‘যোজনা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। এ ছাড়া সত্তর ও আশির দশকে তিনি ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ ও ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেশ কিছু সাহিত্য সাময়িকীও সম্পাদনা করেন।

এগুলোর মধ্যে বিখ্যাত ছিল ‘ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অব ইন্ডিয়া’। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত খুশবন্ত সিং ভারতের লোকসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পদক ‘পদ্মভূষণ’ অর্জন করেন। কিন্তু অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানের প্রতিবাদে ১৯৮৪ সালে তিনি পদ্মভূষণ ফিরিয়ে দেন। ২০০৭ সালে আবারও ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পদক ‘পদ্মবিভূষণ’-এ সম্মানিত হন তিনি। সমাজের নানা অনাচার, অনিয়ম, বঞ্চনাকে তিনি হাস্যরস ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে উপস্থাপন করতেন। তাঁর রচনার মধ্যে আরো আছে ‘আই শ্যাল নট হিয়ার দ্য নাইটিঙ্গেল’, ‘দিল্লি’, ‘দ্য সানসেট ক্লাব’, ‘অ্যা হিস্টরি অব দ্য শিখস’ ইত্যাদি। এ ছাড়া ২০০২ সালে পেঙ্গুইন থেকে তাঁর আত্মজীবনী ‘ট্রুথ, লাভ অ্যান্ড এ লিটল ম্যালিস’ প্রকাশিত হয়। ২০১৪ সালের ২০ মার্চ ৯৯ বছর  বয়সে খুশবন্ত সিংহ নয়াদিল্লিতে মারা যান।


মন্তব্য